বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাকে বিস্ময়কর ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। শুক্রবার সকালে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ২১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

মওদুদ বলেন, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে, এটা একটা বিস্ময়কর ঘটনা। আমার ৫০ বছরের অভিজ্ঞতায় কোনো দিনও শুনিনি যে সাপ্তাহিক জামিন নিতে হয়।

তিনি বলেন, সাপ্তাহিক জামিন হলো বিরোধী দলের নেত্রীর জন্য আরও বেশি নির্যাতন, বেশি অপমানজনক। এটা সম্ভব হয়েছে আমাদের দেশের নিম্ন আদালত সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে। সেই কারণে তারা আজকে এই ধরনের আদেশ দিয়েছেন।

মওদুদ আহমেদ বলেন, কাল অর্ধদিবস পর্যন্ত হরতালের কারণে বেগম জিয়া আদালতে যেতে পারেননি। আদালতে বলা হয়েছে তিনি আসবেন ২ টার পরে। কিন্তু তা সত্ত্বেও আদালত তার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেন। এই ধরণের আচরণ আমরা বিচার বিভাগ থেকে প্রত্যাশা করিনি।

‘প্রকৃত সত্য হলো যেহেতু বিচারকদের স্বাধীনতা নেই, ফলে তারা নিজেদের ইচ্ছামত আদেশ দিতে পারছেন না। ফলে তারা এই ধরনের আদেশ দিতে বাধ্য হচ্ছেন’- অভিযোগ মওদুদের।

তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা দেয়ার কোনো প্রয়োজন ছিলোনা দাবি করে প্রবীন এই আইনজীবী বলেন, এটা খুব খারাপ একটা দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে আদালত। তিনি ( খালেদা জিয়া) বিদেশে ছিলেন। বিদেশ থেকে ফেরার পর যখনই আদালত ডেকেছেন তখনই গেছেন, যতো রকম সম্মান দেখানোর দরকার তা তিনি দেখিয়েছেন। তারপরও তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা! এটা বিস্ময়কর।

ঢাকা সিটি উত্তরের মেয়র আনিসুল হক অত্যন্ত ভালো, কর্মঠ, সজীব, সজ্জন মানুষ ছিলেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, দল হিসেবে মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা তিনি কতগুলো মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে। তার এই অকাল মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত। তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি এবং তিনি যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন একজন সিটি কর্পোরেশন নেতা হিসাবে আশা করি পরবর্তীকালে যারা কর্পোরেশনের দায়িত্বে আসবেন তারা তাকে অনুসরণ করবেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সভাপতি শামা ওবায়েদ প্রমুখ।