চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: অনলাইনে কোরবানীর পশু বিক্রির উদ্যোগ নিন

করোনাভাইরাস মহামারির শুরু থেকে বিশ্বব্যাপী মানুষ যখন ঘরবন্দী, তখন থেকেই সব ধরনের যোগাযোগ বা কাজের জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে জরুরি মিটিংসহ সব কাজই হচ্ছে। এসব উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে জনসমাগম এড়িয়ে করোনাভাইরাস এর সংক্রমণ প্রতিরোধে। এমন প্রেক্ষাপটে গতানুগতিক প্রথায় কোরবানীর পশুর হাট বসানো হলে তা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন।

চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদনে জানা যায়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ বছর ঈদুল আযহায় রাজধানীসহ সারা দেশে কুরবানীর পশুরহাট বসবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। কিন্তু পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব হবে না বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। তাদের এ শঙ্কা অমূলক নয়। আমরা ইতোমধ্যে জনসাধারণের বেশিরভাগের অসচেতনতা লক্ষ্য করেছি। এজন্য সরকারের উচিত হবে অনলাইনে পশু বিক্রিতে উৎসাহিত করা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে এগিয়ে রয়েছে। এর ফলে দেশের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর পাশাপাশি অনেক অনলাইন প্রতিষ্ঠান, খামারিরা করোনা পরিস্থিতিতে অনলাইনে বেচাকেনা করতে পারবেন। এছাড়া ইতিপূর্বে অনলাইনে পশু বেচাকেনার অভিজ্ঞতাও ক্রেতা-বিক্রেতাদের রয়েছে। সুতরাং কোনভাবেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নেওয়া যাবে না।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অবশ্য বলছে, পশুর হাট কেন্দ্রিক আলাদা একটা চিন্তা করে তারা পরিকল্পনা করছেন। এ বিষয়ে তারা ভেবেচিন্তে যৌক্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করবে বলেই আমরা আশা করি।

আমরা মনে করি, করোনা সংক্রমণের হার যেভাবে বাড়ছে তাতে করে ঈদুল আযহার মধ্যে পশুর হাট বসানোটা খুবই চ্যালেঞ্জ হবে। পশুর হাটকে কেন্দ্র করে বিপুল একটা কর্মযজ্ঞ হয় ফলে এ জায়গায় সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া যেখানে পবিত্র হজে সৌদি ছাড়া অন্য কোনো দেশের মানুষ অংশ নিতে পারছে না, সেখানে কোরবানির পশুর হাট কিভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে করা যাবে সে ব্যাপারে সংশয় রয়েই যায়। এ বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের বিকল্প পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এজন্য এখন থেকেই যথাযথ পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।