নায়ক জিতের সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘প্রেম করেছি, বেশ করেছি’ সিনেমায় অভিনয় করার প্রায় দেড় বছর পর পর্দায় আবার ফিরছেন ‘টালিউড কুইন’ কোয়েল মল্লিক। জনপ্রিয় নির্মাতা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় সিনেমায় ভিন্ন এক চরিত্রে ফিরছেন তিনি।বর্তমানে কোয়েল দার্জিলিং’এ শুটিং নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। সেখানেই শুটিংয়ের ফাঁকে কলকাতার অনলাইন পত্রিকা এবেলা.কমকে একান্ত একটি সাক্ষাতকার দিয়েছেন বহু সিনেমার হিট নায়িকা কোয়েল।

দেড় বছর পর আপনার ‘কামব্যাক ফিল্ম’, কামব্যাক করার জন্য এই ছবিটাই পছন্দ হল কেন?

কোয়েল মল্লিক: জানি না কেন লোকে বলছে এটা আমার কামব্যাক ফিল্ম।ছবি করার ব্যাপারে বরাবরই বেছে কাজ করি।বছরে খুব বেশি হলে তিনটি ছবি করি।কিন্তু অনেক বছর কাজ করার পর মনে হল, খিদেটা বড্ড বেড়ে গিয়েছে। দর্শক আরও কিছু এক্সপেক্ট করছে আমার থেকে।মাঝখানে যে ক’টা স্ক্রিপ্ট পেয়েছি, সবক’টা পড়েই মনে হয়েছিল এটা তো করে ফেলেছি! কিন্তু এই ফিল্মটা এমনই, যেখানে না বলার জায়গাই ছিল না। প্রথম কারণ, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। হি ইজ ওয়ান অফ দ্য বেস্ট ডিরেক্টর্স উই হ্যাভ ইন দি ইন্ডাস্ট্রি। দ্বিতীয় কারণ, আমার চরিত্রটা।

আপনার চরিত্র নিয়ে কিছু বলুন? 

কোয়েল মল্লিক: আমার চরিত্রের নাম রাই চ্যাটার্জী। বড় স্টার। কিন্তু সেই রাই একটা অফ-বিট ছবিতে সাধারণ গৃহবধূ মন্দিরার চরিত্র করছে। কৌশিকদা অবশ্য বলছেন, আমার সঙ্গে একটু একটু মিল আছে বলে আমাকে ভেবেই উনি স্ক্রিপ্ট’টা লিখেছেন। পড়তে পড়তে কিছু জায়গায় আমিও চমকে উঠেছি। কিন্তু ওইটুকুই, ব্যক্তিত্বের দিক থেকে রাই চ্যাটার্জীর সঙ্গে আমার কোনো মিল নেই।

এই মুহূর্তে নিজের ব্যক্তিত্বকে কীভাবে বর্ণনা করবেন?

কোয়েল মল্লিক: আমি এখন অনেকটা শান্ত। একেবারেই রাই চ্যাটার্জীর মতো নই। রাই খুব কাট থ্রোট। যেটা পছন্দ করবে না, মুখের উপর বলে দেবে। ওকে সব সময় বোঝাতে হবে, যে শি ইজ আ স্টার! খুব মুডি, আমি ওরকম বদমেজাজি নই।

গোটা ছবিতে ফিল্মস্টারদের ব্যক্তিগত জীবন রয়েছে, কোথাও কি আপনার জীবন দেখা যাবে?

কোয়েল মল্লিক: একজন পেশাদার স্টার যখন ক্যামেরার সামনে যায়, সে তখন অন্য মানুষ। আবার তার একটা ব্যক্তিগত জীবন রয়েছে। সেখানেও সে আলাদা মানুষ। আমার মনে হয়েছিল, দর্শক সব সময় স্টারদের বড় পর্দাতে দেখেন। কিন্তু ক্যামেরার বাইরে স্টাররা কীরকম, তারা কীভাবে জীবন কাটান, মানুষের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করেন সেগুলো জানার উৎসাহ দর্শকের সব সময়েই থাকে। তারা তো কেবল বাইরে থেকে বানানো ছবিটাই দেখতে পান। এই ছবিটা সেই দিক থেকেও আলাদা।

আপনার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও মানুষের অনেক উৎসাহ আছে?

কোয়েল মল্লিক: জল্পনাগুলো আমার খুবই বোকা বোকা লাগে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা জীবন নিয়ে আমি খুব সচেতন। কারণ সেগুলো নিয়ে মানুষ গুজব ছড়ায়। আর এই জিনিসটি  আমার কাছে রাবিশ ছাড়া আর কিছুই নয়। 

‘সুরিন্দর ফিল্মস’ আপনার ঘরের প্রোডাকশন, সুতরাং কাজ করার স্বাচ্ছন্দ্য-স্বাধীনতা নিশ্চয়ই বেশি?

কোয়েল মল্লিক: বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে যে ক’টা হাতেগোনা প্রযোজনা সংস্থা আছে, যারা নিয়মিত ভালো ছবি বানায়, তাদের মধ্যে ‘সুরিন্দর’ অন্যতম। এদের সঙ্গে আগেও বহু ছবি করেছি। ফলে কাজের ধারণটা আমার অজানা নয়।এখানে আমরা সকলেই ভীষণ প্রোফেশনাল। তারপর পার্সোনাল’টা তো পার্সোনাল। সেটা আমার আর রানের বাড়ির ভিতরের জীবন। এবং এটা আমরা দু’জনেই বজায় রাখি।

তাহলে রোমান্টিক ছবি থেকে কি এবার ধীরে ধীরে সরে আসবেন?

কোয়েল মল্লিক: এই ছবিটাও তো রোমান্টিক। একটা সমস্যা আছে এই কনসেপ্ট নিয়ে। মুম্বাইতে কিন্তু লোকে এভাবে ভাবে না। ওখানে দীপিকা পাড়ুকোন ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’ও করছে, ‘পিকু’ও করছে।আমার কাছে একটা জিনিস পরিষ্কার। যেভাবে নিজেকে প্রেজেন্ট করতে চাই, সেভাবেই করব। এমন নয়, যে অন্যধারার ছবি এখন থেকে পেলেই করব। 

আপনি এই ব্যাপারে খুব নিশ্চিত যে আগামী প্রজন্ম আপনার কাজ পছন্দ করবে?

কোয়েল মল্লিক: আমাকে ঠাকুমা-পিসিমারা যেমন পছন্দ করেছেন, তেমন কম বয়সীরাও। কয়েকদিন আগেই একজন আমাকে বললেন, আমি চাই আমার মেয়ে বড় হয়ে তোমার মতো হোক। সেই জায়গা থেকে আমার মনে হয়, অভিনেতা হিসেবে আমার একটা দায়িত্ব থেকে যায়। কারণ লোকেরা আমাকে রোলমডেল হিসেবে দেখছে মানে, আমাকে ওই রোলটায় আগে ফিট করতে হবে। একই জায়গা থেকে আমি আমার এনজিও’র কাজগুলোও খুব সিরিয়াসভাবে করি। কারণ আমি সমাজের জন্য একটা কাজ করলে তার যা ইমপ্যাক্ট হয়, শুধুমাত্র সেই কারণেই এই কাজগুলো করে যাওয়া উচিত বলে মনে করি।