শপথ শেষে দায়িত্ব নেওয়ার পরে বৃহস্পতিবারই প্রথম অফিস করেছেন কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন।  সহকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরিচিতি, সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্যেই কেটেছে তাদের প্রথম দিন।

প্রথম দিনেই এই কমিশনের ‘প্রথম পরীক্ষা’ বাঘাইছড়ি পৌরসভা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে রাঙামাটির উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন কমিশনার শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী। ঢাকা ছাড়ার আগে  তাদের কমিশনের অধীনে ওই নির্বাচনে কোনো ধরণের অনিয়মের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্সের’ কথা সাংবাদিকদের জানিয়ে যান তিনি। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া আটটার দিকে কমিশন কার্যালয় থেকে সহকর্মীদের নিয়ে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা। সেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কমিশনে ফিরে আসেন কমিশনারগণ। এরপরে তারা বেলা সাড়ে বারোটার দিকে কমিশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী পরিচিতমূলক বৈঠক করেন।

এরপরে যার যার দপ্তরে বসলে কমিশনের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারিরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান তাদের।

প্রথম দিনে কমিশনার শাহাদাৎ চৌধুরী ছাড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোন কথা বলেননি কোনো কমিশনার।

কোন দপ্তরে/কক্ষে কে

গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিদায় নিয়েছেন কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের কমিশন। তাদের দপ্তরেই স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন বর্তমান কমিশনের একই সংখ্যক সদস্য।

আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের ৫ম তলায় সিইসি ছাড়া বাকী চার কমিশনারের কার্যালয় অবস্থিত।

ভবনের পূর্বদিকে অবস্থিত সাবেক কমিশনার মোহাম্মাদ আবদুল মোবারকের কক্ষে কমিশনার মাহবুব তালুকদার, পশ্চিম দিকে সাবেক কমিশনার মোঃ আবু হাফিজের কক্ষে কমিশনার রফিকুল ইসলাম ও সাবেক কমিশনার মোঃ শাহনেওয়াজের জায়গায় বসছেন নতুন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী। এছাড়া বর্তমান কমিশনের একমাত্র নারী সদস্য কবিতা খানম বসছেন উত্তর দিকের কক্ষে যেখানে বসতেন সাবেক কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) মোঃ জাভেদ আলী।

চতুর্থ তলায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় নির্ধারিত জায়গায় অফিস শুরু করেছেন নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা।

এর আগে বুধবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে সদ্য নিয়োগ পাওয়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা সহ পাঁচ নির্বাচন কমিশনারকে শপথ পড়িয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তারা আগামী পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করবেন।