রাখাইনের রোহিঙ্গা অধিবাসী মোহাম্মদ কাসিম (৪০ বছর) চোখের সামনে নিজের মেয়েকে গণধর্ষণের শিকার হতে দেখেছেন। বাধা দিতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। তাকে বেদম পিটিয়ে জোর করে দূরে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তার স্ত্রী বা পরিবারের অন্য সদস্যদের খবরও তিনি জানেন না।

বুধবার ভারতের এনডিটিভির সাংবাদিকের কাছে এই লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেন বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আসা কাসিম।

রাখাইনে কাসিমের বাড়ি ও গাড়ি ছিল। এখন তার কিছুই নেই। তিনি এখন নিঃস্ব। এরপর কি খাবেন, কোথায় থাকবেন, এসব নিয়ে তার কোন ধারণা নেই।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বর্ণনা থেকে জানা যাচ্ছে, এদের চোখের সামনেই তাদের বাবা, মা, স্ত্রী, ভাইবোন ও প্রতিবেশীদের হত্যা করা হয়েছে। গুলি করে, জবাই করে, ঘরে আগুন দিয়ে প্রিয়জনকে নিহত হতে দেখেছে তারা। সেই প্রিয়জনের লাশ ফেলেই চলে আসতে হয়েছে অনেককে।

স্বজনের মৃত লাশের ছবি চোখের সামনে ভেসে উঠতেই নিজেদের সংবরণ করতে পারছেন না অনেকেই। হাউমাউ করে কেঁদে উঠছেন তারা। এদের এসব জবানবন্দিতে রোহিঙ্গা গণহত্যার সত্যতা ফুটে উঠছে।

এরকমই একজন ৪০ বছর বয়সী বেগম সঞ্চিতা, যার বড় সন্তানের বয়স দশ বছরের মতো হবে। হিজাবের ফাঁক দিয়ে তার ভেজা চোখের অস্তিত্ব খুব সহজেই বোঝা যায়। দীর্ঘক্ষণ ধরে কাঁদতে থাকলে চোখের পানি মুখের উপরে যেমন রেখা তৈরি করে, তার মুখেও ঠিক তেমনটি হয়েছে।

চারদিন আগে তার স্বামীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ দৃশ্য ও ঘটনা নিজের চোখের সামনেই দেখেন তিনি। পরে রাখাইন থেকে পালিয়ে কক্সবাজারে চলে আসেন।

কক্সবাজারের টেকনাফের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নির্যাতন ও নিপীড়নের এমন লোমহর্ষক সব বর্ণনা দিচ্ছেন জীবন বাজি রেখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। এদের অধিকাংশই পরিবারের অন্তত প্রিয়জনকে হারিয়েছেন। অনেকের পরিবারের কেউই বেঁচে নেই। পরিবার বিচ্ছিন্ন শিশুর সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।