সামনেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। শেষ ষোলোতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে বলেই এই ম্যাচকে মহাগুরুত্বপূর্ণ বলা হচ্ছে। কিন্তু এমন ম্যাচকে সামনে রেখেও প্যারিস সেইন্ট জার্মেইনের (পিএসজি) সব ঠিকঠাকভাবে চলছে না। যার বড় কারণ লাতিন ঝড়। সাউথ আমেরিকানদের দ্বন্দ্বে রীতিমত বেতাল অবস্থায় পিএসজির ড্রেসিংরুম।

পিএসজির অধিকাংশ খেলোয়াড়ই সাউথ আমেরিকান। দলটির প্রভাবশালী খেলোয়াড়দের মধ্য ব্রাজিল,আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের। সংখ্যায় বেশি হওয়ায় এখন ব্রাজিলিয়ানদের দাপটা বেশি। নেইমার ও দানি আলভেজ যোগ দেয়ার পর সেটা আরও বেড়েছে। এমনও অভিযোগ আছে যে, কোচ উনাই এমেরি ব্রাজিলিয়ানদের অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

পেনাল্টি শটের ঘটনা নিয়ে নেইমার ও এডিনসন কাভানির দ্বন্দ্বে অনেকদিনই সরগরম ছিল ক্রীড়াঙ্গন। দলে প্রভাব বিস্তার নিয়ে নেইমার-কাভানির ‘দ্বন্দ্বে’ পিএসজির আন্দরমহলে বারুদের গন্ধ পেয়েছিলেন অনেকেই। যে দ্বন্দ্বকে আবার ‘ওয়ার অব ইগো’ বা অহংবোধের লড়াই হিসেবে বর্ননা করেছিল খোদ ব্রাজিলের মিডিয়া।

ক্লাবের পক্ষ থেকে যদিও বারবার বলা হচ্ছে, তাদের এখন সুখের সংসার। নেইমার-কাভানির পেনাল্টি নিয়ে আর কোনও বিতর্ক নেই। কিন্তু সংবাদমাধ্যমে জল্পনা, বিতর্কের আগুন শুধু চাপাই দিয়ে রাখা গেছে। একেবারে নিভিয়ে ফেলা যায়নি। সেটাই আবার জ্বলে উঠল। তবে আও বড় আকারে।

ফরাসি পত্রিকা এল’ইকুইপ বলছে, সাউথ আমেরিকার দুটি গ্রুপের দ্বন্দ্বে রিয়ালের মত ম্যাচ সামনে রেখেও তাতে মনোযোগ দিতে পারছে না পিএসজি। এর একপক্ষে রয়েছে ব্রাজিল গ্রুপ, অন্যপক্ষে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে গ্রুপ। ব্রাজিল গ্রুপের নেতৃত্বে অধিনায়ক থিয়েগো সিভলা। আর আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে গ্রুপে কাভানি।

এল’ইকুইপ শুক্রবার তাদের কভার পেজে ’জিজানি’ শব্দ দিয়ে লিড নিউজ করেছে পিএসজির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বিষয়টি। যে ফরাসি ভাষার অনুবাদ করলে মোটামুটি অর্থ দাঁড়ায় ‘জগাখিচুড়ি’।

নেইমার-কাভানির পর নতুন হট্টগোল কাভানি ও আর্জেন্টিনার জাভিয়ের পাস্তোরের সঙ্গে থিয়েগো সিলভার। ক্রিসমাস ছুটি থেকে দেরিতে ফেরায় দুজনের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ব্যবহার করেন থিয়েগো।

তিনি বলেন, ‘এটি ক্লাবের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। আমাদের সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে এবং ‘গ্রুপের’ জন্য ভাল না এমন কোনও কাজ করা উচিত নয়। এমন কাজ করার আগে ভাবতে হবে। এটা কারো জন্যেই ভাল নয়, তবে পাস্তোরে এবং কাভানির জন্য বিষয়টি ভিন্ন। পাস্তোরে ক্লাব ছেড়ে যাওয়ার কথা বলেছে কিন্তু তারা একমত হতে পারেননি। কিন্তু কাভানির বিষয়টি অন্যরকম।’

এ বিষয়ে কাভানি নীরব থাকলেও মুখ বন্ধ রাখেননি পাস্তোরে। ইনস্টাগ্রামে এর কড়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, ‘আমি কোনও সমস্যা বা আমার ভবিষ্যতের বিষয়ে সিলভাকে কখনও বলিনি এবং আমি কখনও কাউকে চাপ দিইনি, এটা আমার স্টাইল নয়। কি কারণে আমি দেরিতে ফিরেছি তিনি আমার সমস্যা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না। আমি আবারও বলছি: আমার স্বপ্ন সবসময় এখানে (পিএসজি) থাকার। আমি সবসময় বিশ্বস্ত ছিলাম এবং এটা সত্য না যে আমি চলে যেতে চাই! আমি আমার ক্যারিয়ারের বাকি সময়টুকু এখানেই থাকতে চাই।’

সমস্যায় জড়িত অন্য দুজন অ্যাঞ্জেল ডি’মারিয়া ও তার স্বদেশী জিওভান্নি লো সেলসো। এই দুজনই দলের একাদশে জায়গা পাচ্ছেন না বা পেতে ঘাম ঝরাতে হচ্ছে। তারা আবার কাভানি-পাস্তোরে গ্রুপের।

খেলোয়াড়দের ভেতেরর গ্রুপগুলো বলছে, থিয়াগো সিলভা যে মন্তব্য করেছেন তাতে নেইমারের ব্যাপারটি নেই। কারণ মৌসুমের মাঝখানে অসুস্থ বোনকে দেখতে ব্রাজিল গিয়েছিলেন নেইমার। নির্ধারিত সময়ের পরে ফেরার পরও তার সঙ্গে সবাই পার্টি করে এবং ছবি তোলে।