কক্সবাজারের রামু এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ধর্ম অবমননার অভিযোগে সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘরে আগুন দেওয়া হয় রংপুরের ঠাকুরপাড়ায়। ধারাবাহিকভাবে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তির পেছনে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে মনে করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

মঙ্গলবার রাজধানীর রমনায় পুলিশ কনভেনশান হলে মুক্তিযুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রামু, নাসিরনগর এবং রংপুরের ঠাকুরপাড়াসহ বিভিন্ন জায়গায় ধারাবাহিকভাবে একই ঘটনা ঘটেছে। এটা আমরা বিশেষভাবে লক্ষ্য করছি, এর পেছনে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ২৫ মার্চ রাতে আধুনিক অস্ত্রসজ্জে সজ্জিত একটি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে থ্রি নট থ্রি রাইফেল দিয়ে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলে আমাদের পুলিশ বাহিনী। এই প্রতিরোধের ইমপ্যাক্ট সারা দেশে পড়েছিল। আমাদের মনে হয়েছে আমরা একা নই, আমাদের সঙ্গে পুলিশ আছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এর পুরস্কার স্বরূপ ২০১১ সালে পুলিশ বাহিনীকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেন বলেন, মাস্টাররোল এবং মুজিবনগর সরকারের দলিলপত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার কর্মস্থল ত্যাগ করে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন ১১০০ জনেরও বেশি পুলিশ সদস্য। অনেকে চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন।

ওই অনুষ্ঠানে ৩৪ জন প্রতিরোধযোদ্ধাকে সম্মাননা দেয়া হয়। এর আগে আরো ৪৪ জন প্রথম প্রতিরোধযোদ্ধাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব অপরূপ চৌধুরী, র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।