চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অনলাইনে গরু বিক্রি করছেন চাঁদপুরের খামারীরা

মোরশেদ আলম: কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে চাঁদপুরে গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্পে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন খামারীরা। ভালো দাম পাওয়ার আসায় গরুর যত্নের কমতি রাখছে না তারা।

এবছর করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় হাটে না তুলে অনলাইনে গরু বিক্রির দিকে ঝুঁকছেন অনেক খামারী। এতে ক্রেতাদের সাড়াও পাচ্ছেন ভালো।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

প্রাণী সম্পদ অফিস বলছে, জেলার খামারিরা দেশীয় পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজাকরণে সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও মনিটরিং করা হচ্ছে। আর জেলা প্রশাসন বলছে, করোনা মহামারির কারণে জনসাধারণের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে প্রশাসনও অনলাইনে গরু বেঁচাকেনায় উদ্বুদ্ধ করছে। তবে ঈদের বাজারে যেন বিদেশী গরু আমদানী না হয় সে দিকে খেয়াল রাখার দাবি খামারীদের।

কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করার কাজে ব্যস্ত চাঁদপুরের খামারীরা। শেষ সময়ে পশু যেন অসুস্থ হয়ে না যায় সেদিকে গুরুত্ব দিয়ে যত্মআত্তি করছে খামারে কর্মরত শ্রমিকরা। কাজ করতে করতে অনেক শ্রমিক গবাদি পশুর প্রাথমিক সমস্যাগুলো বুঝতে পেরে চিকিৎসা সেবাও দিতে পারেন। এছাড়াও শুধুমাত্র প্রাকৃতিক ও দেশীয় খাবারেই পশু মোটাতাজা করছেন বলে জানান তারা।

বিজ্ঞাপন

চাঁদপুরের খামারিরা প্রাকৃতিক খাদ্যের উপর বেশি নির্ভর করে। তারপরেও শ্রমিক খরচ, গো খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, ঘাস উৎপাদনে খরচ বেশি হওয়ায় পুষিয়ে উঠতে কষ্ট হয় তাদের। তবে ভারতীয় গরু যদি না আসে তবে লাভ হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন খামারীরা।

কোরবানি ঈদে জেলায় এবছরও গতবছরের সমপরিমাণ প্রায় ২২৫টি পশুরহাট বসবে বলে জানায় প্রাণিসম্পদ কার্যালয়। এসব হাট ও খামার মনিটরিং করতে সার্বক্ষণিক কাজ করছে প্রাণী সম্পদ বিভাগ। একথা জানান চাঁদপুরের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো: বখতিয়ার উদ্দীন।

করোনা সংক্রমণের কথা মাথায় রেখে এবছর জেলায় নয়টি অনলাইন প্লাটফর্ম এ গবাদি পশু বেচা কেনা বেশি হবে বলেও আশা করেন তারা।

চলমান লকডাউনে ইতোমধ্যে চাঁদপুরে কোরবানির হাটগুলোর ইজারা সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। তবে এখনো কোথাও হাট বসাতে দিচ্ছে না, তবে জেলা প্রশাসনের অনলাইন ফেইজে পশু ক্রয়-বিক্রয় করতে পারেন বলে জানান চাঁদপুর সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজ।

চাঁদপুর প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় তালিকাভুক্ত খামারী রয়েছে ৩ হাজার ২শ ৪০ জন। খামারগুলোতে গরু উৎপাদন হয়েছে ২৬ হাজার ৭শ ৯০টি। এবং ছাগল ভেড়া ও অন্যান্য পশু উৎপাদন হয়েছে ১৩ হাজার ৬শ ৫৪ টি। এছাড়া অতালিকাভুক্ত যেসব খামার আছে তাদের খামারে গরু উৎপাদন হয়েছে ৫১ হাজার ৮৯টি। ছাগল ভেড়া ও অন্যান্য পশু উৎপাদন হয়েছে ২৫ হাজার ৭শ ৩৫টি। গরু ছাগল ভেড়া ও অন্যান্য পশু মিলে মোট জেলায় কোরবানির জন্য গবাদি পশুর জোগান রয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৩শ ৬১ টি। যা চাহিদার তুলনায় ১ হাজার ৯৩টি কম।