চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অঞ্জুকে রাখছে না বিসিবি, মেয়েদের কোচ হতে আগ্রহী অনেকেই

হেড কোচের দৌড়ে দেশি দুজন

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হতেই মেয়েদের জাতীয় দলের হেড কোচ অঞ্জু জৈনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সালমা-রুমানাদের জন্য নতুন কোচ খুঁজছে বোর্ড। মাসখানেকের মধ্যে নিয়োগ চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে আগাচ্ছে দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থাটি।

বিদেশি অভিজ্ঞ আটজন কোচের পাশাপাশি স্থানীয় দুই কোচ বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। বিসিবির কাছে বায়োডাটা পাঠিয়েছেন তারা। করোনা পরিস্থিতির কারণে সবধরনের ক্রিকেট বন্ধ থাকায় কিছুটা সময় নিয়েই দশজন থেকে হেড কোচ চূড়ান্ত করবে বিসিবি। দীর্ঘমেয়াদে নিয়োগের কথাই ভাবা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মেয়েদের দলের কোচের চাকরি পেতে অতীতে এত সাড়া পড়েনি। জাহানারা-রুমানারা এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর মেয়েদের ক্রিকেট নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে সবার। বিদেশি কোচদের মধ্যে যারা আবেদন করেছেন, তাদের প্রত্যেকেরই জাতীয় দলের হেড কোচ হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। অবশ্য দেশি দুই কোচ সম্পর্কে ধারণা দিতে সম্মত হননি কোনো সূত্রই।

বিজ্ঞাপন

মেয়েদের ক্রিকেটে শুরুর দিকে ছিলেন দেশি কোচরাই। আন্তর্জাতিক মঞ্চে টিম টাইগ্রেসের পথচলার শুরুর দিনগুলাতে কাজ করেছেন জাফরুল এহসান। ২০১৬ সালে আরেক অভিজ্ঞ কোচ সারোয়ার ইমরান কাজ করেছেন মেয়েদের সঙ্গে। তার আগে ২০১১ সালে একমাসের জন্য ফিল্ডিং কোচ হিসেবে কাজ করেছিলেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। তার অধীনে অল্পদিনেই অনেক উন্নতি করেছিল মেয়েরা।

বিজ্ঞাপন

ওয়ানডে দলের অধিনায়ক রুমানা আহমেদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বললেন, ‘দেশি-বিদেশি কোচের মধ্যে তেমন পার্থক্য দেখি না। একেকজন কোচ একেক থিওরি নিয়ে কাজ করেন। দেশি কোচ হলে যেটা হয় তারা আমাদের বোঝেন। আমাদের সক্ষমতা ও স্ট্যামিনা সম্পর্কে ধারণা রাখেন। বিদেশি কোচ আসলে নতুন করে সব শুরু করতে হয়। কারণ অতটা ধারণা তাদের থাকে না। প্র্যাকটিস এবং ম্যাচে দেখে বুঝতে পারে কে কেমন। আমাদের নতুন করে প্রমাণ করতে হয়।’

ছেলেদের ক্রিকেটের মতো মেয়েদের বেলাতেও দেখা যাচ্ছে কোচ বদলের হিড়িক। গত ছয় বছরে তিনজন বিদেশি ও একজন দেশি হেড কোচ কাজ করেছেন সালমা-রুমানাদের সঙ্গে। ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কান কোচ চম্পকা গামাগে দায়িত্ব নেন। ২০১৬ সালের মে মাসে দুবছরের মেয়াদ শেষ হলে আর চুক্তি বাড়ায়নি বিসিবি। অন্তর্বর্তী কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন সারোয়ার ইমরান। আয়ারল্যান্ড সফরে মেয়েদের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার ডেভিড ক্যাপেল কাজ করেন দেড় বছর। ২০১৮ সালের মে মাসে সাউথ আফ্রিকা সফর ছিল তার শেষ অ্যাসাইনমেন্ট। পরে নিয়োগ দেয়া হয় ভারতীয় নারী দলের সাবেক ক্রিকেটার অঞ্জুকে। প্রথম অ্যাসাইনমেন্টেই বাজিমাত করেন। তার অধীনে মালয়েশিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ পায় স্বপ্নের এশিয়া কাপ শিরোপা।

এশিয়া কাপের আগে দলকে খুব বেশি অনুশীলন করানোর সময় পাননি অঞ্জু। খেলোয়াড়দের দাবি ক্যাপেলের পরিশ্রম ও সাউথ আফ্রিকার কঠিন কন্ডিশনে খেলে আসার কারণেই টি-টুয়েন্টি এশিয়া কাপে ভালো করেছে দল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সবশেষ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে টিম টাইগ্রেসের জয়হীন থাকার পেছনে কোচের যথাযথ পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল, এমন তথ্য ছিল বিসিবির কাছে। বাংলাদেশে চাকরি হারানো অঞ্জু যোগ দিচ্ছেন বরোদা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের মেয়েদের হেড কোচ হিসেবে।