বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পরিত্যক্ত ২শ’ বছরের পুরনো ভবনে বেগম খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে। সম্পূর্ণ একা নির্জন একটি কারাগারে রেখে এ সরকার মানবাধিকার লংঘন করেছে। তাদের বিচার হবে।

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত মঙ্গলবারের অবস্থান কর্মসূচিতে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সামনে লাঠি হাতে পুলিশের ব্যারিকেড, পেছনে বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী স্লোগান; এভাবেই রাজধানীর নয়াপল্টনে মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে শুরু হয় বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি। শেষ হয় বেলা ১২টায়। অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয় বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী।

সেসময় ফখরুল বলেন, ‘সরকার আজ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। গণবিচ্ছিন্ন এ সরকারের নৈতিক অধিকার নেই সরকারে থাকার। শিগগিরই খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করে আনা হবে ইনশাল্লাহ।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে আমাদের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাই তার বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র চলছে। আমাদের এ লড়াই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনার লড়াই। জনতার উত্তাল তরঙ্গের মধ্যদিয়ে আগামীতে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনবো।’বিএনপি-খালেদা জিয়া-মির্জা ফখরুল

কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খানসহ কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে হঠাৎ করে আমাদের সমাবেশ করতে বাধা দেয়া হলো। খালেদা জিয়াকে তিনদিন যাবত কেন সাধারণ কয়েদির মতো রাখা হয়েছে আমরা তার জবাব চাই। রাজনৈতিক স্বার্থে তাকে অন্যায়ভাবে কারাগারে রাখা হয়েছে। তাকে কারাগারে রেখে কোন নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। কারাগারে নেয়ায় খালেদা জিয়া জাতীয় নেতা থেকে আন্তর্জাতিক নেতায় পরিণত করা হয়েছে। বিএনপির মধ্যে ভাঙন নিয়ে যারা কথা বলে তাদের বলতে চাই, খালেদা জিয়া কারাগারে নেয়ার পর বিএনপি আরও শক্তি নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।’বিএনপি-খালেদা জিয়া-মির্জা ফখরুল

নজরুল ইসলাম খান বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে নয়, গণতন্ত্রকে কারাগারে নেয়া হয়েছে। সরকার খালেদাকে জেলে নিয়ে খুব আরামে আছে। মনে করছে এভাবে নির্বাচন করবে। সে আশা ভুলে যান। খালেদা জিয়াকে ছাড়া কোন নির্বাচন হবে না দেশে।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট, প্রেসক্লাব এবং সেখান থেকে নয়াপল্টন। এটির জন্য আমরা নই, সরকার দায়ী।

তিনি বলেন, ‘অনেকে বলছে বিএনপিতে নাকি ভাঙন ধরেছে। সে কথা ভুলে যান। বিএনপিতে ভাঙন ধরাতে পারে দেশে এমন কোন শক্তি নেই। এ বিএনপিকে কেউ ভাঙতে পারবে না। বেগম খালেদা জিয়াকে দেশনেত্রী বানিয়েছিলাম আমরা। সরকার আজ তাকে নেলসন ম্যান্ডেলা বানিয়ে দিয়েছে। তার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ। দেশের মানুষ খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনবে ইনশাল্লাহ।’

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনবে তারা ইনশাল্লাহ। সংবিধান এবং আইনের বরখেলাপ করে সরকার খালেদা জিয়াকে একটি পরিত্যক্ত জেলে রেখেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করি। আমরা আইনি লড়াই করবো। কিন্তু তাকে মুক্তির জন্য আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই।’