মতামত

কেন জানি বেশ কিছুদিন ধরেই বাদশাহ নমরুদের কথাটা বারবার ঘুরেফিরে মাথায় আসছে। নমরুদ শুধু যে প্রবল প্রতাপশালী এবং দুর্বিনীত শাসকই ছিল, তা নয়, নমরুদ নিজেকে সৃষ্টিকর্তা বলেও দাবি করতো। নমরুদ বহুবার, বহুভাবে হযরত ইব্রাহিম (আ:) কে হয়রানি করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সেই চরম বদমাইশের বাহিনীকে কাবু করার জন্য পাঠানো হয়েছিল একদল মশাকে। আমরা মশাকে যতই ছোট, ফালতু ও গুরুত্বহীন প্রাণী মনে করি না কেন, মশা কিন্তু পরাস্ত করেছিল ঐ নমরুদকে। আর স্বয়ং নমরুদকে কাইৎ করার জন্য স্পেশাল অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে এসেছিল একটি আরো ছোট মশা, যে নাকি নমরুদের মগজের মধ্যে ঢুকে তারে পাগল বানিয়ে ছেড়েছিল। হঠাৎ এতকিছু থাকতে আমার নমরুদের মশার কাহিনী মনে হওয়ার কারণ আর কিছু নয়, কারণ হচ্ছে এখন ঠিক সেরকম ক্ষমতাশালী একদল মশার উপস্থিতি

By শাহানা হুদা on রবিবার , ২৫ জুন ২০১৭ ১৪:০২

চালের বাজারের হালচাল নিয়ে মিডিয়ায় আসা প্রতিদিনকার খবর সাধারণ মানুষের হতাশাকে এখনো দমাতে পারেনি। হঠাৎ চালের দাম বেড়ে যাওয়ার পিছনে বিশেষ মহলের 'চালবাজি' রয়েছে কীনা তা স্পষ্ট না হলেও হাওর অঞ্চলে সাম্প্রতিককালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং ব্লাস্টের আক্রমণকে চালের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার পিছনে বড় কারণ বলে ধরে নেয়া যায়। বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ব্যহত হওয়া সত্ত্বেও সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ও ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে না পারার কারণে চালের বাজারে ধস নেমেছে বলে অনেকের ধারণা। যারা নিয়মিত চাল কিনতে বাজারে যান, চালের দামের ঊর্ধ্বগতি, তাদের মন মেজাজের উপর কতটা প্রভাব ফেলছে, মিডিয়া রিপোর্টে তার ছিটেফোঁটা উঠে আসলেও প্রকৃত অবস্থাটা ঠিকই টের পাওয়া যায় ভুক্তভোগী মানুষের সঙ্গে কথা বলল

By হা‌সিম উদ্দিন আহ‌মেদ on শুক্রবার, ২৩ জুন ২০১৭ ১২:২২

মনে পড়ে রমজান মাসে আব্বা অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে ইফতারের জন্য শুকনা খেজুর, শশা, তরমুজ, আম, বাঙ্গি, জামরুল, পেয়ারা, তোকমা, লেবু আর ইসবগুলের ভুসি দিয়ে শরবত বানিয়ে খাওয়ার প্ল্যান করে বাড়িতে ফিরতেন। কী ধরণের খাবার খেলে পেট ঠাণ্ডা থাকবে, সারাদিনের উপোসের পর শরীর ডিহাইড্রেট হবে না এবং ইফতারের মেনু বাছাইয়ের মধ্যেও কীভাবে প্রকৃত সংযম প্রকাশ পাবে সেটাতেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিতেন। আমার আম্মার ডালের বড়া আর ছোলা- মুড়ি প্রিয় ছিল বলে ইফতার আইটেম থেকে এটা কখনও বাদ পড়তো না, তবে সেটা অবশ্যই কম তেল-মসলা দিয়ে তৈরি করা হতো। ইফতার বলতে বাড়িতে ছোলা-মুড়ি আর দেশি ফলমূলকেই আমরা বুঝতাম। কিন্তু যখন থেকে কলোনাইসড খাবারের সংস্কৃতি বাণিজ্যিকীকরণ হলো অতিমাত্রায় তখন নিজের অজান্তেই কখন যেন স্রোতে গা ভাসাতে শুরু ক

By জেবুন্নেসা চপলা on বৃহস্পতিবার, ২২ জুন ২০১৭ ১৩:৩৪

জাতীয় পার্টি বস্তুত ‘সরকারি বিরোধী দল’। সাংবিধানিকভাবে তারা বিরোধী দল হলেও তাদের তিনজন (আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মশিউর রহমান রাঙ্গা, মুজিবুল হক চুন্নু) সদস্য রয়েছেন মন্ত্রিসভায়। শুধু তাই নয়, দলটির চেয়ার‌ম্যান এইচ এম এরশাদ নিজেও মন্ত্রী পদর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। এরকম অদ্ভুত বিরোধী দল বিশ্বের যেকোনও সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই বিরল। তবে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় খোদ সরকারি দলের এমপিরা যেভাবে অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করেছেন, এমনকি আওয়ামী লীগে’র প্রভাবশালী এমপি শেখ ফজলুল করিম যেভাবে অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘আপনে কম কথা বলেন’ এবং আরেক প্রভাবশালী নেতা মাহবুব উল আলম হানিফ প্রশ্ন তুলেছেন, অর্থমন্ত্রী কার পরামর্শে এরকম একটি গণবিরোধী বাজে

By আমীন আল রশীদ on বৃহস্পতিবার, ২২ জুন ২০১৭ ১৩:১৮

বিরাজনীতিককরণের ওয়ান ইলেভেনের সরকার বাংলাদেশ বিমানকে সরকার হতে আলাদা করে কোম্পানীতে রূপান্তর করে। সেই হতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ মুক্ত থেকে বাংলাদেশ বিমান পরিণত হয় অনিয়ম দুর্নীতির আখড়ায়।প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক গোলযোগ সৃষ্টি করে তার প্রাণনাশের চেষ্টা, প্রধান মন্ত্রীর খাদ্যদ্রব্যে অনাকাঙ্ক্ষিত বস্তুর উপস্থিতি, নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতিসহ অসংখ্য অভিযোগ পত্রিকার শিরোনাম হয়। এব্যাপারে কিছু পত্রিকার শিরোনাম উল্লেখ করা যেতে পারে। ১লা নভেম্বর, ২০১৬ দৈনিক যুগান্তর শিরোনাম করেছে: ছয় বিমান বন্দরের ৩৮ মেগা প্রকল্পে দূর্নীতি/ ফাইল তলব করেছে দুদক/ কয়েক কোটি টাকার অনিয়ম। ১৮ডিসেম্বর, ২০১৬ ইং তারিখের দৈনিক যুগান্তর শিরোনাম করেছে: বিমানে ভয়াবহ নিয়োগ দুর্নীতি/ জাল সার্টিফিকেট ও ভুয়া নিবন্

By এখলাসুর রহমান on বৃহস্পতিবার, ২২ জুন ২০১৭ ১২:৫৯

হাওরে অকাল বন্যায় ক্ষেতের ফসল ও সহায়-সম্বল হারিয়ে বিপন্ন হাওরবাসীর কান্না না থামতেই ঘটে গেল পাহাড় ধসের ট্র্যাজেডি। পাহাড় ধসে বিপুল মানুষেরই কেবল মৃত্যু হয়নি, বরং রাস্তাঘাট, বসতি, সহায়-সম্বল সবকিছু হারিয়ে অনেক মানুষ ভয়াবহ দুঃসহ পরিস্থিতির মুখোমুখি। অপরিণামদর্শী নানা উদ্যোগ আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ এই মানুষদের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। সারাদেশের মানুষ যে মুহূর্তে ঈদের আনন্দ উপভোগ করবে সে মুহূর্তে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এই পরিবারগুলো ঘুরে দাঁড়ানোর প্রাণান্ত চেষ্টায় বিভোর। ঈদ তাদের জীবনে খুশির বার্তা বহন না করে বাড়তি কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চারদিকে ঈদের আনন্দ চললেও এসব পরিবারে চলছে কষ্ট আর নীরব হাহাকার। ঈদে ভালো খাবার তো দুরের কথা, ছেলেমেয়েদের নতুন পোশাক কিনে দেয়ার মতো অবস্থা নেই অন

By চিররঞ্জন সরকার on বৃহস্পতিবার, ২২ জুন ২০১৭ ১১:৪৬

সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের পর সকল আলোচনা আবগারি শুল্কের ওপর সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। আবগারি শুল্ক আগের চাইতে বেশি রাখার কারণে সমালোচিত হয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বাজেট উপস্থাপনের পর প্রথম যা সমালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল সময়ের ব্যবধানে সেটা ব্যক্তি-আক্রমণ ও অপমানে উপনীত হয়েছে। সকল আক্রমণ ও অপমানের লক্ষ্যবস্তু অর্থমন্ত্রী। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, এ বাজেট প্রণয়ন-উপস্থাপন সহ সকল কাজ একা করেছেন অর্থমন্ত্রী; ওখানে আর কারও কোন কিছুর সুযোগ ছিল না। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে যেকোনো অর্থমন্ত্রী অনেক কিছু করলেও সকল কিছু করেন না! রীতি অনুযায়ি প্রতিবারের মত এবারও সংসদে বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট পেশের আগে মন্ত্রীসভায় এ বাজেট অনুমোদনের নিয়ম, এ নিয়মেরও ব্যত্য

By কবির য়াহমদ on বুধবার, ২১ জুন ২০১৭ ২২:২০

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবারের বাজেট পেশ করে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষকে খেপিয়ে তুলেছেন। যারা স্বল্প আয়ের মানুষ, ভবিষ্যতের চিন্তায় তিল তিল করে টাকা সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ হয়, সেই মানুষদের পেটে লাথি মারার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। আর এই বাজেট পেশ করার পেছনে তাঁর কোনো দুরভিসন্ধি আছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখার জন্য আমাদের সংসদের সম্মানিত সদস্যদের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। কে জানে, তিনি অন্য কোনো দলকে আগামী নির্বাচনে জয়ী দেখতে চান কি না। অন্য কোনো দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে তৎপর কি না কে বলতে পারে। কিভাবে আওয়ামী লীগ সরকারকে জনরোষে ফেলা যায়, কিভাবে সাধারণ মানুষ সরকারের প্রতি নাখোশ হয়ে যাবে, কি করলে নিম্ন আয়ের মানুষ বিপদে পড়বে, আর তার প্রতিশোধ হিসেবে ভোটের সময় নৌকায় ভোট না দিয়ে অন্য

By সারওয়ার-উল-ইসলাম on মঙ্গলবার, ২০ জুন ২০১৭ ১৪:৪৩

গাড়িতে ধাক্কা দেওয়ার অপরাধে একজন বয়স্ক লোককে পায়ে ধরে মাফ চাওয়ানোর মতো একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হলো। এ ধরনের ঘটনা প্রকাশ হলে তা নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হবে স্বাভাবিক। কিন্তু এই ঘটনার কারণে যতটা আলোচনা হচ্ছে তার চেয়ে অনেক বেশি হচ্ছে ওই ভিডিওতে ঢাকা ভার্সিটির নাম আসায়। যারা সমালোচনা করছেন তাদের বেশিরভাগই ওই ঘটনা নিয়ে কিছু বলছেন না, তাদের আক্রমণের লক্ষ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়! ঘটনাটি বিশ্লেষণ করা যাক। যে ভিডিও নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেটিতে একবার বলতে শোনা গেছে ‘আমরা ঢাকা ভার্সিটির মাস্তান’ আর গাড়িটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকার দেখা গেছে। ওই ভিডিওর কোথাও ওই লোকটিকে বলতে শোনা যায়নি ‘আমি ঢাকা ভার্সিটির শিক্ষক’। তিনি বলেছেন: "শিক্ষক বইসা আছে গাড়িতে, আমিও একজন শিক্ষক।" এতে ধারণা কর

By সাখাওয়াত আল আমিন on সোমবার, ১৯ জুন ২০১৭ ১৬:০৮

বাংলাদেশে শিক্ষা সংস্কারে একটি দরকারি ও প্রশংসনীয় উদ্যোগের কি দুর্গতি হয়েছিল সেই গল্প দিয়ে শুরু করি। ১৯৭৮-৭৯ সালের ঘটনা। প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শিক্ষা সংস্কারে আন্তরিকভাবেই উদ্যোগী হলেন। এসএসসি পর্যায়ে ‘নিরক্ষরতা দূরীকরণ’ বিষয়ক একটি ব্যবহারিক ক্লাস বাধ্যতামূলক করলেন। পাশের নিয়ম করা হলো যে ক্লাস নাইনে উঠা প্রত্যেক ছাত্র তার পরিবার বা প্রতিবেশিদের মধ্য থেকে একজন করে নিরক্ষর মানুষ খুঁজে করবে। তারপর নিরক্ষর মানুষটিকে অক্ষর ও সংখ্যাজ্ঞান দিবে। পত্রিকা পড়তে, চিঠি লিখতে এবং হিসাবনিকাশ লিখে রাখতে সক্ষম সাক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন হয়ে উঠায় সাহায্য করবে। নইলে এসএসসি ডিগ্রী মিলবে না। খুবই সহজ কাজ। ছাত্রছাত্রীদের আনন্দের সঙ্গেই করতে পারার কথা। কিন্তু বাংলাদেশিদের দুই নম্বরি বুদ্ধি উদ

By হেলাল মহিউদ্দীন on সোমবার, ১৯ জুন ২০১৭ ১২:৪২