রংপুর সিটি নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন এখনও অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি বলে দাবি করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

এ কারণে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি বিএনপির পক্ষ থেকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ম্যাজিট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনেরও জোর দাবি জানাচ্ছি।’

বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যাইলয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আহমেদ এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘আগামী ২১ ডিসেম্বর রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে ১৯৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩৩টিই ঝুঁকিপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না। আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বারবার আচরণ বিধি লঙ্ঘন করলেও ইসি তার বিরদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

“ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা গোটা এলাকায় ভয়ভীতি ছড়াচ্ছে বলেও প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে শুরু থেকে যেভাবে হয়রানি করা হয়েছে তাও নজিরবিহীন। এমন অবস্থায় রংপুর সিটি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না এ ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।’’

নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা আবারও নির্বাচন কমিশনকে বলতে চাই – ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে পেছনের দরজা দিয়ে জেতানোর কোন চেষ্টা করলে জনগণ সেটির উপযুক্ত জবাব দিবে।’

আলোচিত বেসিক ব্যাংক দুর্নীতির বিষয়ে তিনি বলেন, বেসিক ব্যাংকে দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারির বিষয়টি জনসম্মুখে স্পষ্ট হয়ে উঠলেও ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা জড়িত থাকায় দুদক বরাবরই সেটি এড়িয়ে গেছে। বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারী নিয়ে এখন পর্যন্ত ৫৭টি মামলা হলেও মূল হোতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার ব্যাংক লুটপাটে জনগণের অর্থ আত্মসাতের কথা জাতির সামনে তুলে ধরলেও অত্যুগ্র ক্ষমতার প্রভাবে সরকার বরাবরই তাতে কর্ণপাত করেনি। যদিও উচ্চ আদালতের নির্দেশে এখন নতুন করে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে দুদক। এতে প্রতীয়মান হয় যে, আমরা বারবার যে অভিযোগগুলো উত্থাপন করেছিলাম তা ছিল তথ্যমূলক।

তিনি দাবি করেন, শুধু বেসিক ব্যাংক নয়, রাজকোষ কেলেঙ্কারিসহ সমস্ত আর্থিক খাতে যে লুটপাট হয়েছে এর পেছনে সরকারের রাঘববোয়ালরা জড়িত। ব্যাংক লুটের লাখ লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হয়ে গেলেও দুদক এসব বিষয়ে নির্বিকার। কিন্তু জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। লুটেরাদের একদিন জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে।

‘গুম আতংক থামছেই না’
সারাদেশে গুম আতঙ্ক থামছেই না দাবি করে রিজভী বলেন, ‘সমাজের সকল স্তরের মানুষ আজ কেউই নিরাপদ নয়। দেশ যেন এখন হালছাড়া জাহাজের মতোই লক্ষ্যভ্রষ্ট। ক্ষমতা বিকৃতি যখন কদর্য হয়ে ওঠে তখন জনসমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে সইতে হয় বিভিষিকাময় নির্মমতা।

তিনি বলেন, ‘এবার রাজধানী থেকে নিখোঁজ হয়েছেন ভিয়েতনামে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান। এ ঘটনায় তার মেয়ে ধানমন্ডি থানায় ডায়েরি করলেও এখনও তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। সারাদেশে সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত নিখোঁজের সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এটি। একজন ব্যক্তি অপরাধী হলে তার আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার হতে পারে, যেটি হবে প্রকাশ্য নিয়মমাফিক পদ্ধতিতে। কিন্তু সেই ব্যক্তিকে অদৃশ্য করে দেয়া হলে তা হবে ভয়ঙ্কর অপরাধ। বর্তমানে রাষ্ট্রের ছত্রছায়ায় এ সব গুম সংঘটিত হচ্ছে। যা ক্ষমাহীন ও মানবতাবিরোধী ঘৃণ্য অপরাধ।’

গুম নিয়ে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া এক বক্তব্যের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, অনেকে ইচ্ছা করেই আত্মগোপনে গিয়ে সরকারকে বিব্রত করছেন। গুমকে বৈধতা দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য স্বীকারোক্তিমূলক। অতএব তার বক্তব্যেই প্রমাণিত হয়, এবারের আওয়ামী সরকারের আমলে সকল গুমের জন্য সরকারই দায়ী। সরকারবিরোধীদের প্রতি অন্ধ হিংস্রতা থেকেই সরকারের বিকৃত রুচির পশু প্রবৃত্তির বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে বেআইনি গুম।’