বিক্রেতা দাম হাকাচ্ছেন ৯শ দিনার। এক ফাঁকে তা হয়ে যায় ১ হাজার থেকে ১১শ দিনারে। এভাবেই একজন কৃতদাসের দাম হাকিয়ে চলেন তিনি।

এটা শুনে মতে হতে পারে কোন পণ্য, জমি বা গাড়ির নিলাম চলছে। কিন্তু না, এ নিলাম মানুষ কেনা-বেচার। দুজন মানুষের মূ্ল্য মাত্র ৮‘শ মার্কিন ডলার। আধুনিকযুগের কৃতদাস হিসাবে জনপ্রতি মাত্র ৪’শ ডলারে বিক্রি হচ্ছে এইসব মানুষ।

লিবিয়ায় কৃতদাস বিক্রির এমন হাট রয়েছে প্রায় ৯টির বেশি। সরেজমিনে ঘুরে এমনই জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন। মোবাইল ফোনের গোপন ভিডিওর মাধ্যমে সিএনএন এ বিষয়ে প্রমাণও হাজির করে।

ওই ভিডিওতে দেখা যায় সুঠাম দেহের অধিকারী একজনকে ফার্মের কাজের জন্য বিক্রি করা হচ্ছে। তবে যিনি বিক্রি করছেন তিনি ক্যামেরার সামনে নেই। সিএনএন গোপন ক্যামেরায় ধরা পড়ে এসব আসল চিত্র।

গতমাসে লিবিয়ার ত্রিপোলিতে গিয়ে দেখা যায় মাত্র ছয় থেকে সাত মিনিটে ১২ থেকে ১৩ জন মানুষ কৃতদাস হিসাবে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।বিক্রি করার সময় কৃতদাসরা যে যে পেশায় পারদর্শী তাকে সেই কাজের জন্যই  নিলামে তোলা হয়।

ক্রেতারা তাদের সাধ্যমত দামে ক্রয় করতে হাত তুলে সম্মতি প্রকাশ করছে। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে তারা বিক্রি করে দিচ্ছে তাদের ভাগ্যকে। বিক্রয় হওয়া মানুষকে তুলে দেয়া হয় তাদের নতুন কর্তার হাতে।

বিক্রি হয়েছে এমন দুজনের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাদের মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ও ভীত দেখায়। তারা কোন কথা বলতে পারছিলেন না।

প্রত্যক বছর অন্তত দশ হাজার মানুষ উন্নত জীবনের আশায় লিবিয়া সীমান্ত হয়ে ইউরোপে পাড়ি দেয়। তাদের বেশির ভাগ সব কিছু বিক্রি করে ভূমধ্যসাগর পার হয়ে ইউরোপে যেতে চেষ্টা করে। ইদানিং লিবিয়ার কোস্টগার্ডের শক্ত অবস্থানের কারণে কিছু মানুষবাহী নৌকা গিয়ে পড়ে মানব পাচারকারীর হাতে। ফলে এসব শরণার্থী ও অভিবাসন প্রত্যাশীরা হয়ে যান কৃতদাস।

এই সব তথ্য ও ভিডিওচিত্র লিবিয়া সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার পর তারা বিষয়ে তদন্ত চালানোর কথা জানান। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, একদল সুসংগঠিত ভাবে এই ধরনের অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।

সরকারের একজন মুখপাত্র বলেন, “১০০ জন মানুষ নিয়ে একটি নৌকা এখনো নিখোঁজ রয়েছে। মানব পাচারকারীরা টাকার জন্য সবকিছু করতে পারে। আমরা এখনো জানিনা তারা কি ইউরোপে পৌঁছেছে নাকি সাগরে মারা গেছে।”