আবার এসেছে নবান্ন। বাঙালির ঐতিহ্য আর শিকড় সন্ধানের অভিপ্রায়ে কৃষকের ধানকাটা ও ফসল ঘরে তোলার এই উৎসব প্রতি বছর পালন করে আসছে জাতীয় নবান্নোৎসব উদযাপন পর্ষদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুল তলায় উদযাপিত হচ্ছে ১৯তম জাতীয় নবান্ন উৎসব-১৪২৪। বাংলার কৃষিজীবী সমাজের শস্য উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ের আচার-অনুষ্ঠানের হাজার বছরের ঐতিহ্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে। উৎসবের সরাসরি সম্প্রচার হয়েছে চ্যানেল আইয়ের পর্দায়।

প্রায় হারিয়ে যেতে বসা বাঙালির ঐতিহ্যকে শহুরে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার প্রয়াসে ‘এসো মিলি সবে নবান্নের উৎসবে’ শ্লোগানে উৎসব শুরু হয় সকাল সাতটা এক মিনিটে। গাজী আবদুল হাকিমের বাঁশির সুরে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নবান্ন কথন ছাড়াও ছিল দলীয় নৃত্য, আবৃত্তি, সম্মেলক গান, রবীন্দ্র সঙ্গীত, লালন গীতি, আদিবাসী গান এবং নজরুল সঙ্গীত। ছিল শোভা যাত্রা এবং ঢাক-ঢোলের বাদন। অতিথিদের জন্য ছিল নতুন ধানের খই, মুড়ি-মুড়কি ও পিঠা-পুলির আয়োজন। এছাড়াও সকাল দশটা থেকে দুপুর তিনটা পর্যন্ত চলবে ‘নবান্ন’ শীর্ষক আর্ট ক্যাম্প। গ্রামীণ উৎসবগুলো গণ মানুষের হয়ে উঠুক এমন চাওয়া উৎসবের উদ্বোধক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ সংস্কৃতিজনদের।

বিকেল ৩টায় শুরু হবে উৎসবের দ্বিতীয় পর্ব।। চারুকলা ছাড়াও এইসময়ে একযোগে এ উৎসব চলবে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর মুক্ত মঞ্চে। নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন থাকবে দুই স্থানেই।

১৯৯৮ সাল থেকে ঢাকা শহরে আনুষ্ঠানিকভাবে নবান্ন উৎসব উদযাপন শুরু হয়। জাতীয় নবান্নোৎসব উদযাপন পর্ষদ প্রতিবছর পহেলা অগ্রহায়ণ নবান্ন উৎসব উদযাপন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ও ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরের মুক্ত মঞ্চে এবারো পালিত হবে জাতীয় নবান্ন উৎসব ১৪২৪।