আহসান কামরুল
আহসান কামরুল

লেখক Facebook Profile

একুশে বইমেলা বাঙালির অন্যতম উৎসবের নাম। লাখো পাঠক মুখিয়ে থাকেন প্রিয় লেখকের নতুন বই, অটোগ্রাফ আর তার সরাসরি সাক্ষাৎ লাভের আশায়। ফেব্রুয়ারির এই মেলায় স্টলে ঘুরে ঘুরে নতুন বইয়ের গন্ধ নেয়া, সবশেষে বই কিনে বাড়ি যাওয়ার আনন্দটাই আলাদা। এতো গেলো পাঠকের অনুভূতির কথা; যারা এই আয়োজনকে ঘিরে পাঠকদের জন্য বসিয়ে যান অক্ষরের পর অক্ষর, পাঠককে নিজের শিল্পসত্তার সেরাটা দিতে যারা পরিশ্রম করে যান দিনের পর দিন এবং রাতের পর রাত, তাদের অনভূতিটা কেমন? তাদের অনভূতি জানতে চলুন আমরা ঘুরে আসি ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের কিছু ফেসবুক স্ট্যাটাসে। ওই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির একটি স্ট্যাটাস ছিল এমন: ‘আজ বইমেলার শেষ দিন। ভাঙনের সুর বাজবে দিনমান। আবার অপেক্ষা, আগামী ফেব্রুয়ারির। সেই ফেব্রুয়ারিতে সবাই থাকবো তো? আমা

By আহসান কামরুল on বুধবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭ ১২:২৩

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো বর্মী বাহিনীর জাতিগত নিধনের একবারে শুরু থেকে দিনের পর দিন এবং মাসের পর মাস পার হলেও ভারত, চীন এবং রাশিয়া মিয়ানমার সরকারকে নির্লজ্জ সমর্থন দিয়ে আসছে। প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদে ভরপুর রাখাইনে নিজেদের প্রকল্প এবং আঞ্চলিক স্বার্থে তারা এই মানবিক সংকটেও অমানবিকতার পরিচয় দিয়ে আসছে। এমনকি তাদের মিয়ানমারপ্রীতি এতটাই ছিল যে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষ বৈঠকসহ বিভিন্ন ফোরামে তাদের ‘ভেটো’র কারণে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তেমন কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তবে এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ব্যতিক্রম ছিল। এই সংকটের শুরু থেকেই অমানবিকতার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ছিল সোচ্চার। বর্মী জেনারেলদের চালানো জাতিগত নিধনের বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর

By আহসান কামরুল on সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭ ২৩:৪৮

ইন্টারনেট আর মুঠোফোনের এই যুগে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও তাদের স্থানীয় দোসরদের চালানো ‘জাতিগত নিধন’-এর কথা এখন বিশ্বের প্রায় সব মানুষই জানে। এ কারণে নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের প্রতি বিশ্ব জনমত তৈরি হওয়ার কারণে বেশ চাপে আছে মিয়ানমার। গুটিকয়েক দেশ ছাড়া জাতিসংঘ থেকে শুরু করে বিশ্বের প্রায় সকল সংস্থা এবং দেশ মিয়ানমারকে নিজেদের নৃশংসতা বন্ধের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের সুপারিশ বাস্তবায়ন করে রোহিঙ্গাদের নিজ বাসভূমিতে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য অহরহ চাপ দিচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্টেনিও গুতেরেস শুরু থেকেই রোহিঙ্গা ইস্যুতে বেশ সরব। এ বিষয়ে অনেকবার কথা বলেছেন তিনি। প্রতিবার তিনি রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করে এ বিষয়ে শান

By আহসান কামরুল on বুধবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৭ ১০:৫৬

রাখাইনে রাষ্ট্রীয় মদদে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে আসায় কক্সবাজারে মানবিক বিপর্যয় চলছে। তারা এখানে এসে ওই নির্যাতনের বিষয়ে যে ভয়াবহ বর্ণনা দিচ্ছেন, তা সত্যিই হৃদয়বিদারক। এ কারণে স্বাভাবিকভাবে রাষ্ট্রীয় হুমকিসহ আরও অন্যান্য ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মানবিক দিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। অবশ্য শুরুর দিকে আঞ্চলিক রাজনীতি ও স্বার্থের কারণে চীন-ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশের অমানবিক অবস্থান লক্ষ্য করা গেলেও ঘরহারা এসব মানুষের পক্ষে মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল জনমতের কারণে তারাও এসব শরণার্থীকে সহযোগিতা করতে এবং তাদের হারানো ঘরবাড়ি ও নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে মিয়ানমারকে চাপ দিতে বাধ্য হয়েছে। এক্ষেত্রে বাংল

By আহসান কামরুল on সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১৩:৫৪

সাধারণভাবে একজন চাকরিজীবীর কথা যদি আমরা হিসাব করি তাহলে দেখা যায়, সারা মাস মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পরিশ্রমের পর তিনি যখন বেতন পান তখন তার বেতনের নির্ধারিত অংশ ট্যাক্স বাবদ সরকারি কোষাগারে জমা হয়। ঠিক একইভাবে একজন ব্যবসায়ীর কথা যদি চিন্তা করা হয় তাহলেও একই অবস্থা দেখা যাবে। এভাবেই সকল পেশার মানুষ সর্বোপরি দেশের সাধারণ জনগণের পরিশ্রমের টাকায় ভ্যাট-ট্যাক্সে ভারী করে তোলা হয় সরকারি কোষাগার। উদ্দেশ্য দেশ পরিচালনা এবং উন্নয়নের প্রয়োজনে যাতে চাহিদামত যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করা যায়। জনগণের রক্ত পানি করা এ টাকার হরিলুটের খবর নতুন কিছু নয়। সর্বশেষ আমরা দেখেছি সরকারি খরচে হজের নামে ৩১৮ জনকে সৌদি আরবে পাঠানো হচ্ছে। তাদের প্রত্যেকের পেছেনে গড়ে কমপক্ষে ৪ লাখ টাকা করে খরচ হবে। সেই হিসাবে ৩১৮ জন

By আহসান কামরুল on রবিবার , ১৩ অগাস্ট ২০১৭ ১৪:১৮

সবাই ঝা চকচকে পোশাকে। বেগম জিয়া নিজেও। কোলাকুলি আর হাসিমুখে আনন্দময় একটা পরিবেশ। বিএনপির আনন্দ একটু বেশি, কারণ সদ্য কারামুক্ত জামায়াত-শিবির নেতারাও সেখানে এসেছেন। অথচ সেই আনন্দময় পরিবেশেও বেগম জিয়া বললেন, এবার কেউ শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ পালন করতে পারেনি! ঈদের দিন জমকালো আয়োজনে খালেদা জিয়া এই কথাগুলো বলেছেন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সন্মেলন কেন্দ্রে। সরকার বিএনপি চেয়ারপার্সনের ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বাধা দেয়নি, এটা তার প্রমাণ। অবশ্য বিএনপির পক্ষ থেকেও ‘সরকার ঈদে অশান্তি সৃষ্টি করছে’ বলেও কোন অভিযোগ ছিল না। তবে হঠাৎ কেন বেগম জিয়ার মনে হলো ‘এবার দেশে কেউ শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ পালন করতে পারেনি?’ বিএনপি চেয়ারপার্সনের এমন গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সাধারণ মানুষের ঈ

By আহসান কামরুল on মঙ্গলবার, ২৭ জুন ২০১৭ ১৬:০৩

রাজধানীর বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সোচ্চার হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে রেইনট্রি হোটেলে তদন্ত করতে যায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরও। এই দুই ঘটনার মধ্যেই সেই রাতে (ধর্ষণের রাতে) আপত্তিকর কোনো কিছু ঘটেনি বলে দাবি করে হোটেল কর্তৃপক্ষ। তবে তাদের বক্তব্যে স্ববিরোধী ও অসংলগ্ন কথাবার্তা লক্ষ্য করা গেছে। তারা বলছে, ১. ঘটনার রাতে হোটেলের স্ক্যানার মেশিন অকার্যকর থাকায় কোনো ব্যক্তি মদ নিয়ে হোটেলে ঢুকেছিলো কি না তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ২. সেদিন (২৮ মার্চ) অস্ত্র ফ্রন্ট ডেস্কে জমা দিয়ে হোটেলে প্রবেশ করেছিল সাফাত, সাদমান ও নাঈমরা। ফলে ধর্ষণের শিকার দুই তরুণী অস্ত্রের মুখে ধর্ষণ

By আহসান কামরুল on রবিবার , ১৪ মে ২০১৭ ১১:০০

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময়ের বহুল প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলার মামলায় জঙ্গিদের গডফাদার মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। অাজ কাশিমপুর কারাগারে এই ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়। নানা অপকর্ম দিয়ে নিজেকে ভয়ঙ্কর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা শতাধিক নিরাপরাধ মানুষের হন্তারক শীর্ষ এই জঙ্গির ফাঁসি কার্যকরের মাধ্যমে  জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ নিঃসন্দেহে অন্যতম মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এই মাইলফলক দেশ-বিদেশের জঙ্গিবাদ দমনের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এর মাধ্যমে আবারো প্রমাণ হলো, যতো বড় জঙ্গি হোক না কেনো, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই। অপরাধ করলে নিজের সেই অপরাধের বিচার যে পেতেই হবে, এ রায় কার্যকরের মাধ্যমে তা আবারো প্রতিষ্ঠিত হলো

By আহসান কামরুল on বুধবার, ১২ এপ্রিল ২০১৭ ২৩:০০

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত ভাস্কর্যকে ‘গ্রিক দেবীর মূর্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে তা অপসারণের দাবিতে প্রধান বিচারপতি বরাবর স্মারকলিপি, বিক্ষোভ মিছিলসহ কির্মসূচি পালন করছে ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠন। সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে নিশ্চুপ। এ সুযোগে চরমোনাইয়ের পীরের দল এবং হেফাজতসহ কয়েকটি ধর্মভিত্তিক সংগঠন হুমকি-ধমকি দেয়া শুরু করেছে। গত ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ন্যায়বিচারের প্রতীক 'লেডি জাস্টিসের' ভাস্কর্য নির্মাণের পর থেকে ধর্মের নামে এ সংগঠনগুলো অপপ্রচার চালিয়ে এলেও সরকার কিংবা বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। সরকারের ব্যবস্থাতো দূরের কথা, বরং আওয়ামী ওলামা লীগের একাংশের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাছানও ন্যায় বিচারের প্রতীক ভাস্কর্যকে গ্

By আহসান কামরুল on সোমবার, ০৬ মার্চ ২০১৭ ১৩:৪৮

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তন বক্তা ও কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি অব অন্টারিও’র প্রেসিডেন্ট প্রফেসর অমিত চাকমাকে ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি প্রদান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। শনিবার যাকে এই সম্মানজনক পুরস্কারে ভূষিত করা হলো, কাপ্তাই বাঁধের কারণে ঘরহারা হয়েছিল সেই অমিত চাকমার পরিবার। তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের আমলে ১৯৫৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ণে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণ কার্য শুরু হয় ও ১৯৬২ সালে এর নির্মাণ সমাপ্ত হয়। পানি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে কৃত্রিমভাবে বাঁধ নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহনের ফলে কাপ্তাই এলাকার স্থায়ী অধিবাসীরা তাদের বাড়ী-ঘর এবং চাষাবাদযোগ্য জমি হারিয়েছেন। এর মধ্যে অমিত চাকমার পরিবারও ছিল। তখন চল্লিশ হাজারেরও অধিক চাকমা আদিবাসী সম্

By আহসান কামরুল on শনিবার, ০৪ মার্চ ২০১৭ ১৩:৫৪