ফজলুর রহমান
ফজলুর রহমান

লেখক, সাংবাদিক।

    বুধবারের সন্ধ্যাবেলা। অক্টোবরের ১৮ তারিখ, সাল ২০১৭। মহাখালী থেকে উত্তরের রাজপথ, ঝিমধরে আটকে আছে। কেউ সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছে না অচল হয়ে যাওয়া পথ কখন সচল হবে! দিন শেষে যারা ঘরে ফিরবে এই শহরের, কিংবা যাবে আরো দূরে অন্যকোনো শহরে বা গ্রামে তারা অসহায়! উপায়-বুদ্ধি না পেয়ে অনেকে হাঁটতে শুরু করে দক্ষিণ থেকে উত্তরে। সেই হাঁটার দলে, হাঁটার মিছিলে নিজেকেও সামিল করে নিতে হয় অগত্যা।কেনো এমন? বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তিন মাস পর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরবেন। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজপথে তাকে নেতাকর্মীরা অভ্যর্থনা জানাবেন এটাই স্বাভাবিক। এখনো এই হা-রাজনীতির দেশে; রাজনীতিবিদরা ভরসার স্থল সাধারণ মানুষের কাছে। আর চরিত্রটি যদি হন খালেদা জিয়া তাহলে বলার অপেক্ষাই রাখে না তাকে দ

    By ফজলুর রহমান on বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৭ ১৪:০৭

    মাথার ওপর অসীম শূন্য আকাশ। পায়ের তলায় নরম যে মাটি তাও বেগানা। কতগুলো মানুষ। কতগুলো শিশু; ভবিষ্যতহীন। এই যদি হয় একটা সিনেমার বিষয়, তবে তার নাম কী হবে?এক. বর্ষা পেরিয়ে তখন শরৎকাল। তবে বর্ষার দাপট শেষ হয়নি। টানা বৃষ্টি চলছেই। সেই বৃষ্টির মধ্যেই গভীর অনিশ্চয়তার বাতাসে জন্ম নেয় একটি শিশু। মায়ের কোলে হাত-পা নেড়ে সে কেঁদে উঠে। মায়ের কোলে শিশুর সেই কান্নার দৃশ্য দিয়েই সিনেমার শুরু।দুই. তারপর অনেক অনেক দৃশ্য। সবই বেদনার। এসব দৃশ্যে নীল আকাশ নেই, নেই সমুদ্রবিলাস বা অরণ্যের দিনরাত্রির কাব্যকথা। শিশু কাঁদছে। মায়ের উদাসীন-ভরসাহারা দৃষ্টি। কাদাজলে পড়ে থাকা চালকুড়ানো এক অসহায় নারীর মুখ, অসুস্থ অচল মানুষকে ভাড়ে করে বয়ে নেয়া, পানের একটু পানির জন্য বিপদসঙ্কুল পথ পাড়ি দেয়া নারী, ত্রাণের জন্য ভিড়

    By ফজলুর রহমান on রবিবার , ০৮ অক্টোবর ২০১৭ ২১:৪৬

    বাঙালি আর কিছু এমন করে মনে রাখেনি শায়েস্তা খাঁর শাসনামলের! ‘টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেতো’- এটাই ওই আমলের সবচেয়ে বড় কীর্তি। সেসময়ে সরকারি বড় থেকে ছোট কর্তার বেতন, সাধারণ মানুষের আয়-রোজগার কত ছিলো, সে কথা সাধারণের বিবেচ্য নয়, বড় কথা টাকায় আট মণ চাল।প্রশ্ন, সেসময়ও কি এ ভূ-খণ্ডের সাধারণ মানুষ ভালো ছিলো ?‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে’- প্রায় ৩০০ বছর আগে বাংলার কবি তার সন্তান, আগামীর বাঙালির জন্য এমন প্রার্থনা করেছিলেন। কথা স্পষ্ট যে, তখনো বাঙালি সন্তান দুধে-ভাতে ছিলো না। থাকলে কি আর ওই কথা কবি বলতেন না! একদা বাঙালির গোলাভরা ধান আর গোয়ালভরা গরু ছিলো- এ কথাটাও কি সব বাঙালির বেলায় প্রযোজ্য ? আর ওই যে বলে, ‘মাছে ভাতে বাঙালি’- সে কথাও টিকছে কই ? পরিস্থিতি যা তাতে মনে হচ্ছে বাঙালির ভাতেই টান পড়েছে; এবং

    By ফজলুর রহমান on সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১৪:৩৪

    সত্যি সত্যি, এই শহরকে কি আমরা ভালোবাসি? নিজের শহর মনে করি? বিগত কয়েক মাসে, গরম আর বৃষ্টিকালে, এই শহরের সংবাদকর্মী, চিকিৎসক, শিক্ষক, আইনজীবী, রিকসা চালক, স্কুটার-বাস ড্রাইভার, ঘামে মাখামাখি বাসের নিত্য প্যাসেঞ্জার - যার সঙ্গেই কথা হয়েছে দেখেছি এই শহরের নানা অব্যবস্থাপনা, অসঙ্গতি নিয়ে তারা তিতিবিরক্ত। তারা বলেছেন, ‘যদি একটু সুযোগ থাকতো, তাহলে আজই এই শহরকে ‘গুডবাই’ বলে চলে যেতাম। এই শহরে মানুষ থাকে!’প্রশ্ন, তাহলে এই শহরে আমরা যারা থাকছি, ধরা যাক বাধ্য হয়েই বসবাস করছি; জন্ম নিচ্ছি, বেড়ে উঠছি, পড়ছি, জীবন গড়ছি, চাকরি করছি, ব্যবসা করছি, প্রেম করছি-বিয়ে করছি, ঝগড়া করছি, মারামারি করছি, বাড়ি বানাচ্ছি, গাড়ি কিনছি, সন্তান জন্ম দিচ্ছি, তাদের বড় করার স্বপ্ন দেখছি এবং একদিন অনিবার্য টানে চলে যাচ্ছি - তারা

    By ফজলুর রহমান on বুধবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১৮:৪৮

    তিনি ঢাকাই সিনেমার প্রথম ‘রংবাজ’। স্বাধীন বাংলাদেশে তাকে কেন্দ্রীয় চরিত্র করে জহিরুল হক রংবাজ নামে যে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করলেন; তা ঢাকাই সিনেমার ব্যবসায় একটা মোটা দাগ এঁকে দিয়েছিলো। অবশ্য এর অনেক আগেই তিনি নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছিলেন।মানুষের ইতিহাসে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বরাবরই বেদনার কালোফুল হয়ে ফুটেছে দেশে দেশে। কলকাতার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় উদ্বাস্তু হয়ে ঢাকায় আসতে হয়েছিলো অভিনেতা রাজ্জাককে। তারপর বেঁচে থাকার জন্য, টিকে থাকার জন্য লড়াই-সংগ্রামের লম্বা অধ্যায়। তবে প্রতিভার জোরে তিনি হালে পানি পেয়েছিলেন এবং একটু একটু করে নির্মাণ করে নিয়েছিলেন নিজের আসনটি। এদেশে মানুষ তাকে ‘নায়করাজ’ হিসেবেই মেনে নিয়েছিলেন। এবং দীর্ঘসময় ধরে আমাদের চলচ্চিত্র আর রাজ্জাক ছিলেন সম

    By ফজলুর রহমান on মঙ্গলবার, ২২ অগাস্ট ২০১৭ ১৩:৩৭

    যখনি তাকে প্রশ্ন করা হতো ‘কত দিন বেঁচে থাকতে চান?’ দ্বিতীয় ভাবনা যোজন যোজন দূরে ঠেলে দিয়ে স্মিত হেসে তিনি উত্তর দিতেন, ‘পাঁচ হাজার বছর’। সত্যিই তো, কবিরা পাঁচ হাজার বছর বাঁচলে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই আয়ু পেলে, অথবা শামসুর রাহমান যদি পেতেন; তাহলে পৃথিবী কবিতার লালিত্যে কিছুটা হলেও কোমল হতো।১৭ আগস্ট , ২০০৬ সালের এ দিনে কবি শামসুর রাহমান চলে গেছেন তার ‘স্মৃতির শহর’ ছেড়ে। এখন তিনি কোথায় আছেন, কেমন আছেন তা অন্তত আমরা জানি না। তবে তার কবিতা, তার কিছু গান, তার গদ্য জ¦লজ¦লে এক একটি পোস্টার হয়ে দ্যুতি ছড়াচ্ছে পাঠক হৃদয়ে। এক্ষণে এই প্রশ্নটা উঠতেই পারে; সত্যিই তার কবিতা উচ্চারিত হচ্ছে আজ, প্রতিদিন? অন্তত আজ, তিনি কি কোথাও বাজছেন?শামসুর রাহমানের অনেক গুণ। সবেচেয়ে বড় গুণ, তিনি কবি। তার পরিচয় তিনি কবি শা

    By ফজলুর রহমান on বৃহস্পতিবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৭ ১৪:৩৯

    একটা শহরে কোনো ‘পাবলিক ট্রান্সপোর্ট’ নেই। এটা ভাবা যায়? হতে পারে? পারে না; কিন্তু তা-ই হচ্ছে, এই মেট্রোপলিটন ঢাকা শহরে এবং এর দায়-দায়িত্ব কেউ নিচ্ছে না।মহানগর ঢাকাকে উত্তর-দক্ষিণে দু’ভাগ করা হয়েছে। নগরবাসী দু’জন আধুনিক নগরপতিাও পেয়েছে। সেই পিতারা নগরকে সুন্দর করার জন্য গলদঘর্ম হচ্ছেন। মানতে বাধ্য হচ্ছি ‘হাতিরঝিল বহুমুখি প্রকল্প’ ঢাকাকে নতুন সৌন্দর্যে নিয়ে গেছে। কুড়িলসহ আরো ক’টি ফ্লাইওভার ঢাকার গতি একটু বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই বলে এমন হবে নগর পরিবহণ ব্যবস্থা?বিআরটিসি’র নামে শহরে কটি বাস চলে, তবে এগুলো কারা চালায় তা নগরবাসীর জানা নেই। ক্রমাগত লোকসান দিতে দিতে দশা এমন হয়েছিলো যে বিআরটিসি বাসগুলো লিজ দিয়ে দেয় মাফিয়াদের কাছে। এরপর প্রশ্ন হলো কোটি মানুষের মহানগরে ওই কটি বাস কী করতে

    By ফজলুর রহমান on মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ১১:৫৯

    তার সময়ে সেরা রাজনীতিটা করে চলেছেন তিনি। উদাহরণ আসছে একে একে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মানে আমেরিকা নামে পৃথিবীতে একটি বড় এবং মহাশক্তিধর দেশ আছে। নথিপত্র সাক্ষ্য দেয়, বাংলাদেশের জন্মকালে ওই দেশটি নীতিগতভাবে, মানসিকভাবে এবং সামরিকভাবে প্রবল বিরোধিতা করেছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সাধ মিটিয়ে দিতে সপ্তম নৌবহর পর্যন্ত ঠিয়েছিল। আর সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষ যেন না খেয়ে মরে তার জন্য খাদ্যবাহী জাহাজ সমুদ্রে ডুবিয়ে দিতেও কুণ্ঠা বোধ করেনি দেশটি। সে সঙ্গে বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে উপহাস করতেও ছাড়েনি। এমনকি নিকট অতীতে এক যুদ্ধপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ফোনও করেছিলেন।সেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ২৯ আগস্ট দিল্লি যাও

    By ফজলুর রহমান on মঙ্গলবার, ৩০ অগাস্ট ২০১৬ ১৪:২৫

    মাত্র ৩৭ বছরের একটা জীবন, এটুকুতেই নাড়িয়ে দিয়ে গেছেন অনেক কিছু। ধরা যাক তিনি আর কিছুই করেননি, এক ‘জীবন থেকে নেয়া’-ই করেছেন। তাতেই পাকাপাকি হয়ে গেলো তার জায়গা। ১৯৭০ সালে, মহান মুক্তিযুদ্ধের এক বছর আগে যে সিনেমা তিনি বানিয়ে গেলেন তাতে কী ছিল না!‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’-বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হওয়ার আগেই তিনি এই সিনেমায় এ গানকে গ্রহণ করে, বাঙালির নরম হৃদয়ে তা গেথে দিয়েছিলেন। আর ওই যে একুশে ফেব্রুয়ারির সকালে খোলা পায়ে প্রভাত ফেরি, শহীদ মিনার, তার আগে এমন করে কেউ ব্যবহার করেননি সিনেমায়!মাত্র ৩৭ বছরের একটা জীবন। কত কাজ করেছেন, আর রীতিমত আগুনের ওপর দিয়ে হেঁটে গেছেন তিনি। ১৯৭১ সাল, দেশ যখন বিপন্ন তখন মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক, কবি, গীতিকার, চিত্রনাট্যকার, সংলাপ লিখিয়ে,

    By ফজলুর রহমান on শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৬ ১০:৫৯

    কোনো এক জন্মদিনে কবি শামসুর রাহমানের কাছে জানতে চেয়েছিলাম ‘কতদিন বাঁচতে ইচ্ছে করছে?’ লাবণ্যধরা হাসি ছড়িয়ে দিয়ে জবাব ফিরিয়ে ছিলেন, ‘লিখে দাও, পাঁচ হাজার বছর।’ কথাটার মানে তখন বুঝতে পারিনি। তিনি চলে যাওয়ার পর একটু একটু করে বুঝেছি এই আকাঙ্ক্ষা একজন কবির কবিতার জন্য, সুন্দরের জন্য। শামসুর রাহমান কবিতার জন্য জীবন যাপন করেছেন। বেঁচেছেন সুন্দরের জন্য এবং তিনি বেঁচে আছেন তার কবিতায় আর সৌন্দর্যে।তিনি ছিলেন ইচ্ছে ডানায় ভরকরা এক রাজপুত্তুর। ‘ইচ্ছা’ কবিতায় তিনি লিখছেন-‘যদি বাঁচি চার দশকের বেশিলিখব।যদি বাঁচি দুই দশকের কমলিখব।যদি বেঁচে যাই একটি দশক লিখব।যদি বেঁচে যাই দু’চার বছরলিখব।যদি বেঁচে যাই এক মাস কাললিখব।যদি বেঁচে যাই একদিন আরওলিখব।’সত্যি তিনি লিখেছেন। যতক্ষণ বেঁচে ছিলেন কবিতার সঙ

    By ফজলুর রহমান on বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৬ ১২:২৪