ঊরুর চোটে সাউথ আফ্রিকা সফর থেকে আগেভাগেই দেশে ফিরেছিলেন তামিম ইকবাল। বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের প্রথম তিন ম্যাচে বাইরে ছিলেন টাইগার ওপেনার। পুরো ফিট হয়ে মঙ্গলবার মাঠে নামলেও দেখা গেল না চিরচেনা তামিমকে! ১০ বল খেলে ফিরলেন ৪ রানে। ছন্দ না পেয়ে একরকম বিরক্ত হয়েই যেন আকাশে তুলে দিলেন বল। তামিম রান না পেলেও অবশ্য অনায়াস জয়ই পেয়েছে দল।

চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে ৬ উইকেটের জয়ে ৪৫ রানের অবদান রাখা আরেক ওপেনার ইমরুল কায়েস ম্যাচসেরার পুরস্কার নিয়ে এলেন সংবাদ সম্মেলনে। সেসময় জাতীয় দলের দীর্ঘদিনের ওপেনিং সঙ্গী সম্পর্কেও বললেন, ‘তামিম টিমে থাকা মানে কুমিল্লার জন্য ইতিবাচক দিক। ও রান করে নাই, তবুও মাঠে থাকলে সবাই ওর ওপর ভরসা রাখে। আজ রান করে নাই, সামনে আরও ম্যাচ আছে।’

হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগায় খুড়িয়ে খুড়িয়ে ব্যাটিং করছিলেন ইমরুল। চোটের কী অবস্থা? ইমরুল খানিকটা মনমরা হয়েই জানালেন, ‘বুধবার স্ক্যান করাব। তার আগে বলতে পারছি না। আগামী তিন দিন বিরতি আছে। যদি বিশ্রাম নিতে পারি পরের ম্যাচের আগে আশা করি ঠিক হয়ে যাবে।’

গত বছর কুমিল্লার শুরু হয়েছিল খুবই বাজেভাবে। টানা পাঁচ হারের পর জয়ের মুখ দেখেছিল দলটি। এবারের শুরুটাও হার দিয়ে। তবে টানা তিন ম্যাচ জিতে এখন পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ভিক্টোরিয়ান্সরা।

দলের বদলে যাওয়ার রহস্যও জানালেন ইমরুল, ‘গতবার অনেকগুলো সমস্যা ছিল। সমন্বয়ের সমস্যা ছিল। কাকে খেলাবে, কাকে খেলাবে না, সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হচ্ছিল। ঠিক জায়গায় ঠিক খেলোয়াড় খেলাতে পারিনি। এবছর সে সমস্যাটা নাই। আমাদের বোলিং লাইনআপ শক্তিশালী, ব্যাটিংও ভাল করছে। এবছর ভাবনাটা ভিন্ন। এ কারণে হয়ত ফলটা ভাল হচ্ছে।’

দল জিতেছে, ব্যাটে রান এসেছে, ম্যাচসেরার খেতাবও মিলেছে, চনমনে ইমরুলের সংবাদ সম্মেলনের শেষটাও হল তাই খোশমেজাজেই। মজাও করলেন। হেড কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহের পদত্যাগের প্রসঙ্গ উঠতেই লম্বা হাসিতে এড়িয়ে যেতে চাইলেন তিনি। কিন্তু গণমাধ্যমকর্মীরা নাছোড়বান্দা! শেষে মজা করেই বললেন, ‘আমি তো কোচকে একটা জিনিস (থাই প্যাড) আনার অর্ডার দিয়েছিলাম। আমি এ কারণে হতাশ, আমার জিনিসটা আসবে কি না। উনি যদি না আসেন আমার জিনিসটা মিস হয়ে যাবে!’