বাংলাদেশের মাটিতে বিশ্বকাপ। যাতে পুরুষ ও নারী দল নিয়ে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ মোট ৪০টি দেশ অংশ নিচ্ছে। শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্ব আসরের খেলাটির নাম রোল বল। দেশে অপ্রচলিত এই খেলাটি নিয়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে! পরিচিত হওয়া যাক খেলাটির কিছু নিয়ম-কানুনের সঙ্গে।

উদ্বোধনী দিনেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হচ্ছে। শুক্রবার বিকাল তিনটায় স্বাগতিকদের প্রতিপক্ষ হংকং। পল্টনের শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে হবে ম্যাচটি। প্রতিযোগিতাটির বিশ্বকাপের চতুর্থ আসরে নামার আগে লাল-সবুজদের স্মৃতিতে থাকছে হংকংকে ২০১০ সালে হারানোর আত্মবিশ্বাস।

রোল বল খেলাটি স্কেটিং, হ্যান্ডবল ও বাস্কেটবলের মিশেলে নতুন ধরনের একটি খেলা। প্রতিটি ম্যাচের সময় ৫০ মিনিট করে। মধ্যবিরতি হয় ২৫ মিনিটে।

গতির নেশা আর রোমাঞ্চ ছড়ানো খেলাটিতে ঝুঁকিও খুব কম নয়। সেফটি কৌশল ও বিশেষ টেকনিকের প্রতি তাই ভালোভাবেই নজর রাখতে হয়। খেলোয়াড়রা হেলমেট, নি-গার্ড, এলবো গার্ড পরে নিজেদের সুরক্ষার সুযোগ পান।

রোল বল মাঠের আয়তনও বিশেষ মাপের। মাঠের চওড়া ২০ মিটার, আর লম্বায় ৪০ মিটার। প্রতি দলে ৬ জন করে খেলোয়াড় থাকেন। ম্যাচে ড্রিবল না করে কোনো খেলোয়াড় তিন সেকেন্ডের বেশি সময় বল হাতে ধরে রাখতে পারেন না।

বাংলাদেশে এখনো জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি রোল বল খেলাটি। তবে একেবারে খারাপও খেলেন না লাল-সবুজরা। ২০১০ সালে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে তৃতীয় হয়েছিল বাংলাদেশ। ভারতের পুনেতে প্রতিযোগিতাটির গত বিশ্বকাপে ৩৪টি দেশের মধ্যে সপ্তম হয়েছিল বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে সেটাই সেরা সাফল্য ফুটবল-ক্রিকেটে মেতে থাকা এই দেশটির। ঘরের মাঠে সেটিই ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যয়। লক্ষ্য শিরোপাতেই।

যে জন্য দীর্ঘ প্রস্তুতির পাশাপাশি ভারত ও নেপালের সঙ্গে একটি ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট খেলেছে আশরাফুল আলম সুমনের শিষ্যরা। যাতে নেপালকে ৮-২ গোলে হারালেও ভরতের সঙ্গে ৬-৬ গোলে ড্র করেছে আসিফ ইকবালের দল। প্রস্তুতিটা তাই ভালো হয়েছে বলেই দাবি করছেন স্বাগতিক কোচ-অধিনায়ক।

রোল বলের প্রথম বিশ্বকাপ হয়েছিল ২০১১ সালে। প্রথম চ্যাম্পিয়ন ডেনমার্ক। পরে ২০১৩ ও ২০১৫ সালের দুটি বিশ্বকাপে শিরোপা ওঠে ভারতের হাতে। তৃতীয়বারের মত অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ।

বিশ্বকাপকে সামনে রেখে রোল বলের একটি মাঠসহ অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে। প্রায় ২৩ কোটি টাকা বাজেটের এই বিশ্বকাপের চতুর্থ আসরে অংশ নিচ্ছে এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকার ও ওশেনিয়ার দেশ। যার মধ্যে এশিয়া থেকে সর্বোচ্চ ১৭টি, আফ্রিকার ১১টি, ইউরোপের ৭টি দেশ দল পাঠিয়েছে।

দেশে প্রায় অপ্রচলিত এই খেলাটি একটি সফল বিশ্বকাপ আয়োজনের মধ্য দিয়ে হয়তো জনপ্রিয়তায় খানিকটা তল খুঁজে পাবে। সেইসঙ্গে দল সাফল্য পেলে তরুণ-তরুণীরা হয়তো খেলাটাকে অন্যদৃষ্টিতে দেখতে শুরু করবে। আগ্রহ বাড়বে। আগামীতে তাতে রোল বলে আরো বেশি বেশি সাফল্য আসবে। তার আগে মেতে থাকা যাক ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের রোমাঞ্চে।

বাংলাদেশ রোল বলের কাণ্ডারি-
নারী দলের অধিনায়ক: জান্নাত জেবিন হিয়া
পুরুষ দলের অধিনায়ক: আসিফ ইকবাল
কোচ: আশরাফুল আলম মাসুম

রোল বল বিশ্বকাপ-২০১৭, বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি: