চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অনলাইনে আদালত পরিচালনায় আইনজীবীরা দ্বিধাবিভক্ত

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশের সব আদালত দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় অনলাইনে এবং স্বল্প পরিসরে আদালত পরিচালনা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন আইনজীবীরা।

একপক্ষ চাইছেন, আদালত সীমিত পরিসরে ও অনলাইনভিত্তিক শুরু করা যেতে পারে। কিন্তু ভিন্নমত প্রকাশ করে অন্যপক্ষ বলছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এমন ঝুঁকি নেয়া ঠিক হবে না।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ১৪ জন আইনজীবী অতি জরুরি বিষয় শুনানির জন্য সীমিত পরিসরে এক বা অধিক বেঞ্চ গঠন করে অনলাইনভিত্তিক আদালত কার্যক্রম চালু করতে প্রধান বিচারপতির বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে ইমেইলের মাধ্যমে পাঠানো চিঠিতে, দেশের জনগনের মৌলিক অধিকার লংঘনের ঘটনায় কোনো প্রতিকারের পথ এই মুহূর্তে খোলা নেই উল্লেখ করে আদালত চালুর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

চিঠি পাঠানো আইনজীবীদের মধ্যে রয়েছেন; প্রশান্ত কুমার কর্মকার, মোহাম্মদ মশিউর রহমান, কাজী হেলাল উদ্দিন,খন্দকার নাজমুল আহসান, তানজিম আল ইসলাম, মো: এনামুল হক, নুরুল আলম, মো: ওবাইদুর রহমান তারেক, মুজিবুল হক ভুইয়া, মো: এ এইচ ইমাম হাসান, সাবেরা শিপ্রা, মনজুর এলাহী পরাগ, সৈয়দ আবদুল্লাহ আল মামুন খান এবং মমতাজ পারভীন।

এর আগে গত ১৮ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের দুইজন আইনজীবী অনলাইনের মাধ্যমে ও স্বল্প পরিসরে হাইকোর্টের এক বা একাধিক বেঞ্চ পরিচালনার জন্য প্রধান বিচারপতি বরাবর আবেদন করেছিলেন।

এছাড়াও ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর পক্ষে সোচ্চার হতে দেখা গেছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলকে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি এক ওয়েবিনারে সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন আইনজীবীর সাথে যুক্ত হয়ে হয়ে তিনি ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরেন।

এ আইনজীবী নেতা মঙ্গলবার চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের উদ্ভুত পরিস্থিতিতে আমি ভার্চুয়াল বা অনলাইনে সীমিত পরিসরে হলেও কোর্ট চালুর পক্ষে। এরই মধ্যে আমি প্রধান বিচারপতিকে ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর বিষয়ে অনুরোধ করেছি।’

তবে জাতির এই ক্রান্তিকালে অনলাইনে আদালত পরিচালনার বিপক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সোচ্চার হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের অনেক আইনজীবী।

অনলাইনে আদালত পরিচালনার তীব্র বিরোধীতা করে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী এক ফেসবুক পোস্ট দেন।

তাতে তিনি লিখেছেন, ‘‘অনলাইন ভিত্তিক সীমিত আদালত কার্যক্রম এর আবেদনের তীব্র বিরোধীতা করছি। সুপ্রিমকোর্ট সর্বস্তরের আইনজীবীদের পদভারে আবার মুখরিত হবে ইনশাআল্লাহ। গুটি কয়েক এলিট আইনজীবী ও এলিট বিচারপ্রার্থীর জন্য হাইকোর্ট, সুপ্রিমকোর্ট নয়। এই ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতিকে সর্বস্তরের আইনজীবীদের সুরক্ষা ও পেশার কল্যাণের জন্য ভুমিকা রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।’’

গত ১১ এপ্রিল স্বল্প পরিসরে আদালত পরিচালনার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘‘উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধান বিচারপতির সাথে আপিল বিভাগের বিচারপতিদের আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, স্বল্প পরিসরেও আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে আদালত প্রাঙ্গণে বিচারক, আইনজীবী, আদালতের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনজীবী সহকারীসহ মামলা সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও তদবির কারকগণের উপস্থিতি আবশ্যক।

তাই করোনাভাইরাস সংক্রমণজনিত উদ্ভুত পরিস্থিতির সংকটময় সময়ে আদালত প্রাঙ্গণে সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয় বিবেচনায় স্বল্প পরিসরেও আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করা সমীচীন হবে না।’’

করোনাভাইরাস ঠেকাতে সরকার ঘোষিত ছুটির সঙ্গে মিল রেখে দেশের সব আদালতেও ছুটি চলছে।