চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অগ্নিকাণ্ডে রোগীর মৃত্যু: ৩০ লাখ টাকা করে দিতে ইউনাইটেডকে নির্দেশ

রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে করোনা ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ রোগীর মৃত্যুতে ক্ষতিগ্রস্ত চার পরিবারকে ১৫ দিনের মধ্যে ৩০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর করা চারটি রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেয়।

বিজ্ঞাপন

আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। রিটের পক্ষে শুনানি ছিলেন আইনজীবী অনীক আর হক, হাসান এম এস আজিম, মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ, ব্যারিস্টার সাহিদা সুলতানা শিলা, ব্যারিস্টার রাকিব হাসান, ব্যারিস্টার সৈয়দ রিদওয়ান হাসান। আর ইউনাইটেড হাসপাতালের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, মোস্তাফিজুর রহমান খান, ব্যারিস্টার এরশাদ উল আলম।

বিজ্ঞাপন

আজকের আদেশের বিষয়ে রিটকারী আইনজীবী নিয়াজ মাহবুব বলেন চ্যানেল আই অনলাইকে বলেন, ‘এর আগে গত ২৯ জুন আদালত ক্ষতিপূরণ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সাথে ইউনাইটেড হাসপাতালকে সমঝোতা করতে বলেছিলেন। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে চিঠি দেয়। পরবর্তীকালে ইউনাইটেড হাসপাতালের সাথে আলোচনায় বসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। তবে আলোচনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ বাবদ যে অর্থ দিতে চেয়েছিল তাতে চারটি পরিবার রাজি ছিলনা। শুধু মনির হোসেনের পরিবার ২০ লাখ টাকায় সমঝোতা করতে রাজি হয়। এমন প্রেক্ষাপটে আজ এবিষয় শুনানি শেষে আদালত ক্ষতিগ্রস্ত অন্য চারটি পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা করে ১৫ দিনের মধ্যে দিতে ইউনাইটেড হাসপাতালের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।’

বিজ্ঞাপন

গত ২৭ মে রাতে ইউনাইটেড হাসপাতালের নিচের প্রাঙ্গণে করোনাভাইরাসের রোগীদের জন্য স্থাপিত আইসোলেশন ইউনিটে আগুন লাগে। পরে আধাঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও পাঁচ রোগীর মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন- মো. মাহবুব (৫০), মো. মনির হোসেন (৭৫), ভারনন এ্যান্থনি পল (৭৪), খোদেজা বেগম (৭০) ও রিয়াজ উল আলম (৪৫)।

অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনার পর ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি অপমৃত্যুর মামলা করে। তবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ভেরুন অ্যান্থনি পলের পরিবার করেন ‘অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে’ মামলা। সে মামলায় ইউনাইটেড হাসপাতালের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), পরিচালক, করোনা ইউনিটে সে সময় কর্মরত ডাক্তার-নার্স, সেফটি ও সিকিউরিটি কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়।

অন্যদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত পাঁচ জনের পরিবারের জন্য দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ এবং ঘটনার বিচারিক তদন্তসহ কয়েকটি বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ভার্চুয়াল হাইকোর্টে ৪ টি রিট করা হয়। এর মধ্যে একটি রিট করেন ব্যারিস্টার নিয়াজ মুহাম্মদ মাহবুব। আরেকটি রিট করেন ব্যারিস্টার রেদোয়ান আহমেদ রানজীব ও ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ। অন্য দুটি রিট করেন অগ্নিকাণ্ডে নিহতের পরিবারের সদস্য ফৌজিয়া আকতার ও মো: আলমগির। স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এসব রিটে বিবাদী করা হয়।

এরপর এসব রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ১৪ জুনের মধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পুলিশের মহাপরিদর্শক ও ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষকে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে পৃথক প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। পরে প্রতিবেদনগুলো আদালতে আসার পর শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে ‘সমঝোতা’ করতে নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে ইউনাইটেড হাসপাতালের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে করা মামলাটির তদন্ত দ্রুত শেষ করতে বলা হয়। এরপর আজ আদালতকে ‘সমঝোতার’ বিষয়ে নেয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানানো হলে চার পরিবারকে ১৫ দিনের মধ্যে ৩০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে ইউনাইটেড হাসপাতালের প্রতি নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।