জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো বাংলাদেশের শীতল পাটিকে ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজ ঘোষণা করেছে। সাউথ কোরিয়ায় ইউনেস্কোর দ্বাদশ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বুধবার এ ঘোষণা দেয়া হয়। এর আগে বাংলাদেশের বাউল সঙ্গীত, জামদানি আর মঙ্গল শোভাযাত্রা এই স্বীকৃতি লাভ করে। নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না, শীতল পাটি আমাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতির ওতপ্রোত অংশ। গর্ব করার মতো এমন আরো অনেক কিছুই আছে আমাদের। সেগুলো বিশ্বদরবার স্থানও করে নিচ্ছে। শীতল পাটির জন্ম মূলত সিলেট অঞ্চলে হলেও দেশের বিভিন্ন জেলায় তা তৈরি হয়। এ পাটি তৈরির মূল উপাদান মুর্তা গাছ। প্রযুক্তি বিকাশের আগে গরমের দিনে মানুষকে অনাবিল শ্রান্তি এনে দেওয়া শীতল পাটির কোনো জুড়ি ছিল না। তাই দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে এক সময় শীতল পাটির কদর বিদেশেও ছড়িয়ে পড়ে। তবে নানা কারণে এক পর্যায়ে মুখ থুবড়ে পড়ে দেশের ঐতিহ্যবাহী এ কারুশিল্প। আধুনিক প্রযুক্তির দাপট, ক্রেতা স্বল্পতা আর শিল্পের সঙ্গে সরাসরি জড়িতদের আর্থিক দুরাবস্থা হুমকির মুখে ফেলে দেয় শীতল পাটিকে। তার টিকে থাকা আরো কঠিন করে দেয় প্লাস্টিক পণ্যের সহজলভ্যতা আর স্বল্পমূল্য। বলতে গেলে প্লাস্টিকের কারণেই বিলুপ্তির মুখে পড়ে শীতল পাটি। এরই এক পর্যায়ে এ শিল্পের সঙ্গে কয়েক পুরুষ ধরে জড়িত থাকা কারিগররা পেশা ছাড়তে বাধ্য হন। বলতে গেলে বর্তমানে সারাদেশে হাতে গোনা কিছু কারিগর কোনো রকমে টিকিয়ে রেখেছেন এ শিল্পকে। এমন প্রেক্ষাপটে শীতল পাটির বিশ্বস্বীকৃতি এ পেশার সঙ্গে জড়িতদের জন্য, এমনকি দেশের জন্যই নতুন এক আশার বাণী নিয়ে এসেছে। আমরা মনে করি, এই শিল্পে সরকারী এবং বেসরকারী খাতের পরিকল্পিত উদ্যোগে আবারো ফিরে অাসবে শীতল পাটির হারানো ঐতিহ্য। তবে আরেকটি বিষয়ও আমাদের মনে রাখতে হবে; সবকিছু দিয়ে শুধু অর্থ আয়ের চিন্তা করা উচিত নয়। কিছু কিছু জিনিস বা পণ্য একটি জাতির সমৃদ্ধ পরিচয় বহন করে। তাই এমন ঐতিহ্যবাহী জিনিসগুলোকে রক্ষা করা আমাদের জাতীয় দায়িত্বের অংশ। নিশ্চয়ই সরকার শীতল পাটির সুদিন ফেরানোর জন্য নতুন নতুন উদ্যোগ নেবে।