রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক মাস

তখন রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা তুঙ্গে। রাষ্ট্রের চরিত্র ও বৈশিষ্ট্যকে অস্বীকার করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং পুলিশ সীমান্তরক্ষীরা নির্বিচারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যা করছে, অগ্নিসংযোগ করছে, তাদের তাড়িয়ে দিচ্ছে জন্মভূমি থেকে। প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গারা তখনও ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশে। গুলির মুখ থেকে বেঁচে এসে এদেশীয় মানুষের আপ্যায়নে মুগ্ধ তারা। এ দফায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা তখন পাঁচ লাখেরও বেশি। এসব রোহিঙ্গারা টেকনাফ-উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং গ্রামে গঞ্জে অবস্থান করছে। তাদের মুখে মুখে এখন শুধু এদেশের মানুষের ভালোবাসার কথা। সরকার প্রধান থেকে শুরু করে একেবারে প্রান্তীক জনগোষ্ঠী পর্যন্ত সবার ভালবাসা এবং আন্তরিকতা রোহিঙ্গাদের অনেকটাই অভিভূত করেছে।

By কাজী ইমদাদ on বৃহস্পতিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০১৭ ১০:০৫

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে মায়ানমার সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে বিশ্বের বড় বড় দেশগুলোর প্রতি বাংলাদেশ সরকারের চাপ অব্যাহত রয়েছে। তারা রোহিঙ্গাদের যেন তাদের দেশে ফিরিয়ে নেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। কিন্তু তাদের তো দেশে ফিরে যেতে হবে। তবে চাপ থাকলেও রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চাপ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে সরকার। যেহেতু জাতিসংঘসহ বিশ্বের বড় বড় সংস্থাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না মায়ানমার সরকার, সেহেতু বিষয়টির সমাধান কিভাবে হবে তা তখনও সরকারের কাছে পরিষ্কার নয়। আর প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে বিএনপি সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার ফিরিস্তি গেয়ে চলেছে তখনও। মাত্র ১ লাখ শরণার্থী আশ্রয় দিতে ইউরোপ সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়া দিয়েছিল। অথচ মানবিক

By কাজী ইমদাদ on বুধবার, ২০ ডিসেম্বর ২০১৭ ০৯:৫০

ভয়াল মৃত্যু প্রতিদিন তাড়া করছে তাদের। আগুন, গুলি আর মৃত্যুর হানা থেকে প্রাণ বাচাঁতে সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছে তারা। বাঁচার আকুতি আর মনোবলকে সম্বল করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছেন তারা। হাতের কাছে জমানো টাকা- স্বর্ণালংকারের পাশাপাশি হাতের কাছে থাকা পোষা প্রাণীগুলোও নিয়ে আসছেন সঙ্গে। তবে সীমান্ত পাড়ি দিলেই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ওত পেতে আছে অন্য শত্রু। দৃশ্যমান শত্রুকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশে আসা এসব শরণার্থীর অসহায়ত্বের সুযোগে লুট হয়ে যাচ্ছে শেষ সম্বল। কয়েকজনের এসব সিন্ডিকেট অসহায় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আনা জিনিসপত্র কিনে নিচ্ছে সস্তা দামে। নিত্যপণ্য থেকে সর্বক্ষেত্রে চলছে নৈরাজ্যকার পরিস্থিতি। এ যেন রোহিঙ্গাদের নিয়ে নির্দয় বাণিজ্য। হোয়াইক্যং ও লাম্বার বিল সীমান্ত পার হয়ে রাস্তার পাশ

By কাজী ইমদাদ on মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭ ০৯:১৪

মিয়ানমার থেকে আসা এইডস আক্রান্ত দুই রোহিঙ্গা নারীকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর রোববার রাতে কক্সবাজারের উখিয়ার শরণার্থী শিবির থেকে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়। মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গারা বিভিন্ন ধরনের রোগে ভুগছেন। এর মধ্যে ডায়রিয়া, শ্বাসতন্ত্রজনিত বিভিন্ন রোগে এখনও ২০০ রোহিঙ্গা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৬ আগস্ট থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কক্সবাজার সদর হাসপাতাল, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা হাসপাতালে তিন হাজার ১৪ জন রোহিঙ্গা ভর্তি হয়ে সেবা নিয়েছেন বলে জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম। এদিকে শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১৫ হাজা

By কাজী ইমদাদ on সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭ ০৮:১০

সন্তানসহ বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে বহন করে অনেককেই বাংলাদেশে আসতে দেখা গেছে। রোহিঙ্গা নারী হানিদা বেগমও জীবন বাঁচাতে তার ছোট্ট দুধের সন্তান আবদুল মাসুদকে নিয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার নদী পার হয়ে বাংলাদেশে আসেন। কিন্তু পথেই ওই ছোট্ট শিশুটির নিঃশ্বাস চিরদিনের জন্য ফুরিয়ে যায়। একমাস বয়স হয়েছিল আবদুল মাসুদের। মাসুদের মা কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তার কোলের সন্তান মাসুদ আর নেই। সন্তানকে হারিয়ে মায়ের মাতম থামছেই না। শিশুটির দেহ বুকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে মা হানিদা। হানিদা বারবার বলছেন তার সন্তান এখনই জেগে উঠবে। বার্তা সংস্থা এপি’র চিত্র সাংবাদিক তার ক্যামেরায় এ করুণদৃশ্য ধারণ করেন। হানিদা তা বিশ্বাস করতেই পারছেন না তার শিশুসন্তান আর নেই। এমন দৃশ্য দেখে উপস্থিত বাকিরাও চোখের

By কাজী ইমদাদ on রবিবার , ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ ০৮:৪৯

সুচির বক্তব্যের জন্য যেমন মুখিয়ে ছিলো বিশ্ব, তেমনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও আলোচনায় ছিলেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রায় ২শটি মত দেশ অংশ নিলেও সবার চোখই ছিলো রোহিঙ্গাদের নিয়ে কি বক্তব্য দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পৃথিবীতে এমন অনেক দেশ আছে যারা অঢেল সম্পদ নিয়েও অন্য কোন বিতাড়িত ভাগ্যহত জাতির দায়িত্ব নেওয়ার সাহস পায়না। সেখানে হাজারো সমস্যায় আক্রান্ত বাংলাদেশ প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার দায়িত্ব নিতে চলেছে, বিষয়টি আসলেই তখন বিশ্ব মোড়লদের কাছে বিশ্বয়েরই ছিলো। প্রধানমন্ত্রীও তার বক্তৃতায় রোহিঙ্গা সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধানেরই প্রস্তাব তুলে ধরলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে রোহিঙ্গাদের রক্ষা ও তাদের ফেরত নিতে জাতিসংঘে ৫

By কাজী ইমদাদ on শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭ ১৭:৪১

ক্রমবর্ধমান চাপ তখন মিয়ানমার সরকারের ওপর। ১৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশন। সুচি যে অধিবেশনে যাচ্ছেন না ঘোষণাটি আগেই এসেছে। সাধারণ পরিষদের এ অধিবেশন শুরুর দিনই সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছিলেন সুচি। সুচির বক্তব্য দেওয়ার একদিন আগে জাতিসংঘের মহাসচিব এ্যান্তোনিও গুতেরেস বিবিসির টকশো হার্ড টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুচিকে তার আসন্ন ভাষণকে সংকট সমাধানের শেষ সুযোগ হিসেবে অ্যাখা দেন। গুতেরেস মনে করেন, যদি এ ভাষণের মধ্য দিয়ে সংকট সমাধানের কোন পথ সুচি বের করতে না পারেন তবে এর পরিনতি হবে ভয়াবহ। যে সংকট তৈরি হয়েছে তা আরও জটিল আকার ধারণ করবে। গুতেরেস বলেন, ‘এখন যদি তিনি(সুচি) পরিস্থিতি পাল্টাতে না পারেন, তাহলে আমার মনে হয়, বিপর্যয়টা হবে ভয়ংকর। আর সে ক্ষেত্রে ভবিষ্য

By কাজী ইমদাদ on মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ ২২:২৪

১৩ সেপ্টেম্বর বুধবার ইউনুস সেন্টারের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে পরিষদের সভাপতি ও সদস্যবৃন্দের প্রতি চিঠি দেওয়া হয়। সে চিঠিতে বলা হয়, ‘রোহিঙ্গা সংকট পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে নিরাপত্তা পরিষদের সভা আহ্বান করায় প্রথমে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা আবারও মনে করিয়ে দিতে চাই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মানবিক সংকট ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। এর অবসানে আপনাদের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। আপনাদের এই মুহূর্তের দৃঢ়সংকল্প ও সাহসী সিদ্ধান্তের ওপর মানব ইতিহাসের ভবিষ্যৎ গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করছে।’ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে চিঠিতে বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক আক্রমণে রা

By কাজী ইমদাদ on সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ ১৯:১৫

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭। তখন রোহিঙ্গা ইস্যুটি নিয়ে সরগরম গোটা বিশ্বের মিডিয়া। বাংলাদেশেই তখন সিএনএন, বিবিসি, আলজাজিরা, রয়টার্সসহ বিশ্বের বড় বড় সব গণমাধ্যমের কর্মীরা। বাংলাদেশের মিডিয়ার পাশাপাশি ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিবিসির মতো আন্তর্জাতিক শীর্ষ গণমাধ্যমগুলোও লাইভে রোহিঙ্গাদের খবর প্রচার করছে। টিভি খুলেই তখন রোহিঙ্গাদের অবস্থাই জানতে চাইতো গোটা বিশ্ব। রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর চালানো নির্যাতনের প্রতিবাদে নানা প্রতিবাদ কর্মসূচি তখন মুসলিম দেশগুলো ছাড়াও অন্যান্য দেশে অব্যাহত রয়েছে। শান্তিতে নোবেল জয়ী অং সান সুচির ছবি পোড়ানোর দৃশ্য তখন পত্রিকার পাতার প্রতিদিনের চিত্র। রোহিঙ্গাদের দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের একদিন পরই ১৩ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার সফরে যান ঢ

By কাজী ইমদাদ on মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর ২০১৭ ১৭:০৪

বুথিডংয়ের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম। তার সঙ্গে কথা হয় উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে। জানা অজানা নানা বিষয়েই সে তার স্মৃতিতে থাকা তথ্য বলতে থাকে। যেগুলো ধারণার বাইরে ছিলো সেগুলোও যেমন বলছিলো গড়গড় করে, তেমনি যেগুলো জানা সেগুলোও। ১৯৯০ এবং ২০১৫ এই দুইবারই নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসে সু চি। তার ক্ষমতায় আসায় সবথেকে বেশি আশাবাদী হয়েছিলো রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গাদের আশাবাদী হওয়ার পেছনেও বেশ কিছু কারণ ছিলো। শত শত বছর ধরে মিয়ানমারে যে রোহিঙ্গাদের ইতিহাস রচিত হয়েছে সেখানে সেনাবাহিনী এক আতঙ্কই রোহিঙ্গাদের কাছে। যে সেনাবাহিনী দেশটিকে যুগের পর যুগ ধরে শাষণ করেছে, সে সেনাবাহিনীর নাম শুনলেই রোহিঙ্গাদের মধ্যে এক অজানা সংশয়। রোহিঙ্গারা ভেবেছিলো সু চি ক্ষমতা গ্রহণ করলে হয়তোবা সেনাবাহিনীর এ প্রভাব

By কাজী ইমদাদ on সোমবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৭ ১০:৪৪