২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত্তি দাঁড় করিয়ে ২০১৪ সালে আবার ক্ষমতায় এসে  ডিজিটাল বাংলাদেশের চারটি স্তম্ভকে সুদৃঢ় করেছে সরকার। মানবসম্পদ উন্নয়ন, সবার জন্য সুলভ মূল্যে নিরাপদ ইন্টারনেট, তথ্য-প্রযুক্তি শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে প্রযুক্তি রপ্তানি, সরকারি সেবাকে অনলাইনে আনার মতো সুদৃঢ় ভিত্তি গড়তে নেয়া পদক্ষেপ-অর্জনগুলো তুলে ধরেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

সরকারের চার বছরপূর্তিতে ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এগিয়ে যাওয়ার আরও চার বছর’ নামের বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

এখানে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সরকারের বর্তমান মেয়াদে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিখাতে আইসিটি বিভাগের অর্জন এবং আগামীর পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী বলেন: দেশের ৫০ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। ২০২১ সালের মধ্যে সরকার শতভাগ মানুষকে ইন্টারনেটের আওতায় নিয়ে আসতে চায়। এজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে ব্রডব্যান্ডের মাধ্যমে হাইস্পিড ইন্টারনেট সংযোগ ৫০ শতাংশে নিতে চাই। বর্তমানে সরকারি সেবার ৫০ শতাংশ ই-গর্ভনেন্সের আওতায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টার পরামর্শে ২০২১ সাল নাগাদ ৯০ শতাংশে নিয়ে যেতে চাই।

প্রযুক্তিদক্ষ মানব সম্পদ উন্নয়নে নেয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে পলক জানান, আগামী তিন বছরে ২০ লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। এজন্য লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইতোমধ্যে এই প্রকল্প থেকে ১৩ হাজার তরুণ-তরুণী প্রশিক্ষণ নিয়েছে। যাদের মধ্যে ১০ হাজার তরুণ-তরুণী অনলাইন মার্কেটপ্লেসে আউটসোর্সিং করে ৬ লাখ ডলারেরও বেশি আয় করেছে। এ বছর সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে ৪০ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এদের মধ্য থেকে ৪ হাজার নারীকে ফ্রিল্যান্সার ও এন্টারপ্রেনার হিসেবে উপযুক্ত করে গড়ে তোলা হবে। যারা জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে থেকে কাজ করবে।

প্রাথমিকে প্রযুক্তি শিক্ষা আসছে
তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ শিক্ষার ডিজিটালাইজেশনে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেছে। এবারের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা প্রাথমিক পর্যায়ে আইসিটি শিক্ষা নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শিশু-কিশোরদের প্রোগ্রামিং শেখানোর জন্য এ বছর প্রাইমারি স্কুল পর্যায়ে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

সরকারের স্কুল ভিত্তিক ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ার একটি সুপরিচিত নাম শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব। দেশে আরও ৫ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপনের কাজ চলছে। এছাড়াও আগামীতে স্মার্ট সিটি, জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কাউন্সিল, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব এবং শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব ফিউচার টেকনোলজি প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

শুক্রবার কর্মদিবস না হলেও কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে কর্মব্যস্ততা শুরু হয়। কারণ সরকারের ৪ বছর পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে সকাল-সকাল নব নিযুক্ত মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী আসেন টাওয়ারের তৃতীয় তলার বিসিসি মিলনায়তনে।

এই সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী।