রক্তের ইতিহাস বাংলাদেশ

মুক্তিযুদ্ধের সময় ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে একটি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের ৬ জনকে পুড়িয়ে মারে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী। সেদিনের সেই ভয়াল স্মৃতি আজও তাড়িয়ে বেড়ায় ওই পরিবারের বেঁচে যাওয়া সদস্যদের। ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর গ্রাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় গ্রামটির এই বাড়িতেই থাকতেন নিশিরঞ্জন ধর ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে সহায়তা করে আসছিলেন নিশিরঞ্জন। তার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন ছোট দুই ভাই শিশির ধর ও শিশ ধর। মুক্তিযুদ্ধে শরীক হন তাদের তিন ভাগ্নে রতনকুমার দেব, হরিবল চন্দ্র দেব ও সন্তোষকুমার দেব। রাজাকাররা এ খবর পৌঁছে দেয় পাকিস্তানী বাহিনীকে। ৭১ এর পয়লা জুন ভোররাতে নিশিরঞ্জনের বাড়িতে হানা দেয় পাকিস্তানী বাহিনী। নিশিরঞ্জনসহ প

By কাজী ইমদাদ on বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ ১২:১২

মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ময়মনসিংহের মুক্তিযোদ্ধারা। নভেম্বর থেকে কোণঠাসা হয়ে পড়ে পাকিস্তানী বাহিনী। ময়মনসিংহ শহরের পাশ দিয়ে এ রাস্তা চলে গেছে ভারত সীমান্তবর্তী হালুঘাটের তেলিখালীতে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তেলিখালী ছিলো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তেলিখালীর ওপর দিয়েই মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশে ঢুকে পাকিস্তানী বাহিনীর উপর হামলা চালিয়েছে। ৭১ এর ৩ নভেম্বর তেলিখালীতে পাকিস্তানী বাহিনীর একটি ক্যাম্পে হামলা চালান মুক্তিযোদ্ধারা। সেই অভিযানে শতাধিক পাকিস্তানী সেনা নিহত হয়। দখলমুক্ত করা হয় তেলিখালী। সেদিন নিহত হন ৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ২১ জন ভারতীয় সেনা। তেলিখালীতে পাকিস্তানী বাহিনীকে পরা

By কাজী ইমদাদ on সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ ১০:৩৯

দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় আসে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। কিন্তু দেশ স্বাধীন হলেও গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়ায় লাল সবুজ পতাকা ওড়ে তার ৩ দিন পর ১৯ ডিসেম্বর। মিত্র বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাঁড়াশি আক্রমণে সেদিন ভাটিয়াপাড়ায় পাকিস্তানী ঘাঁটির পতন ঘটে। ভৌগলিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ গোপালগঞ্জ-ফরিদপুর-নড়াইল জেলার সীমান্তে ভাটিয়াপাড়া রেল স্টেশন ও নদী বন্দর মুক্ত করতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে কয়েক দফা লড়াই হয়। ১৯৭১ এর ৬ নভেম্বর ভাটিয়াপাড়ায় পাকিস্তানি বাহিনীর এই ঘাঁটি দখল নিয়ে তুমুল যুদ্ধ হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের ঘায়েল করতে পাকিস্তানি বাহিনী উড়োজাহাজ থেকে গুলি ও বোমা বর্ষণ করলেও অসীম সাহসী মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হটেনি। টানা ১৫ ঘণ্ট

By কাজী ইমদাদ on শুক্রবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৭ ০৯:১০

যশোরের চৌগাছার জগন্নাথপুর। ১৯৭১ সালের ২০ নভেম্বরে এ গ্রামে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকিস্তানী হানাদারদের তুমুল যুদ্ধ বাধে। মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাঁড়াশি আক্রমণে সেই যুদ্ধে দুটি পাকিস্তানী বিমানকে ভূপাতিত হয়, পরাস্ত হয় পাকিস্তানী বাহিনী। জগন্নাথপুর ও গরীবপুর মাঠ সংলগ্ন চাড়ালের বাঁশবাগানে ও তেঁতুলতলা এলাকায় ২০ নভেম্বর বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত যুদ্ধ চলে। পরদিন ঈদ থাকলেও সেদিনও যুদ্ধের আতঙ্কে গ্রাম ছেড়ে যায় সবাই। পাকিস্তানী বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে আক্রমণ করে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা। তুমুল সংঘর্ষে পাকিস্তানী সেনাদের ৮টি ট্যাংক ধ্বংস হয়। কোনঠাসা হয়ে পড়ে পাকিস্তানী সেনারা। দ্বিতীয় দফায় শুরু হয় আকাশযুদ্ধ। তবে সে যুদ্ধেও পাকিস্তানী বাহিনীক

By কাজী ইমদাদ on বৃহস্পতিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭ ১২:০৭

মুক্তিযুদ্ধের সময় ৬ ডিসেম্বর প্রথম শত্রুমুক্ত হয় যশোর জেলা। ময়মনসিংহ, সুনামগঞ্জ রণাঙ্গনেও পাকিস্তানী সৈন্যদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল যুদ্ধ হয় সেসময়। পিছু হটে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে ধরাশায়ী পাকিস্তানী বাহিনী। কর্নেল জাফর ইমামের নেতৃত্বে এদিন ফেনী জেলাও শত্রুমুক্ত হয়। মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ ১৯৭১ সালের শেষ দিকে কলকাতায় বেড়াতে এসেছিলেন। কলকাতা থেকে কবি বন্ধু সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে তিনি আসেন যশোরে। সেপ্টেম্বরের ওই সময়টিতে কলকাতা থেকে যশোর আসার পথে রচনা করেন সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড। ওই কবিতায় লাখো বাঙ্গালীর কলকাতা অভিমুখে ছুটে চলা, রাস্তায় পড়ে থাকা মরদেহ ও কলকাতার শরণার্থী শিবিরগুলোর দুঃখ দুর্দশার চিত্র ফুটে উঠে। সেই যশোর জেলাকেই প্রথম শত্রুমুক্ত করে মিত্রব

By কাজী ইমদাদ on বুধবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭ ১১:০৬

৫ই ডিসেম্বর ১৯৭১। টানা ৬ দিন যুদ্ধের পর আখাউড়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে সম্পূর্ণ পরাজিত তথাকথিত পরাক্রমশালী পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী। পরাস্ত পাকিস্তানী সৈন্যরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দিকে পালিয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধারাও ধাওয়া করতে থাকে তাদের। এই দিনে আখাউড়ার আকাশে ওড়ে বাংলাদেশের মানচিত্র বুকে লাল সবুজের পতাকা। কুড়িগ্রামেও এদিন মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকিস্তানী বাহিনীর প্রচন্ড যুদ্ধ হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের অপ্রতিরোধ্য সাঁড়াশি অভিযানের মুখে যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চল থেকে পাকিস্তানী সৈন্যরা পালাতে থাকে ঢাকার দিকে।

By কাজী ইমদাদ on মঙ্গলবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭ ১১:০৩

মুক্তিযুদ্ধের ওই কঠিন সময়েও আপনজনদের ভোলেননি মুক্তিযোদ্ধারা। মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও প্রিয়তমা স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন অনেক মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের সময় আখাউড়া এবং পাশের এলাকায় নিহত শহীদদের কসবায় সমাহিত করা হয়। ব্রাক্ষণবাড়িয়ার কোল্লাপাথর স্মৃতিসৌধে ৪৯ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কবর রয়েছে। ৫০টি কবরের জায়গা থাকলেও একটি কবরের জন্য জায়গা ফাঁকা পড়ে আছে। শরিয়তপুরের নড়িয়ার মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম যুদ্ধ করেছিলেন ২ নম্বর সেক্টরে। যুদ্ধের সময় তার সহযোদ্ধাদের বলে গিয়েছিলেন, যদি যুদ্ধে তার মৃত্যু হয়, তাহলে তার প্রিয়তমা স্ত্রীকে যাতে তার পাশেই কবর দেয়া হয়। মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামের স্ত্রী হাজেরা নজরুল আজও স্বামীর স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছেন। স্বামী

By কাজী ইমদাদ on সোমবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৭ ১০:৩৫

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে পাকিস্তানী বাহিনীর রসদ ও সৈন্য সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিলো বিমান বাহিনীর আক্রমণ। ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি প্রথম অভিযান চালায় বাংলাদেশের বিমান বাহিনী। নারায়ণগঞ্জ শহরের কাছে গোদনাইল দেশের অন্যতম বৃহৎ তেলের ডিপো। একাত্তরে ছিলো পাকিস্তানী বাহিনীর শক্ত ঘাঁটি। ৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রথম হামলা চালায়। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর রসদ সরবরাহ হতো এখান থেকেই। এখানে মুক্তিযোদ্ধা ও নিরীহ বাঙ্গালীদের ধরে এনে নির্যাতনও করতো পাকিস্তানী বাহিনী। তেলের ডিপোর পাশেই একটি জেটি রয়েছে, যেখানে পাকিস্তানী হানাদাররা নিরীহ মানুষজনকে এনে নির্যাতন শেষে হত্যা করে পানিতে ভাসিয়ে দিতো। পাকিস্তানী বিমানবাহিনীকে দুর্বল করতে বাংলাদেশ বিমান বাহিন

By কাজী ইমদাদ on রবিবার , ০৩ ডিসেম্বর ২০১৭ ১১:০১

বীরশ্রেষ্ঠরা জীবন দিয়ে দেশের মুক্তি এনে দিয়েছেন। তাঁদের অন্যতম সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল। ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আখাউড়ার দরুইন গ্রামের মানুষ এই বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতি পরম যত্নে এখনও লালন করছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকে মাইল তিনেক দূরে দরুইন গ্রাম। এ গ্রামেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল। তাঁর সমাধিস্থলের পাশেই বড় পুকুর। পুকুর পাড়ের লম্বা তালগাছকে ঢাল বানিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন মোস্তফা কামাল। তিনি যে জায়গাটিতে যুদ্ধ করেছিলেন সেখানে একটি স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়েছে। সেদিন মোস্তফা কামালের সহযোদ্ধা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ। তিনি জানান, মোস্তফা কামাল নিজের জীবন দিয়ে দুশ’র বেশি মুক্তিযোদ্ধ

By কাজী ইমদাদ on শনিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০১৭ ০৯:৫৪

শুরু হলো বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। দীর্ঘ মুক্তি সংগ্রাম এবং এরপর একাত্তরে ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর আসে চূড়ান্ত বিজয়। বিজয়ের সেই পথে আছে আত্মত্যাগ ও গৌরবের এক মহান ইতিহাস। গৌরবের সেই মহান ইতিহাসে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় কিছু অংশ ২ এবং কিছু অংশ ৩ নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছিলো যুদ্ধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। সীমান্তের ওপার থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে গেরিলা বাহিনী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপর দিয়ে দেশের ভেতরে প্রবেশ করে। মুক্তিযুদ্ধের পুরো নয় মাসই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত হয় সম্মুখ যুদ্ধ। ডিসেম্বরে ওই যুদ্ধ রূপ নেয় চূড়ান্ত পর্যায়ে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গঙ্গাসাগর, আখাউড়া ও কসবার বিভিন্ন জায়গায় এখনো মিলবে শহীদদের স্মৃ

By কাজী ইমদাদ on শুক্রবার, ০১ ডিসেম্বর ২০১৭ ০০:৩০