ফজলুর রহমান
ফজলুর রহমান

লেখক, সাংবাদিক।

    তিনি ঢাকাই সিনেমার প্রথম ‘রংবাজ’। স্বাধীন বাংলাদেশে তাকে কেন্দ্রীয় চরিত্র করে জহিরুল হক রংবাজ নামে যে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করলেন; তা ঢাকাই সিনেমার ব্যবসায় একটা মোটা দাগ এঁকে দিয়েছিলো। অবশ্য এর অনেক আগেই তিনি নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছিলেন।মানুষের ইতিহাসে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বরাবরই বেদনার কালোফুল হয়ে ফুটেছে দেশে দেশে। কলকাতার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় উদ্বাস্তু হয়ে ঢাকায় আসতে হয়েছিলো অভিনেতা রাজ্জাককে। তারপর বেঁচে থাকার জন্য, টিকে থাকার জন্য লড়াই-সংগ্রামের লম্বা অধ্যায়। তবে প্রতিভার জোরে তিনি হালে পানি পেয়েছিলেন এবং একটু একটু করে নির্মাণ করে নিয়েছিলেন নিজের আসনটি। এদেশে মানুষ তাকে ‘নায়করাজ’ হিসেবেই মেনে নিয়েছিলেন। এবং দীর্ঘসময় ধরে আমাদের চলচ্চিত্র আর রাজ্জাক ছিলেন সম

    By ফজলুর রহমান on মঙ্গলবার, ২২ অগাস্ট ২০১৭ ১৩:৩৭

    যখনি তাকে প্রশ্ন করা হতো ‘কত দিন বেঁচে থাকতে চান?’ দ্বিতীয় ভাবনা যোজন যোজন দূরে ঠেলে দিয়ে স্মিত হেসে তিনি উত্তর দিতেন, ‘পাঁচ হাজার বছর’। সত্যিই তো, কবিরা পাঁচ হাজার বছর বাঁচলে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই আয়ু পেলে, অথবা শামসুর রাহমান যদি পেতেন; তাহলে পৃথিবী কবিতার লালিত্যে কিছুটা হলেও কোমল হতো।১৭ আগস্ট , ২০০৬ সালের এ দিনে কবি শামসুর রাহমান চলে গেছেন তার ‘স্মৃতির শহর’ ছেড়ে। এখন তিনি কোথায় আছেন, কেমন আছেন তা অন্তত আমরা জানি না। তবে তার কবিতা, তার কিছু গান, তার গদ্য জ¦লজ¦লে এক একটি পোস্টার হয়ে দ্যুতি ছড়াচ্ছে পাঠক হৃদয়ে। এক্ষণে এই প্রশ্নটা উঠতেই পারে; সত্যিই তার কবিতা উচ্চারিত হচ্ছে আজ, প্রতিদিন? অন্তত আজ, তিনি কি কোথাও বাজছেন?শামসুর রাহমানের অনেক গুণ। সবেচেয়ে বড় গুণ, তিনি কবি। তার পরিচয় তিনি কবি শা

    By ফজলুর রহমান on বৃহস্পতিবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৭ ১৪:৩৯

    একটা শহরে কোনো ‘পাবলিক ট্রান্সপোর্ট’ নেই। এটা ভাবা যায়? হতে পারে? পারে না; কিন্তু তা-ই হচ্ছে, এই মেট্রোপলিটন ঢাকা শহরে এবং এর দায়-দায়িত্ব কেউ নিচ্ছে না।মহানগর ঢাকাকে উত্তর-দক্ষিণে দু’ভাগ করা হয়েছে। নগরবাসী দু’জন আধুনিক নগরপতিাও পেয়েছে। সেই পিতারা নগরকে সুন্দর করার জন্য গলদঘর্ম হচ্ছেন। মানতে বাধ্য হচ্ছি ‘হাতিরঝিল বহুমুখি প্রকল্প’ ঢাকাকে নতুন সৌন্দর্যে নিয়ে গেছে। কুড়িলসহ আরো ক’টি ফ্লাইওভার ঢাকার গতি একটু বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই বলে এমন হবে নগর পরিবহণ ব্যবস্থা?বিআরটিসি’র নামে শহরে কটি বাস চলে, তবে এগুলো কারা চালায় তা নগরবাসীর জানা নেই। ক্রমাগত লোকসান দিতে দিতে দশা এমন হয়েছিলো যে বিআরটিসি বাসগুলো লিজ দিয়ে দেয় মাফিয়াদের কাছে। এরপর প্রশ্ন হলো কোটি মানুষের মহানগরে ওই কটি বাস কী করতে

    By ফজলুর রহমান on মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১১:৫৯

    তার সময়ে সেরা রাজনীতিটা করে চলেছেন তিনি। উদাহরণ আসছে একে একে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মানে আমেরিকা নামে পৃথিবীতে একটি বড় এবং মহাশক্তিধর দেশ আছে। নথিপত্র সাক্ষ্য দেয়, বাংলাদেশের জন্মকালে ওই দেশটি নীতিগতভাবে, মানসিকভাবে এবং সামরিকভাবে প্রবল বিরোধিতা করেছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সাধ মিটিয়ে দিতে সপ্তম নৌবহর পর্যন্ত ঠিয়েছিল। আর সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষ যেন না খেয়ে মরে তার জন্য খাদ্যবাহী জাহাজ সমুদ্রে ডুবিয়ে দিতেও কুণ্ঠা বোধ করেনি দেশটি। সে সঙ্গে বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে উপহাস করতেও ছাড়েনি। এমনকি নিকট অতীতে এক যুদ্ধপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ফোনও করেছিলেন।সেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ২৯ আগস্ট দিল্লি যাও

    By ফজলুর রহমান on মঙ্গলবার, ৩০ অগাস্ট ২০১৬ ১৪:২৫

    মাত্র ৩৭ বছরের একটা জীবন, এটুকুতেই নাড়িয়ে দিয়ে গেছেন অনেক কিছু। ধরা যাক তিনি আর কিছুই করেননি, এক ‘জীবন থেকে নেয়া’-ই করেছেন। তাতেই পাকাপাকি হয়ে গেলো তার জায়গা। ১৯৭০ সালে, মহান মুক্তিযুদ্ধের এক বছর আগে যে সিনেমা তিনি বানিয়ে গেলেন তাতে কী ছিল না!‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’-বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হওয়ার আগেই তিনি এই সিনেমায় এ গানকে গ্রহণ করে, বাঙালির নরম হৃদয়ে তা গেথে দিয়েছিলেন। আর ওই যে একুশে ফেব্রুয়ারির সকালে খোলা পায়ে প্রভাত ফেরি, শহীদ মিনার, তার আগে এমন করে কেউ ব্যবহার করেননি সিনেমায়!মাত্র ৩৭ বছরের একটা জীবন। কত কাজ করেছেন, আর রীতিমত আগুনের ওপর দিয়ে হেঁটে গেছেন তিনি। ১৯৭১ সাল, দেশ যখন বিপন্ন তখন মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক, কবি, গীতিকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপ লিখিয়ে,

    By ফজলুর রহমান on শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৬ ১০:৫৯

    কোনো এক জন্মদিনে কবি শামসুর রাহমানের কাছে জানতে চেয়েছিলাম ‘কতদিন বাঁচতে ইচ্ছে করছে?’ লাবণ্যধরা হাসি ছড়িয়ে দিয়ে জবাব ফিরিয়ে ছিলেন, ‘লিখে দাও, পাঁচ হাজার বছর।’ কথাটার মানে তখন বুঝতে পারিনি। তিনি চলে যাওয়ার পর একটু একটু করে বুঝেছি এই আকাঙ্ক্ষা একজন কবির কবিতার জন্য, সুন্দরের জন্য। শামসুর রাহমান কবিতার জন্য জীবন যাপন করেছেন। বেঁচেছেন সুন্দরের জন্য এবং তিনি বেঁচে আছেন তার কবিতায় আর সৌন্দর্যে।তিনি ছিলেন ইচ্ছে ডানায় ভরকরা এক রাজপুত্তুর। ‘ইচ্ছা’ কবিতায় তিনি লিখছেন-‘যদি বাঁচি চার দশকের বেশিলিখব।যদি বাঁচি দুই দশকের কমলিখব।যদি বেঁচে যাই একটি দশক লিখব।যদি বেঁচে যাই দু’চার বছরলিখব।যদি বেঁচে যাই এক মাস কাললিখব।যদি বেঁচে যাই একদিন আরওলিখব।’সত্যি তিনি লিখেছেন। যতক্ষণ বেঁচে ছিলেন কবিতার সঙ

    By ফজলুর রহমান on বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৬ ১২:২৪

    বাঙালির একটা বড় শক্তির নাম শেখ মুজিবুর রহমান, বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশের স্থপতি তিনি। বিশাল হৃদয়ের মানুষ তিনি। গড়পরতা বাঙালির চেয়ে উচ্চতায় অনেক অনেক বড় তিনি। জানা ইতিহাসে বাঙালি কখনোই স্বাধীন ছিল না। সেই চিরপরাধীন জাতিকে বঙ্গবনধু স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছেন, এবং সেই স্বাধীনতা অর্জন করে দেখিয়েছেন। এসব কথা, বহুবার, বহুভাবে লেখা হয়েছে। বলা হয়েছে, বলা হচ্ছে। ঘরে-বাইরে দেশে বিদেশে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রতিদিন আলোচনা, কথার শেষ নেই। তার জীবন, তার রাজনীতি, তার সংগ্রাম, তাকে ঘিরে ষড়যন্ত্র এবং তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা, এসব কিছু নিয়ে দুনিয়া জুড়ে গবেষণা হচ্ছে। হতেই থাকবে। এসবের বাইরে বঙ্গবন্ধুর নিজের একটা উপলদ্ধির কথা স্মরণ করা যেতে পারে সবার আগে। আমার সবচেয়

    By ফজলুর রহমান on মঙ্গলবার, ০৯ অগাস্ট ২০১৬ ১৮:২৩

    এই শহরে, ঢাকা শহরে, একলা চলা মানুষের বিপদ ও আপদের কমতি নেই। যখন তখন শিকার হয়ে যেতে পারে যে কেউ। ঈদ-পার্বণকে কেন্দ্র করে শহরের পথে, বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশন আর লঞ্চঘাটে আপদ ওৎ পেতে থাকে অতিমাত্রায়।১. ভরদুপুর কিংবা সন্ধ্যা নামার একটু আগে। আপনি একটু আনমনে হাঁটছেন ফুটপাত ধরে। ব্যস শিকার হয়ে যাবেন। খুব বন্ধুর মতো ওরা আপনাকে ঘিরে ধরবে। ঘাড়ে হাত দেবে বন্ধুত্বমাখা শব্দ দিয়ে। এরই মধ্যে একজন বলবে, ‘যা আছে দিয়ে দাও। খবরদার চেঁচামেচি করবে না। আমাদের কাছে অস্ত্র আছে।’ সঙ্গে এটাও বলবে মুখ যেন হাসি হাসি রাখেন আপনি। শত শত মানুষ যাবে আপনার দুদিক দিয়ে কেউ টেরও পাবে না কী ঘটছে। তারা দেখছে বন্ধুরা একটু ঠাট্টা-তামাশা করছে হয়তো!২. একটু নির্জন পথ বা ফুটপাত। হন হন করে ছুটছেন আপনি। উল্টো দিক থেকে একজন বা দুজন, ইচ্

    By ফজলুর রহমান on মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০১৬ ১৪:০১

    কবিতা লিখে জেল খাটা আর জীবন দেয়ার ঘটনা জগতে খুবই হাতেগোনা। কাজী নজরুল ইসলাম কবি, তিনি কবিতা লেখার দায়ে ব্রিটিশ ভারতে জেলবন্দি হয়েছেন। আপন জীবনছন্দে থাকা নজরুল একদা দেখে শুনে ক্ষেপে গিয়েছিলেন। ধরা যাক তিনি এখন এই বাংলাদেশে কবিতা লিখছেন; এবং দেখে-শুনে ক্ষেপে যাচ্ছেন বার বার। তখন কাণ্ডটা কী হতো! আমি নিশ্চিত কবিতা লেখার দায়ে তাকে এই স্বাধীন বাংলাদেশে জেলে যেতে হতো। কেনো?১. একজন সাধারণ নাট্যকর্মী সোহাগী আক্তার তনুর নির্মম হত্যাকাণ্ডে তিনি ‘দেখিনা কী হয়’ ভূমিকা পালন করতে পারতেন না। তিনি আগুন ধরানো কবিতা লিখতেন, যা শাসককুল সহ্য করতে পারতো না। অতএব তার নিশ্চিত জেল বাস।২. গানের মানুষ, সংস্কৃতির মানুষ অধ্যাপক রেজাউল করিমের মৃত্যু তাকে বিচলিত করতো। তিনি যন্ত্রণায় ছটফট করতেন। হয়তো ছুটে যেতেন

    By ফজলুর রহমান on বুধবার, ২৫ মে ২০১৬ ১২:৫৯

    তাহলে দেশে সেলিম ওসমানের শাসন কায়েম হোক। সংবিধান স্থগিত হয়ে যাক। প্রয়োজনে দেশের নামটাও বদলে দিয়ে রাখা যেতে পারে ‘ওসমানিয়া রাজতন্ত্র।আইন যখন তিনি নিজের হাতে তুলে নিলেন। শাস্তি দিলেন একজন শিক্ষককে এবং সেই কাজ নিয়ে যখন তিনি দম্ভই করছেন তখন এমনটাইতো আমরা দেখতে চাই।হাজার হাজার মানুষের সামনে একজন প্রধান শিক্ষককে কান ধরে ওঠবস করালেন তিনি। তার আগে সেই শিক্ষকের গায়ে হাত তুললেন। সংসদ সদস্য এই প্রভাব খাটিয়ে লাঞ্ছিত শিক্ষকের পদ খেলেন। ঘটনায় যখন দিকে দিকে প্রতিবাদ হলো, সরকারের নীতি-নির্ধারকরা বললেন ‘এটা অন্যায় হয়েছে’। শিক্ষক অবমাননায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিবাদী কণ্ঠ মুখর হলো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিচারের দাবি উঠলো। দোষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে আদালত রুল দিলেন।ঠিক তখন সংবাদ স

    By ফজলুর রহমান on বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০১৬ ১৭:২৪