মুক্তিযুদ্ধে কলকাতা

একাত্তর সালে একদিকে অস্ত্র হাতে যুদ্ধমাঠে বাংলাদেশ, অন্যদিকে ইথারে আরেক হাতিয়ার ছিলো স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। কলকাতার বালিগঞ্জ সাকুর্লার রোডে ছিলো স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের স্থায়ী ঠিকানা। মুক্তিযুদ্ধর পক্ষে কলকাতায় প্রথম জনসভা হয় ১৯৭১ সালের ৩১ মার্চ।  ২৫ মার্চের গণতহ্যার প্রতিবাদে ৩১ মার্চ ১৯৭১ প্রথম হরতাল করে কলকাতা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে কলকাতার যে বন্ধন সেটিকে আরো বেশী শক্তিশালী করেছিলো স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। ১৯৭১ সালে ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশকে সার্বভৌম স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেবার পর নাম হয় বাংলাদেশ বেতার। কলকাতার বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের বুকে যেখানে ছিলো স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, তার সামনে দাঁড়িয়ে ওই বেতারের ভূমি

By সোমা ইসলাম on বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ ১৪:০৬

জমকালো আয়োজনে দেশের পাশাপাশি এবার কলকাতায়ও উদযাপিত হবে বাংলাদেশের ‘বিজয় উৎসব’। বিজয়ের ৪৬ বছরের আনন্দকে অটুট রাখতে মৈত্রীর বন্ধনে ১৫ ডিসেম্বর শুরু হতে যাওয়া বিজয় উৎসব মাতাবেন দুই দেশের খ্যাতিমান শিল্পীরা। কলকাতার উপ-দূতাবাস আয়োজিত ৫ দিনের এই উৎসবের মিডিয়া পার্টনার চ্যানেল আই। একাত্তরে এদেশের মুক্তিকামী মানুষের পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছিলো ভারতীয় সেনাবাহিনী। সে তো এখন ইতিহাসেরই অংশ। কিন্তু সে সময়টায় পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের সহযোগিতা আর শক্তি যোগানোর গল্প তা অনেকেরই অজানা। মুক্তিযুদ্ধের সেই গল্পগুলো দু-দেশের নতুন আর পুরানো প্রজন্মের কাছে মনে করিয়ে দিতে ৫দিনের বিজয় উৎসব করবে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস। ‘বিজয় উৎসবের’ অন্যরকম এই আয়োজনে দুই বাংলার প্রখ্যাত শিল্পীদের নানামুখী অংশগ

By সোমা ইসলাম on বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ ১২:০৪

মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত এবং পরিচালিত হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে। তারমধ্যে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরের সানি ভিলার রয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক জ্বলজ্বলে ইতিহাস। ১১টি সেক্টরে ভাগ হয়ে পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে তখন রুখে দাঁড়িয়েছে পূর্ব বাংলা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের স্বাধীনতার ডাক এক করেছে ৭ কোটি বাঙালিকে, চলছে মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জড়ানো সানি ভিলা নামের বাড়িটির সামনে দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধে কলকাতার ভূমিকার কথা স্মরণ করছিলেন তোফায়েল আহমেদ। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই বাড়িতেই থাকতেন তিনি। বাড়িটি ছিল কংগ্রেস নেতা চিত্তরঞ্জন সুতারের। শুধু তোফায়েল আহমেদই নয়, এই বাড়িতে থাকতেন বাংলাদেশের অনেক রাজনীতিবিদ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকসহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আস

By সোমা ইসলাম on মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ ১১:০৬

বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ভারতের যে শহর বুক আগলে দাঁড়িয়েছিলো তার নাম কলকাতা। বিজয়ের মাসে সেই কলকাতা শহরেই চ্যানেল আই এর বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজের কাছে যুদ্ধদিনে কলকাতার স্মৃতি মেলে ধরলেন সেদিনের তরুণ রাজনীতিবিদ, আজকের মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। নয় মাসের স্বাধীনতার লড়াইয়ে বর্বর পাকিস্তানীদের নৃশংসতা থেকে মুক্তি পেতে যুদ্ধজয়ের কৌশলটা পরিচালিত হতো যে শহরের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তার নাম কলকাতা। বিজয়ের ৪৬ বছর পর সেই শহরের বুকে দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধে কলকাতার অবদানের স্মৃতি স্মরণ করলেন তখনকার মুজিব বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডার, আজকের বর্ষীয়াণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ। বাংলাদেশের প্রথম সরকারের সব কার্যক্রম পরিচালিত হত কলকাতা থেকে। সেই সময় আকাশবাণী কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের সকল গণম

By সোমা ইসলাম on সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ ১১:০৬

একাত্তরে কলকাতার যে ২৫টি বাড়ি থেকে মুজিবনগর সরকারের কার্যক্রম পরিচালিত হতো তার একটি ছিলো পার্ক সার্কাসের সোহরাওয়ার্দী এভিনিউয়ে। সেটি এখন বাংলাদেশ লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টার। সেখান থেকেই সাংবাদিকরা পাকিস্তানী বর্বরতার খবর পৌঁছে দিতেন সারাবিশ্বের কাছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য তখন কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোড বর্তমানে শেক্সপিয়ার সরণিতে বসে জাতীয় নেতারা নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত দিয়ে এগিয়ে নিচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধকে। তাদের খবর বালিগঞ্জের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র আর ধর্মতলার আকাশবাণী হয়ে পৌঁছে যাচ্ছে সব জায়গায়। লড়াইয়ের আরেক সাক্ষী পার্ক সার্কাস। সেখানকার সোহরাওয়ার্দী এভিনিউয়ের সোহরাওয়ার্দী ভবন দেশী-বিদেশী সাংবাদিকদের মূল কেন্দ্র, সেখান থেকেই সাংবাদিকরা খবর প

By সোমা ইসলাম on রবিবার , ১০ ডিসেম্বর ২০১৭ ১২:২৩

একাত্তরে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সমান্তরাল মুক্তিযুদ্ধের খবর প্রচার করে গেছে আকাশবাণী কলকাতা। বাংলাদেশের জন্য সেখানে খোলা হয় গোপন সেল, সেই সেলের দায়িত্ব পায় সবচেয়ে কনিষ্ঠ একজন যার নাম পংকজ সাহা। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটিও আকাশবাণীর জন্য প্রথম রের্কড করেছিলেন তিনি। শুধু সংবাদ প্রচার নয় গান, কবিতা, বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা এমনকি সাংকেতিক ভাষায় কৌতুকের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সব খবর গণমানুষের কাছে পৌঁছে দিত আকাশবাণী কলকাতা। তখন সেখানে সবচেয়ে তরুণ কর্মী ছিলেন পংকজ সাহা। বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছেলে বলে যুদ্ধটা তার কাছে ভিনদেশের নয়, ছিল নিজ দেশের জন্যই। সে কারণে সীমান্তের ব্যারিকেড ভেঙ্গে আকাশবাণীর পরিচয়পত্র সেনাবাহিনীর কাছে রেখে প্রবেশ করেছিলেন বাংলাদেশের ভেতর

By সোমা ইসলাম on শনিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৭ ১১:৩৬

বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহাকাব্যের সঙ্গে যে শহরের পরিচয় ইতিহাসে বাঁধা তার নাম কলকাতা। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও একাত্তরের সেই দিনগুলোর এক একটা অধ্যায়ের গৌরবের সাক্ষী কলকাতার ধর্মতলায় স্ট্যান্ড রোডের আকাশবাণী। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে সেই সময় বাংলাদেশের পক্ষে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছে আকাশবাণী কলকাতা। সেসময়ের পূর্ব পাকিস্তানের বেতার ততোদিনে মুক্তিকামী বাঙালির দখলে। অবস্থা বেগতিক দেখে বেতার কেন্দ্রে পাকিস্তানী সরকারের কড়া নজরদারী। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে কলকাতা থেকে কার্যক্রম শুররু করে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। রণাঙ্গণের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণশক্তির যোগান দিয়েছে এ বেতার, আকাশবাণীর গোপন কক্ষ থেকে চলতো এর সম্প্রচার। সেই সময় আকাশবাণী কলকাতার ধারাভাষ্যকার দেব

By সোমা ইসলাম on শুক্রবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৭ ১০:০২

১৯৭১ সালে পাকিস্তানী বর্বরতার শিকার লাখ লাখ বাংলাদেশী শরণার্থীকে চিকিৎসা দিয়েছে কলকাতা মেডিকেল কলেজ। নির্মমতার খবর পেয়ে যশোরের উদ্দেশে রওনা হওয়া ৮ সদস্যের চিকিৎসক দলের একজন ছিলেন এখন কলকাতার প্রখ্যাত নিউরোলজিস্ট শিবাজী বসু। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা পশ্চিমবঙ্গের প্রায়  ৩০০ চিকিৎসকের তালিকাটি প্রকাশ করার অনুরোধ তার। পাকিস্তানীরা তখন তছনছ করে দিয়েছে পুরো দেশ। জ্বলছে পূর্ব বাংলা, জীবন বাঁচাতে সীমান্তের দিকে ছুটছে মানুষ। খবর পেয়ে কলকাতা মেডিকেলের ডক্টর সত্যেন বসুর নেতৃত্বে ৮ সদস্যের চিকিৎসকদল যাত্রা করে যশোরের দিকে। সেখানকার নাভারন হাসপাতালে তখন শত শত ধর্ষিতা নারী। বীভৎস নির্যাতনের শিকার হওয়া মানুষের সেবায় আসা দলের সবচেয়ে তরুণ ডাক্তার ছিলেন শিবাজী বসু। ফরিদপু

By সোমা ইসলাম on বৃহস্পতিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭ ১২:২৯

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলো কলকাতার গণমাধ্যম। স্টেটম্যান কাগজের সেদিনের তরুণ সাংবাদিক মানস ঘোষ কলমকে অস্ত্র করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। একাত্তরের ২৮ মার্চ তিনিই প্রথম বিদেশী সাংবাদিক হিসেবে বাংলাদেশের ভেতরে এসে পাকিস্তানী বর্বরতার চিত্র দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান। ১৯৭১ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশ হতো আনন্দবাজার, যুগান্তর, স্টেটম্যান, হিন্দুস্তান স্ট্যান্ডার্ড, বসুমতি এবং অমৃতবাজার নামে ছয়টি খবরের কাগজ। তখনো সেখানে টেলিভিশন আসেনি, তবে ছিলো রেডিও আকাশবাণী কলকাতা। সেসময়ের ইংরেজি কাগজ স্টেটম্যানের সাংবাদিক মানস ঘোষ বলছিলেন, সবগুলো গণমাধ্যমই বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গড়ে তোলে। ২৫ মার্চের হত্যাযজ্ঞের খবর পেয়ে অফিসের অনুমতি ছাড়াই রক্

By সোমা ইসলাম on বুধবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭ ১০:৪৮

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষদিকে যৌথবাহিনীর অংশ হিসেবে আত্মাহুতি দিয়েছে দেড় হাজারের বেশি ভারতীয় সৈন্য। গেরিলা প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করেছে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী। তাদের একজন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন সুধাংশু ভূষণ দত্ত। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নোয়াখালীতে নিজের মায়ের সমাধি আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার দেখার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন প্রায় শতবর্ষী সুধাংশু। দক্ষিণ কলকাতার নাকতলা এলাকায় সাতচল্লিশ বছর ধরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে জিইয়ে রেখেছেন ক্যাপ্টেন দত্ত। বাংলাদেশেই জন্মেছিলেন তিনি। দেশভাগে এখন ভারতবাসী। জন্ম নোয়াখালীর নোয়াখলা নামক স্থানে। অনেক খুঁজে ফিরে তার সন্ধান যখন পাওয়া গেলে জলভরা চোখে তার প্রথম জিজ্ঞাসা: কেমন আ

By সোমা ইসলাম on মঙ্গলবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭ ১০:৫৩