রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক মাস

অধিকারের বিষয়টি একেক জনের কাছে একেক রকম। বিশ্বের শীর্ষ ধনী মার্কিন ধনকুবের মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের সন্তান হয়ে যে শিশু এ পৃথিবীর আলো দেখে তার কাছে অধিকার এক রকম, আর রাজধানী ঢাকার ব্যস্ত গলি অথবা ফুটপাতে রাত কাটানো কোন মায়ের কোলে জন্ম নেওয়া সন্তানের কাছে অধিকার অন্য রকম। কেউ পৃথিবীর আলো দেখে সোনার চামচ মুখে নিয়ে, আর কারও জীবনই হয়ত কেটে যায় সোনার চামচের সন্ধান করতে করতে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র, প্রতিটি মুহূর্ত মানুষকে অধিকারের শিক্ষা দেয়। কেউ অধিকার পেয়ে খুশি কেউ অন্যকে অধিকার বঞ্চিত করে খুশি। এমনই একটি ভাগ্যহত জাতি রোহিঙ্গা যারা আজও লড়ছে তাদের অধিকার আদায়ে। কুতুপালং ক্যাম্পে তখন শুধুই ক্ষুধার্ত মানুষের আর্তনাদ। যে মানুষগুলোর কথা বলছি এরা কি আসলেই নিজেদের মান

By কাজী ইমদাদ on বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭ ১৬:১৪

বিবিসির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিনিধি জনাথন হেডের সঙ্গে আমাদের দেখা হয় শাহপরীর দ্বীপে। এর আগে বলে নেই জনাথন হেড সম্পর্কে। সারাবিশ্বেই তখন মিয়ানমার সরকারের সমালোচনা করে খবর প্রচারিত হচ্ছে নিয়মিত। যেসব খবরে তুলে ধরা হচ্ছে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বাস্তব চিত্র। রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার, তাদের শরীরে ছুরির আঘাতের চিহ্নসহ চিত্র অথবা ভিডিও প্রচারিত হচ্ছে। তখনই মিয়ানমার সরকার একটা কৌশল নেওয়ার ছক আঁকছে। যা দিয়ে তারা বোঝানোর চেষ্টা করলো যে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে যে খবর প্রচারিত হচ্ছে তা ঠিক নয়। রোহিঙ্গারা নিজেরাই নিজেদের ঘরে আগুন দিচ্ছে। এজন্য বেশ কিছু সাজানো ছবি তৈরি করে দেশী-বিদেশী কিছু সাংবাদিককে রাখাইনে নিয়ে যায় মিয়ানমার সরকার। রাখাইনে

By কাজী ইমদাদ on শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৭ ১৭:৩৭

জ্যোৎস্না রাত। শান্ত নাফের জলে নৌকা এগিয়ে চলছে। বশিরের কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনছি। রোহিঙ্গাদের এ বঞ্চনার ইতিহাস নতুন নয়। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক না, তারা বাংলাদেশ থেকে এসেছে! মিয়ানমার সরকার মূলত এ যুক্তিতেই রোহিঙ্গাদের তাড়াতে ব্যস্ত। তবে ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা। ইতিহাস ঘেটে আমরা যে তথ্য পাই তাতে স্পষ্টই বোঝা যায় যে রোহিঙ্গারা মিয়ানামারের নাগরিক। রোহিঙ্গাদের আবাসভূমি আরাকান ছিল স্বাধীন রাজ্য। ১৭৮৪ সালে বার্মার রাজা এটি দখল করে বার্মার অধীন করদ রাজ্যে পরিণত করেন। আরাকান রাজ্যের রাজা বৌদ্ধ হলেও তিনি মুসলমান উপাধি গ্রহণ করতেন। তার মুদ্রাতে ফার্সি ভাষায লেখা থাকতো কালেমা। আরাকান রাজ দরবারে কাজ করতেন অনেক বাঙালি মুসলমান। বাংলার সাথে আরাকানের ছিল গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতি

By কাজী ইমদাদ on রবিবার , ১২ নভেম্বর ২০১৭ ১৫:০৫

মৃত্যু ভয় কেমন? একের জনের কাছে হয়ত একেক রকম। কেউ বলে মৃত্যুকে ভয় পায় না আবার কেউবা বলে মৃত্যু অবধারিত। ভয় থাকলেও তাদের বক্তব্য ভয় পেয়ে কী হবে! গভীর অন্ধকার রাতে একা একা পথ চলতে চলতে গাছের পাতা পড়লে বা কোন বিড়াল কুকুর দৌড় দিলে মানুষের বুক ভয়ে কেঁপে ওঠে। তবে অলৌকিক ভয়ের বাইরে কিছু ভয় বাস্তবের। কিছু ভয়কে জয় করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হয়। একটা হিন্দি বিজ্ঞাপনের ভাষায়, ‘ডরকে আগে জিত হে।’ তো আমরা এই জয়ের আশায় তখন ছুটছি। যে দুঃসাহস তখনও কেউ করেনি আমরা করবো এমনটা ভেবেই সকালে ঘুম থেকে উঠি। ক্যামেরাম্যান আবুল কাশেমকে বলা মাত্র সেও রাজি। সে একটি বারও বলেনি যদি গুলি করে, যদি আর ফিরে না আসি। তবে কি হবে আমার পরিবারের? তবে প্রেক্ষাপটটাই এমন ছিলো, যে জীবনের চেয়ে নতুন নতুন খবর সংগ্রহই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছিলো। ব

By কাজী ইমদাদ on বৃহস্পতিবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৭ ২০:০৭

চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। গাড়ির চাকা তখন হোটেলের দিকে ছুটছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া কাশেমের শতায়ু মায়ের অসহায় আর্তনাদের ভাষা তখনও বুঝতে চেষ্টা করছি। আবার ৫০ বছরের কাশেমের মায়ের প্রতি ভালবাসা দেখেও মুগ্ধ হচ্ছি। রাখাইন থেকে বাংলাদেশের পালিয়ে আসছে এমন অনেকের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি রোহিঙ্গা পরিবারগুলো যে যার মত পালিয়ে আসছে। অনেক রোহিঙ্গা পরিবারেই রয়েছে আশি উর্ধ্ব বয়সের পিতা-মাতা। হাটা চলা করতে না পারায় দীর্ঘ এ পথ পাড়ি দিতে পারবে না, এ কারণে বয়স্ক পিতা-মাতাকে মৃত্যুকূপে ফেলেই চলে এসেছেন এমন সন্তানের অভাব ছিলো না বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের সে ঢলে। নিজে বাচঁলে বাপের নাম হয়ত অনেকেই সেভাবে ভেবেছেন। তবে কাশেম তাদের মত নয়। বৃদ্ধ মাকে কাঁধে করে নিয়ে এসেছেন মাইলের পর মাইল। সারাজীবন মায়ের স্নেহমা

By কাজী ইমদাদ on মঙ্গলবার, ০৭ নভেম্বর ২০১৭ ১৭:৫৯

৩ সেপ্টেম্বর আমরা রওনা হই টেকনাফের উদ্দেশ্যে। অফিস সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছে এর একদিন আগে, ২ সেপ্টেম্বর যেদিন ছিলো কুরবানীর ঈদ। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির জন্য কক্সবাজারের যাওয়ার গুরুদায়িত্বটা দিয়ে কীভাবে কাজ করতে হবে তার কিছুটা ধারণা দিয়েছেন অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর আরেফিন ফয়সল। তবে বাস্তবতা আর ধারণা দুটো দুই বিষয়। হয়ত যারা সাংবাদিকতা বা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত তারা বিষয়টি অনেকের থেকে বেশি জানেন। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে তখন দুয়েকটি সংবাদভিত্তিক চ্যানেল বাদে সবাই মোটামুটি কক্সবাজারের স্থানীয় প্রতিবেদকের মাধ্যমেই খবর প্রচার করছিল। কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা করার আগেই একটি শব্দটি মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল: শরণার্থী। একদিন আমরাও এরকম শরণার্থী হতে বাধ্য হয়েছিলাম, আমাদ

By কাজী ইমদাদ on শনিবার, ০৪ নভেম্বর ২০১৭ ২১:০৮