পুর্বনির্ধারিত সময়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নবনিযুক্ত কমিশনারগণ বুধবার বিকেল তিনটায় প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার কাছে শপথ গ্রহনের পরে আগারগাঁওয়ে কমিশন কার্যালয়ে আসেন। মাত্র পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দেবেন উল্লেখ করে বিকেল পাঁচটায় প্রথম সংবাদসম্মেলনে চারজন কমিশনারকে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা।

মিডিয়া সেন্টারের পরিবর্তে নির্বাচন ভবনের নিচ তলার উন্মুক্ত লনে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের পরিচিতিসহ দুই পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত লিখিত বক্তব্যের পর সিইসি সাংবাদিকদের প্রশ্ন আহ্বান করেন। বক্তব্যের পরে ১০ মিনিটেরও কম সময়ে মাত্র পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি, সাংবাদিকেরা আরও প্রশ্নের সুযোগ চাইলেও কথা বলেননি নবনিযুক্ত সিইসি।

দায়িত্ব নেওয়ার পর অগ্রাধিকারমূলক কাজ কী ও রাজনৈতিক দল এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের কোন পরিকল্পনা আছে কিনা, এ প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, আমার প্রথম কাজ হবে আমার সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করা। এছাড়া (ইসি) সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা দেখবো, বুঝবো কোথায় কী সমস্যা আছে। সমস্যাগুলো নির্ধারণ করে তা সমাধানে পরিকল্পনা গ্রহন করবো। রাজনৈতিক দল এবং সুশীল সমাজের সঙ্গে কখন কোন ইস্যুতে আলোচনা করবো সেটা আমার সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে। তবে এই মুহুর্তে কোন রাজনৈতিক দল বা সুশীল সমাজের সঙ্গে সংলাপের কোন সুযোগ নেই।

দায়িত্ব নেওয়ার পরে নির্বাচন কমিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ সর্ম্পকিত প্রশ্নে সিইসি বলেন, আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ একটাই, দেশের জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া। সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করা। সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরে এ বিষয়ে জানাবেন বলেও জানান তিনি।

বিএনপিসহ সব দলের আস্থা সহকারে তাদের অংশগ্রহণে প্রভাবমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে সরকারের উদ্দেশ্যে আহ্বান প্রশ্নে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের সবাই সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছে, এখানে কারও প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই। বিএনপিসহ সমস্ত রাজনৈতিক দলকে আস্থায় আনার জন্য নিরপেক্ষভাবে কাজ করে যাবে কমিশন। কোন ধরণের প্রভাবে তারা প্রভাবিত হবেন না বলেও জানান তিনি।

সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো অংশ স্বচ্ছ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাঁধার সৃষ্টি করলে করণীয় প্রশ্নে সিইসি নুরুল হুদা বলেন, এধরণের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে কঠোরভাবে মোকাবেলা করবো। দেশের সংবিধান এবং আইনকানুনের বাইরে কোন রকম প্রভাবকে আমরা প্রশ্রয় দেব না।

নিজেদের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে পূর্ব ঘোষিত পাঁচটি প্রশ্নের মধ্যে শেষ প্রশ্ন আহ্বান করে সংবাদ সম্মেলন শেষ করার ইঙ্গিত দেন সিইসি। বর্তমান সরকারি দল আওয়ামী লীগের একটি জেলার নির্বাচনী বোর্ডের প্রধান থাকার সংবাদ ও বর্তমানে ওই দলের সঙ্গে কোনো ধরণের সর্ম্পক আছে কিনা, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই আজ শপথ নেওয়ার পর থেকে। নিরপেক্ষভাবে কাজ করার শপথ নিয়েছি, সেভাবেই দায়িত্ব পালন করে যাবো। তাছাড়া কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী বোর্ডে আমি কখনও ছিলাম না।

এ প্রশ্নের পরে সাংবাদিকেরা আরও প্রশ্ন করতে চাইলেও তিনি আর কোন প্রশ্ন না নিয়ে  নবনিযুক্ত কমিশনের প্রথম সংবাদ সম্মেলন শেষ করেন।

আগামী পাঁচ বছরের জন্য দায়িথ্ব পালনের জন্য গত ৬ ফেব্রুয়ারি সিইসি হিসেবে সাবেক সচিব কে এম নুরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার হিসেবে সাবেক সচিব মো. রফিকুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব তালুকদার, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ বেগম কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদৎ হোসেন চৌধুরীকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।