গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখতে আগামী নির্বাচনে দেশের সকল নিবন্ধিত দলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। কোন মহল যাতে আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা করতে না পারে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভাষণে গত চার বছরে তার সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বর্ণনার পাশাপাশি উন্নয়ন অগ্রযাত্রা যেন ব্যহত না হয় সে বিষয়ে সচেতন হতে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

২০১৪ সালে জনগণের ভোটে তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধামন্ত্রী বলেন, আমার ওপর যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছিলেন, আমি প্রাণপণ চেষ্টা করেছি আপনাদের মর্যাদা রক্ষা করার।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর দেশে ফিরে দল সংগঠিত করার পাশাপাশি দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে জনগণের ক্ষমতা ক্যান্টনমেন্ট থেকে উদ্ধারের চেষ্টার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জীবনমান উন্নয়নে কী কী কাজ করতে হবে তারও পরিকল্পনা তৈরি করি।

২০০১ সালের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন; অর্থ লুটপাট, হাওয়া ভবনের দৌরাত্ম্যের পাশাাশি জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের গ্রেনেড হামলার মতো ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ করেন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পরবর্তী বিএনপি-জামাত জোটের নির্মম নৃশংসতার কথাও।

প্রধানমন্ত্রী বলেন: দিন বদলের সনদ ঘোষণা করে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলে মানুষের জীবনমান সহজ ও উন্নত করার উদ্যোগ নিয়েছি। এই কারণে জনগণ ২০০ ধরনের সেবা পাচ্ছেন। একটানা ৯ বছর জনসেবার সুযোগ পেয়েছি বলেই বাংলাদেশ উন্নত হচ্ছে। যার সুফল পাচ্ছে জনগণ।

‘মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, জিডিপির আকার বড় হওয়া, দারিদ্রের হার কমানো, মুদ্রস্ফিতি কমানো, বৈদেশিক বিনিয়োগ, প্রবাসী আয়, রপ্তানী আয় বাড়ার সঙ্গে বেড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও। সর্বোপরি বাজেটের আকার বৃদ্ধি প্রমান করে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে স্বীকৃতি মিলেছে। মিলছে দৃশ্যমান উন্নতি।’

নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, খাদ্য নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলার পাশপাশি নতুন প্রতিশ্রুতিও দেন প্রধানমন্ত্রী।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর করা ছাড়াও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী ও বিডিআর হত্যার বিচারের হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে সফলতার কথাও। এসময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশংসাও করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন: শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি, ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলে দেশি-বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার ইচ্ছার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি মেগা প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। গ্যাসের সমস্যা দূর করতে এলএনজি আমদানি ও রান্নার জন্য দেশে এলপিজি গ্যাস উৎপাদনের কাজ শুরুর কথাও জানান তিনি। সড়ক, মহাসড়ক, সেতু, কালভার্ট নির্মাণসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়নের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তার সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন: এক সময় করুনার চোখে দেখলেও এখন বিশ্ব বাংলাদেশকে সম্মানের চোখে দেখে।

রাষ্ট্রপতি অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান: এই কমিশন এরই মধ্যে ২টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনসহ স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কিছু নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে।

জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানান যেন অগ্রগতি থেমে না যায়। সেখান থেকে আর পিছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই।

তিনি বলেন: স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর বাংলাদেশ দরিদ্র হিসেবে পরিচিত হতে চাই না। তিনি আবারও ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রতিশ্রুতির কথা বলেন।

আমরা অতীতকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চাই না; তবে অতীতকে ভুলেও যাব না। অতীতের সফলতা-ব্যর্থতার মূল্যায়ন করে, ভুল-ত্রুটি শুধরে নিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যাব।

দলমত নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করে বক্তৃতা শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।