শিল্পী, ভাস্কর, মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী হার্ট অ্যাটাক করে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি রয়েছেন। বুধবার দুপুর ২টার দিকে হার্ট অ্যাটাক করেছিলেন তিনি। এছাড়া হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল দু’বার। এ কারণে এই ভাস্করের অবস্থা এখন গুরুতর বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা। আর এই বিষয়টি জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জ.ই মামুন।

ভাস্কর ও মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি ফেসবুকে বলেন-
‘‘শিল্পী, ভাস্কর, মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী আমার মাতৃতুল্য। তিনিও আমাকে সন্তানসম স্নেহ করেন, ভালোবাসেন। আজ দুপুরে ল্যাব এইড হাসপাতালে গিয়েছিলাম বরেণ্য হৃদরোগ বিষেশজ্ঞ অধ্যাপক বরেন চক্রবর্তীর কাছে। হাসপাতালের গেটের সামনে দেখি প্রিয়ভাষিণী খালাম্মাকে গাড়ি থেকে ধরে নামাচ্ছে আমাদের আরেক বন্ধু শাহনেওয়াজ কাকলী। আমি কাছে গিয়ে তাঁকে ধরে হুইল চেয়ারে বসতে সাহায্য করলাম। তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন, আদর করলেন। বললেন, বাথরুমে পড়ে গিয়ে মারাত্মক ব্যথা পেয়েছেন। হয়ত ভেঙ্গে গেছে পা! অনুযোগ করে বললেন, তোমার খালু বাথরুমে সাবান ফেলে রেখেছিলো!

কিছুক্ষণ পর- আমি তখন বরেন দা’র রুমে। আমিই ওনাকে বললাম প্রিয়ভাষিণীর অসুস্থতার কথা। একটু পরেই তার কাছে একটা ফোন এলো, তার কোনো সহকর্মী জানালেন, প্রিয়ভাষিণীর হার্ট ফেইল করছে। অল্প সময়ের ব্যাবধানে দু’বার।

জ.ই মামুনের সঙ্গে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী…

ফেরার পথে তিতাসের সাথে দেখা, শিল্পীর ছেলে, আরেক শিল্পী। বললো, কাল রাত দশটা পর্যন্ত সে মায়ের বাসায়ই ছিলো। তখনও তিনি দিব্যি সুস্থ, হঠাৎ এই অসুস্থতা!

সবশেষ খবর, তাঁকে হাসপাতালের সিসিইউ তে রাখা হয়েছে। হার্ট এখনো ঠিক মতো কাজ করছে না। বরেন দা বললেন, ওনাকে লাইফ সাপোর্টে নিতে হতে পারে, তিনি বিপদমুক্ত নন। তাঁর বাথরুমে পরে যাওয়ার ব্যাপারটিও আসলে সাবানের কারণে নয়, হার্ট ফেইলিওরের কারণেই।

শ্রদ্ধেয় প্রিয়ভাষিণী, আপনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার আপনার শিল্পের জগতে ফিরে আসুন। আপনার পিঙ্ক সিটির বাড়ির গাছপালা আর শেকড় বাকরের কাছে আসুন, আমাদের কাছে আসুন। আমরা আপনাকে ভালোবাসি।’’