পদ্মা সেতু প্রকল্পে দূর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ সৃষ্টির নেপথ্যে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রত্যাখান করেছে ইউনূস সেন্টার। এছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক ড. ইউনূসের উপর ৬৯ লাখ টাকা জরিমানার সংবাদকেও ভিত্তিহীন দাবি করেছে তারা।

ইউনূস সেন্টারের এক নোটে এ দাবি জানানো হয়।

প্রকাশিত ওই নোটে জানানো হয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তাঁর পুত্র প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা, কয়েকজন মন্ত্রী ও বেশ কয়েকজন সাংসদসহ দেশের শীর্ষ আইন প্রণেতারা ফেসবুকে পোষ্ট দিয়ে, সংসদের ফ্লোরে দাঁড়িয়ে, সংবাদ সম্মেলন করে এবং বিভিন্ন নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দূর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ সৃষ্টির নেপথ্যে থাকার জন্য নোবেল লরিয়েট প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে কঠোরভাবে অভিযুক্ত করে কটু ভাষায় বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে আসছেন। প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস পদ্মা সেতু প্রকল্পে দূর্নীতির সম্ভাবনা বিষয়ে প্রকাশ্যে বা ব্যক্তিগতভাবে কখনো কারো কাছে কোন বিবৃতি দেননি। আমরা প্রফেসর ইউনূসের বিরুদ্ধে এই ভিত্তিহীন অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

ড. ইউনূস ষড়যন্ত্রে জড়িত নয় বরং ‘পদ্মা সেতু প্রকল্পের একজন সমর্থক’ দাবি করে নোটে আরও জানানো হয়, প্রফেসর ইউনূস ২০১১ সাল থেকে বহুবার বলে এসেছেন তিনি দেশের কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন পদ্মা সেতু প্রকল্পের একজন সমর্থক। এই স্বপ্নের বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর কোন প্রশ্নই আসেনা।

কর ফাঁকি সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে বলা হয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রফেসর ইউনূসের উপর ৬৯ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করেছে, এই তথ্যটিও সত্য নয়। তার কাছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কোন অনাদায়ী অর্থের দাবি নেই। তিনি তাঁর সকল কর পুরোপুরি ও সময়মতো পরিশোধ করেন। তবে সম্প্রতি এনবিআরের কর দাবি সংক্রান্ত আইনগত বিষয়ে আদালতের স্মরণাপন্ন হয়েছেন তিনি। বিষয়টি এখনো আদালতে বিচারাধীন, এ বিষয়ে আদালতের যে-কোন সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নেবেন।

গ্রামীণ ট্রাস্ট কর্তৃক বিদেশে অর্থ প্রেরণ বিষয়ের ব্যাখ্যায় ইউনূস সেন্টার পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রামীণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করা হয় অন্যান্য দেশে ক্ষুদ্রঋণ পদ্ধতি রেপ্লিকেশনে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে। গ্রামীণ ট্রাস্ট ১৯৯৬-৯৭ ও ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ইউএসএআইডি ও নেদারল্যান্ডস সহ কয়েকটি সাহায্য সংস্থা থেকে ডোনার ফান্ড বাবদ প্রাপ্ত ৪৭ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা সমপরিমাণ অর্থ ৩৮টি দেশে বিভিন্ন ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পে সহায়তা বাবদ পাঠিয়েছে। ডোনাররা গ্রামীণ ট্রাস্টকে এই অর্থ শুধুমাত্র ঐ সকল দেশে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি গড়ে তোলার উদ্দেশ্যেই পাঠিয়েছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট অন্য সকল কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে ঐ দেশগুলোর ঐ সকল প্রকল্পে অর্থ প্রেরণের সকল আইনগত অনুমোদন এক্ষেত্রে গ্রহণ করা হয়েছে।

নোটে আরও জানানো হয়, তাদের লেনদেন সংক্রান্ত সকল দলিল গ্রামীণ ট্রাস্টে সংরক্ষিত আছে এবং বহিঃনিরীক্ষগণ বাৎসরিক ভিত্তিতে এগুলো নিরীক্ষণও করেছেন। গ্রামীণ ট্রাস্টের বাৎসরিক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এসব তথ্য সব সময় দেয়া হয়েছে এবং এসব প্রতিবেদন গ্রামীণ ট্রাস্টের ট্যাক্স রিটার্নসের সাথে নিয়মিতভাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে জমা দেয়া হয়েছে।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র থাকার ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাননি বলে জানান কানাডার আদালত। এই অভিযোগ তুলেই ঋণ বাতিল করেছিল বিশ্বব্যাংক। এরপরই বিশ্বব্যাংকের ঋণ বাতিলে বিষয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ষড়যন্ত্র করেছেন উল্লেখ করে তদন্ত ও বিচারের দাবি উঠছে নানা মহল থেকে।