গ্রামের শিশুরা ট্যাব-কম্পিউটার চালাবে, টাইপ করতে জানবে তারা, শিক্ষকের দেয়া বাড়ির কাজ বা হোমওয়ার্ক তারা পাঠিয়ে দেবে অনলাইনে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে প্রযুক্তির এমন ব্যবহার বাস্তবায়ন করতে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে বাংলাদেশ সামনের সারিতে রাখতে চান জয়। এজন্য প্রাথমিক পর্যায় থেকেই প্রযুক্তি প্রজন্ম গড়ায় জোর দিচ্ছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড আসরের দ্বিতীয় দিনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি উপদেষ্টা।

আসরের দ্বিতীয় দিনে ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলুশন বা চতুর্থ শিল্প বিপ্লব নিয়ে আলোচনার শুরুতেই এই নববিপ্লব নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন জয়। বলেন, ‘মানব ইতিহাসে তিনটি বিপ্লব আমরা পাড় করেছি। এখন চতুর্থ বিপ্লবের সময়। আমার কাছে এই বিপ্লব নলেজের বিপ্লব, জ্ঞানের বিপ্লব। বাংলাদেশ সবেমাত্র এই বিপ্লবের পথে হাঁটতে শুরু করেছে।’

প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় চলমান চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে বাংলাদেশকে নেতৃত্বের আসনে বসাতে সরকার প্রযুক্তি প্রজন্ম গড়ছে। এজন্য প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে শিশুদের প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রযুক্তিবিদ মুস্তাফা জব্বারের এক প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, ‘শিক্ষার প্রাধমিক স্তরে তথ্য-প্রযুক্তি অন্তর্ভূক্ত করা হবে। তবে এটা মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক স্তরের আইসিটি শিক্ষার মতো হবে না। প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করানো হবে। তাদেরকে ট্যাব, ল্যাপটপ, কম্পিউটার চালনা, টাইপ করা শেখানো হবে। তারা যেনো শিক্ষকের দেয়া হোমওয়ার্ক অনলাইনে পাঠাতে পারে সেরকম সুবিধার কথা ভাবা হচ্ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই প্রাথমিকে প্রযুক্তি শিক্ষা বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার।’

তবে এক্ষেত্রে সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশে শিক্ষক সংকট আছে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে। অনেক শিক্ষক গ্রামে যেতে চান না। তাই গ্রামের শিশুদের প্রযুক্তি শেখাতে প্রয়োজনে শিক্ষকদের বাড়তি প্রণোদনা দিয়ে গ্রামের স্কুলগুলোতে পাঠানোর পদক্ষেপ নেয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে।’

সেশনে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ডিজিটাল বাংলাদেশের বিভিন্ন অগ্রগতির তথ্যচিত্র তুলে ধরেন। আলোচনায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কঙ্গোর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা ডায়োডোনি কালোম্বো কোলি বাডিবাং, কম্বোডিয়ার ডাক ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী কান চানমেটা, ভুটানের তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রী দিনা নাথ ডঙ্গায়েল, মালদ্বীপের সশস্ত্র ও জাতীয় নিরাপত্তা উপমন্ত্রী থরিক আলী লুথুফি, ফিলিপাইনের আইসিটি অধিদপ্তরের পরিচালক নেস্টর এস বোঙ্গাটা প্রমুখ।