হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা এবং নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে অবশেষে শেষ হলো ফোর-জি চালু করতে বাড়তি তরঙ্গ বরাদ্দের নিলাম। এই নিলামে ১৫.৬ মেগাহার্জ স্পেকট্রাম বিক্রি হয়েছে। এর মাধ্যমে ফোর-জি দুনিয়ায় বাংলাদেশের প্রবেশ অনেকদূর এগিয়েছে বলে আমরা মনে করি। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আগেই তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছিল। থ্রি-জি চালুর পর এবার ফোর-জি দুনিয়ায় প্রবেশের এই নিলামের মাধ্যমে তা অনেকটা বাস্তবায়ন হয়েছে। তবে চলার এই পথ কখনোই মসৃণ ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ফোর-জি সংক্রান্ত নানা জটিলতায়ও তিনি বিভিন্ন বিষয় সমাধান করে এই নিলাম আয়োজন সহজ করে দিয়েছেন। আমরা আশা করি, এই নিলামের বরাদ্দকৃত তরঙ্গের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে মোবাইল অপারেটররা ফোর-জি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে সহযোগিতা করবে। তবে এক্ষেত্রে কিছু অজানা শঙ্কা থেকেই যায়। যেমন, থ্রি-জি নেটওয়ার্ক এখনও দেশের অনেক জায়গায় পৌঁছায়নি। এমনকি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়ও বেশিরভাগ সময় থ্রি-জি নেটওয়ার্কের বদলে পুরনো ইডিজিই নেটওয়ার্ক থাকে বলে প্রায়ই অভিযোগ পাওয়া যায়। নিলামের সময়  স্বয়ং টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার মোবাইল অপারেটরদের মানসম্মত সেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নতুন নীতিমালায় ফোর-জির ন্যূনতম গতি নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে ২০ এমবিপিএস, যেখানে মহাসড়কে চলাচলকালে ও ট্রেনে ভ্রমণের সময় শুধু ইন্টারনেটের গতি সর্বনিম্ন হতে পারবে। নীতিমালা অনুযায়ী ইন্টারনেটের গতি গ্রাহক ঠিকমতো পাবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। এ বিষয়টি নিশ্চিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সকলকে উদ্যোগী হতে হবে। এছাড়া ইন্টারনেটের বাড়তি দামের বিষয়টি কিছুদিন আগে নতুন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারও স্বীকার করেছেন। ইন্টারনেটের দাম কমিয়ে তা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার বিষয়টি নিজের অন্যতম প্রধান কাজ বলে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন। ইন্টারনেটের ন্যায্য দামের বিষয়ে আমরা মন্ত্রীর ঘোষণায় আস্থা রাখতে চাই। সকল শঙ্কা কাটিয়ে ফোর-জি দুনিয়ায় বাংলাদেশ নিজের শক্ত অবস্থান জানান দেবে বলে আমাদের বিশ্বাস। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।