যশোরের চৌগাছার জগন্নাথপুর। ১৯৭১ সালের ২০ নভেম্বরে এ গ্রামে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকিস্তানী হানাদারদের তুমুল যুদ্ধ বাধে। মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাঁড়াশি আক্রমণে সেই যুদ্ধে দুটি পাকিস্তানী বিমানকে ভূপাতিত হয়, পরাস্ত হয় পাকিস্তানী বাহিনী।

জগন্নাথপুর ও গরীবপুর মাঠ সংলগ্ন চাড়ালের বাঁশবাগানে ও তেঁতুলতলা এলাকায় ২০ নভেম্বর বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত যুদ্ধ চলে। পরদিন ঈদ থাকলেও সেদিনও যুদ্ধের আতঙ্কে গ্রাম ছেড়ে যায় সবাই। পাকিস্তানী বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে আক্রমণ করে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা।

তুমুল সংঘর্ষে পাকিস্তানী সেনাদের ৮টি ট্যাংক ধ্বংস হয়। কোনঠাসা হয়ে পড়ে পাকিস্তানী সেনারা। দ্বিতীয় দফায় শুরু হয় আকাশযুদ্ধ। তবে সে যুদ্ধেও পাকিস্তানী বাহিনীকে পরাস্ত করে মিত্রবাহিনী। এ গ্রামেই দুটি বিমানকে ভূপাতিত করে দু’জন পাকিস্তানী পাইলটকে আটকে রাখে মুক্তিযোদ্ধারা।

কামান নিয়েও যুদ্ধ করে দুপক্ষ। রক্তক্ষয়ী সেই যুদ্ধে ৯৬ জন পাকিস্তানী সেনা নিহত হয়। মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাঁড়াশী আক্রমণ ও রণকৌশলে পাকিস্তানী সেনারা দিশেহারা হয়ে বিধ্বস্ত ৭ টি ট্যাংক, বাক্সো ভরা অস্ত্র ফেলে রেখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। মুক্ত হয় জগন্নাথপুর।

সেই যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাসহ ৫৭ জন সাধারণ জনগণ শহীদ হন। জগন্নাথপুরের ঐতিহাসিক আম্রকানন রণাঙ্গন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। স্বাধীনতার পর জগন্নাথপুরের নামকরণ হয় মুক্তিনগর।

আরও দেখুন ভিডিও রিপোর্টে: