যে মানুষগুলো বিশ্বে বড় একটি প্রভাব রেখেছে এবং বিশ্বকে আরো সুন্দর করে তুলেছে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ উপায়ে তাদের কিভাবে অমর করে তোলা যায়? দুজন ফটোগ্রাফার, রিচ আলেলা ও কুরেং ডাপেল সেই প্রক্রিয়াটাই দেখান তাদের তোলা ছবির সিরিজে। যেটার নাম ‘আফ্রিকান কুইন্স’।

ছবি সিরিজে তারা কেনিয়ার আদর্শ হয়ে উঠা নারী মেনিয়াসি ওয়া মেনজার জীবনকে পুনরায় তৈরি করেন যিনি দেশবাসীর কাছে মেকাটিলিলি ওয়া মেনজা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

১৯৯০ এর শুরুর দিকে নিপীড়িত ঔপনিবেশিক নীতিকে চ্যালেঞ্জ করেন মেকাটিলিলি। একদম ভয়হীন ছিলেন তিনি। ১৯১৩ সালের দিকে এক প্রবল বিতর্কের সময়ে এক ব্রিটিশ উপনিবেশিক অধিকারিককে থাপ্পড়ও দিয়ে বসেন। এসব তথ্য জানিয়েছে কেনিয়ার স্থানীয় সংবাদপত্র দি স্টার।

নিজের প্রজেক্টের ব্যাপারে আল্লেলা বলেন, এটা নারীত্বের শক্তিকে প্রতিফলিত করে এবং আফ্রিকান নারীদের প্রতিদিন দেখা অসমতা ও বৈষম্যের ঊর্ধ্বে ওঠার জন্য অনুপ্রাণিত করে।

মেনিয়াসি ওয়া মেনজা বা মেকাটিলিলি ছিলেন খুবই দৃঢ় একজন নারী। কেনিয়ায় উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তার প্রতিবাদ এবং অহংকারের জন্য সবার কাছে পরিচিত ছিলেন তিনি। এই ফটোগ্রাফি প্রজেক্টে গিরিয়ামা অঞ্চলে তার জীবনকে তুলে ধরা হয়। এখানেই ১৮৪০ থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত বাস করেছিলেন তিনি।

তার সম্পর্কে সেখানকার স্থানীয় পত্রিকায় লেখা হয়েছে, ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় আচরণের জন্য তার শক্ত অবস্থান ছিলো। রক্ষা করতে চেয়েছিলেন দেশীয় প্রথা ও ঐতিহ্য।

ছবিতে উঠে এসেছে মেকাটিলিলির যুদ্ধের জন্য তৈরি হওয়ার চিত্রও। সেই সময়ে নারীরা মাথা তুলে দাঁড়াতেও পারতো না কিন্তু মেকাটিলিলি উপনিবেশিক পীড়নের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন তীব্রভাবে।

জানা যায়, নাচের জন্যও খুবই সুপরিচিত ছিলেন মেকাটিলিলি। স্থানীয় কিফুডু নাচ যেটা মূলত কারো মৃত্যু হলে করা হয় সেটা করতে নানান জায়গায় যেতেন তিনি। এই নাচও তাকে বেশ কিছু সমর্থন এনে দিয়েছে। এখনও কিছু কেনিয়ান মনে করে নাচ দিয়েই ব্রিটিশদের হারিয়েছিলো এই নারী। 

১৯১৩ সালের অক্টোবরে মেকাটিলিলিকে তার সম্প্রদায় থেকে নির্বাসিত করা হয় তার ভয়হীনতা ও ব্রিটিশ উপনিবেশের অধিকারিকের উপর আক্রমণের কারণে।

পাঁচ বছর পরে তিনি ফিরে আসেন কিন্তু চুপ করে থাকেন না। কোনো নীতির অধীনে থাকতে তিনি মোটেও রাজি নন। ফলে তিনি আবার কথা বলা শুরু করেন।

মেকাটিলিলিই প্রথম নারী ছিলেন যিনি ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। আর সেজন্য সে ব্রিটিশদের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘ডাইনী’ নামে।