নাগরিক নিরাপত্তা, জরুরি সাহায্য ও অপরাধ দমনে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তার জন্য একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করেছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এর কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শেষ বর্ষের  শিক্ষার্থী মো: সাদ্দাম হোসেন ।

মেহেরপুরের ছেলে সাদ্দাম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সরকারিভাবে অ্যাপটি বাস্তবায়ন ও কার্যকর করার কথা জানিয়েছেন। এছাড়াও সিআইডি হেড কোয়ার্টারের সাইবার ক্রাইম ইনফরমেশন সেন্টার থেকে অ্যাপটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ইতিবাচক অনুমতি দিয়েছে। সরকারের চূড়ান্ত অনুমতি সাপেক্ষে অ্যাপটি মার্কেটপ্লেসে আনা হবে।

অ্যাপসটি যেভাবে কাজ করবে:

“ সেলফ প্রটেক্ট ” অ্যাপটি প্রথমে স্মার্টফোনে ইনস্টল করতে হবে। এর দুটি অংশ। একটা হচ্ছে ক্লায়েন্ট বা ইউজার অ্যাপস, যা ব্যবহারকারীর স্মার্টফোনে থাকবে। আরেকটি হচ্ছে ওয়েব অ্যাপ বা নোটিফিকেশন রিসিভার অ্যাপ, যেটি পুলিশের কাছে বা পুলিশ স্টেশনে থাকবে।

এরপর অ্যাপটি অ্যানাবেল (সক্রিয়) করতে হবে। নির্দিষ্ট সেটিংস বাটনে জেনারেল ও অ্যাভান্সড সেটিংস এ ব্যবহারকারী নোটিফিকেশনে কি কি পাঠাতে চাই  যেমন লোকেশন, আইএমআই, অডিও,ভিডিও,ছবি,ফোন নাম্বার, সোস্যাল মিডিয়াতে নোটিফিকেশন পোস্ট ইত্যাদি)  সেগুলো  বক্সে টিক চিহ্ন দিয়ে অন করতে হবে ও অ্যাপসটি সক্রিয় রাখতে হবে।

সেবা পাওয়ার জন্য অ্যাপসটিকে সব সময় সক্রিয় রাখতে হবে, যাতে করে যে কোনো বিপদের সময় নির্দিষ্ট পাওয়ার বাটনটি পরপর ৩-৪ বার চাপার সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনে ও অ্যাপ এ সরবরাহকৃত  পরিবার ও বন্ধুদের নাম্বারে  প্রয়োজনীয় তথ্যসহ বার্তা (নোটিফিকেশন) পৌঁছে যাবে।

নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনে পৌছার জন্য  নোটিফিকেশনটি সেন্ট্রাল সার্ভার এ পৌঁছাবে তারপর অ্যাপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিকটিমের নিকটস্থ থানার ওয়েব অ্যাপে পৌঁছাবে।

বিপদে পড়লে বা অপরাধীদের আক্রমণের শিকার হলে আক্রান্ত ব্যক্তি তার কাছে মোবাইল ফোনে থাকা সেলফ প্রোটেক্ট অ্যাপের নির্দিষ্ট পাওয়ার বাটনটি চাপলে অ্যাপটি প্রথমে ব্যক্তির সবচেয়ে কাছের পুলিশ স্টেশনটির ওয়েব অ্যাপ খুঁজে বের করবে সেন্ট্রাল সার্ভার। তারপর জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ স্টেশনের সার্ভারে জানাবে।

ব্যবহারকারী যে এলাকায় আক্রান্ত হয়েছেন, সেখানকার আশেপাশের শব্দ ও ছবি ধারণ করে পুলিশ স্টেশনে পাঠাবে অ্যাপটি, যাতে আক্রান্ত ব্যক্তির সাহায্যার্থে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারে। পুলিশ স্টেশনের অ্যাপের সঙ্গে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছেও একই বার্তা মোবাইলে পৌঁছে যাবে টেক্সট মেসেজ আকারে। সার্ভারে পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট থানায় দায়িত্বরত নির্দিষ্ট সংখ্যক অফিসারের মোবাইল নম্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির নোটিফিকেশনটি টেক্সট মেসেজ আকারে পৌঁছে যাবে।

সেলফ প্রটেক্ট অ্যাপ ইনস্টল করা থাকলে ফোনটি থেকে সিম পরিবর্তন করলে নতুন সিম নম্বর, আইএম আই,লোকেশেন পরিবার-বন্ধুদের নম্বরে নোটিফিকেশন আসবে। যাতে করে হারিয়ে যাওয়া ফোনটি কোন সিম ব্যবহার হচ্ছে সনাক্ত করা ও খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

অ্যাপটি ব্যবহার করার জন্য ব্যবহারকারীর কোনো ইন্টারনেট কানেকশন বা ডাটা অন থাকার প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট কানেকশন অফ থাকলেও জিপিএস চালু থাকার কারণে সার্ভিস প্রোভাইডার বা মোবাইল অপারেটরের সাহায্যে বার্তাটি পুলিশ স্টেশনে পৌঁছাবে। তবে সার্ভার অ্যাপ্লিকেশন বা পুলিশের কাছে থাকা অ্যাপে ইন্টারনেট কানেকশন থাকতে হবে, যেন ব্যবহারকারী বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রয়োজনীয় তথ্যসমৃদ্ধ বার্তাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই অপরাধ সংঘটিত হওয়ার স্থানটি গুগল ম্যাপে দেখে শনাক্ত করা যায়।

আক্রান্ত ব্যক্তি একবার নির্দিষ্ট পাওয়ার  বাটন প্রেস করার মাধ্যমে যেভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য পুলিশের কাছে পৌঁছে যাবে, তেমনি ছিনতাইকারীরা ওই ব্যক্তির হ্যান্ডসেট থেকে সিম পরিবর্তন করলেও নির্দিষ্ট সময় পরপর ছিনতাইকারীর অবস্থানের তথ্য নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনের সার্ভারে আসতে থাকবে। স্মার্টফোন ছাড়া সাধারণ ফিচার ফোনগুলোর জন্য সেটআপ টেক্সট অপশন থাকবে, যাতে করে টেক্সটটি নির্দিষ্ট এসএমএস সার্ভার নম্বরের মাধ্যমে পুলিশের সার্ভারে পৌঁছে যাবে।

কিন্তু এ ক্ষেত্রে স্মার্টফোনের তুলনায় ফিচার ফোন ব্যবহারকারীরা একটু দেরিতে সেবা পাবেন। অ্যাপটি ডেভেলপ করা হয়েছে অ্যানড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের জন্য। এর পাশাপাশি উইন্ডোজ আর আইওএসের জন্যও অ্যাপটি ডেভেলপ করার কাজ চলছে।

অ্যাপটি সম্পর্কে উদ্ভাবক মো: সাদ্দাম হোসেন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: বর্তমানে অ্যাপটির আরো উন্নত সংস্করণ তৈরিতে কাজ করছেন তিনি। অ্যাপটি জননিরাপত্তামূলক ও অপরাধ দমন-সংক্রান্ত হওয়ায় গুগল প্লে স্টোর বা অন্যান্য মার্কেট প্লেসে দিতে গেলে পুলিশ সদর দপ্তর বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতির প্রয়োজন হয়।

“কারণ, অ্যাপটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা প্রথমে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাবে এবং সঙ্গে পরিবার ও বন্ধুদের জানাবে এবং আইন-প্রয়োগকারী সংস্থা  বিপদগ্রস্থ ব্যক্তিটির সহায়তায় এগিয়ে আসবে। এ জন্য তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ১০০০  ইনোভেশন,  ২০২১  প্রকল্পে  এই উদ্ভাবনে অনুদানের জন্য ও পুলিশ সদর দপ্তরে  আবেদন করেছি অ্যাপকে  কার্যকরী করার জন্য।”