১৯৭১ সালে পাকিস্তানী বর্বরতার শিকার লাখ লাখ বাংলাদেশী শরণার্থীকে চিকিৎসা দিয়েছে কলকাতা মেডিকেল কলেজ। নির্মমতার খবর পেয়ে যশোরের উদ্দেশে রওনা হওয়া ৮ সদস্যের চিকিৎসক দলের একজন ছিলেন এখন কলকাতার প্রখ্যাত নিউরোলজিস্ট শিবাজী বসু। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা পশ্চিমবঙ্গের প্রায়  ৩০০ চিকিৎসকের তালিকাটি প্রকাশ করার অনুরোধ তার।

পাকিস্তানীরা তখন তছনছ করে দিয়েছে পুরো দেশ। জ্বলছে পূর্ব বাংলা, জীবন বাঁচাতে সীমান্তের দিকে ছুটছে মানুষ। খবর পেয়ে কলকাতা মেডিকেলের ডক্টর সত্যেন বসুর নেতৃত্বে ৮ সদস্যের চিকিৎসকদল যাত্রা করে যশোরের দিকে। সেখানকার নাভারন হাসপাতালে তখন শত শত ধর্ষিতা নারী। বীভৎস নির্যাতনের শিকার হওয়া মানুষের সেবায় আসা দলের সবচেয়ে তরুণ ডাক্তার ছিলেন শিবাজী বসু।

ফরিদপুরের আলদী গ্রামে জন্ম নেয়া শিবাজী বললেন, সেবার মধ্য দিয়ে জেহাদ ঘোষণা করেছিলেন পাকিস্তানী নির্যাতনের বিরুদ্ধে।

প্রতিরাতে গোলার আওয়াজ যতো বাড়তো শঙ্কাও ততো প্রকট হতো, কারণ ভোর হলেই দেখতে হবে মৃত্যুর ঢল। যুদ্ধাহত মানুষের চিকিৎসা যখন চলছে তখন একদিন খুব ভোরে গোয়েন্দারা সব চিকিৎসকদের হসপিটাল ছাড়তে বলেন। প্রাণ নিয়ে কিছু দুর যাবার পর দেখলেন দাউ দাউ করে জ্বলছে সেই হাসপাতাল।

সেই সময় বিভিন্ন ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করা প্রায় ৩০০ ডাক্তারের তালিকা করা কঠিন নয়, তারপরও কোনো দেশ সেটা করেনি বলে খানিকটা আক্ষেপ তার।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজবুর রহমানের প্রতি শত সহস্র সালাম তার। তবে, রাজাকাররা এখনো রয়ে গেছে বলে সর্তক থাকতে বললেন বাংলাদেশকে।

আরও দেখুন ভিডিও রিপোর্টে: