রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সব ধরণের নির্যাতনের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বলেছে, তারা কোনো রোহিঙ্গাকে ধর্ষণ বা হত্যা করেনি, তাদের গ্রাম পোড়ায়নি বা রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে লুটপাট চালায়নি।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে চালানো অভ্যন্তরীণ তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করে এই দাবি করা হয়।

অথচ সেনাবাহিনীর এই দাবি বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের নিজ চোখে দেখা পরিস্থিতির সম্পূর্ণ বিপরীত। সেনাবাহিনীর হামলা ও সহিংসতার মাত্রার ভয়াবহতার কারণে এই ঘটনাকে জাতিসংঘ ‘পাঠ্যবইয়ে যোগ করার মতো জাতিগত নিধনের উদাহরণ’ বলে অভিহিত করেছে।

বর্মী সেনাবাহিনীর এই তদন্ত প্রতিবেদনকে ‘দোষ ঢাকার চেষ্টা’ বলে মন্তব্য করেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিবেদনটি যাচাইয়ের জন্য সংকটাপন্ন অঞ্চলটিতে জাতিসংঘের অনুসন্ধানকারীদের ঢুকতে দেয়ার দাবি জানিয়েছে অ্যামনেস্টি।

রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে গণমাধ্যমের প্রবেশ একেবারেই নিষিদ্ধ করে রেখেছে মিয়ানমার সরকার। কিন্তু সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বিবিসি’র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া প্রতিনিধি জোনাথন হেডসহ কয়েকজন প্রতিনিধিকে কঠোর প্রহরায় রোহিঙ্গাদের কয়েকটি গ্রাম দেখাতে নিয়ে যায় দেশটির সেনা সদস্যরা।রোহিঙ্গা-মিয়ানমার-মিয়ানমারের সেনাবাহিনীসেখানেই সেনাবাহিনীর অসতর্কতায় হুট করে সাংবাদিক দলটি দেখে ফেলে সরকার সমর্থক কয়েকজন ব্যক্তিকে সশস্ত্র পুলিশের সামনেই রোহিঙ্গাদের একটি গ্রামে আগুন লাগাতে ও লুটপাট করতে। জোনাথন হেডের জিজ্ঞাসায় তাদের একজন স্বীকারও করে সে স্থানীয় বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর।

২৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া সেনাবাহিনীর নির্যাতন-সহিংসতা থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। তাদের কারও গায়ে রয়েছে বুলেটের গর্ত, কারও গায়ে অন্য ক্ষত।

তাদের অভিযোগ, বর্মী সেনাবাহিনী সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর স্থানীয় উগ্রপন্থি দলগুলোর সহায়তা নিয়ে রাখাইনের নিরীহ জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা চালাচ্ছে, বাড়িঘর পুড়িয়ে দিচ্ছে, হত্যা করছে। সদ্যজাত শিশুদেরকেও রেহাই দিচ্ছে না।

অথচ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এক দীর্ঘ বিবৃতিতে সেনাবাহিনী বলেছে, তারা রাখাইন রাজ্যের হাজারো গ্রামবাসীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তারা সবাই বলেছে, মিয়ানমারের নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী:

  • নিরীহ গ্রামবাসীর দিকে গুলি ছোঁড়েনি
  • নারীদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি এবং ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটায়নি
  • গ্রামবাসীদের গ্রেপ্তার, মারধর বা হত্যা করেনি
  • গ্রামবাসীদের সোনা-রূপা, যানবাহন বা গবাদিপশু চুরি করেনি
  • মসজিদে আগুন দেয়নি
  • গ্রামবাসীদের হুমকি-ধমকি দেয়নি এবং তাদের গ্রামছাড়া করেনি
  • ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়নি

রোহিঙ্গা-মিয়ানমার-মিয়ানমারের সেনাবাহিনীরোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ সম্বোধন করে ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের মধ্য থেকেই তৈরি হওয়া ‘সন্ত্রাসীরা’ বাড়িঘর পোড়ানোর জন্য দায়ী। আরও দাবি করা হয়, লাখ লাখ মানুষ ঘর ছেড়ে বাংলাদেশে চলে যাচ্ছে কারণ তাদেরকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। রোহিঙ্গারা সন্ত্রাসীদের ভয় পায়।