ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সফরের বিরুদ্ধে যুুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে নেতানিয়াহু সাক্ষাত করার পর রাজধানী ওয়াশিংটনে ডিসি ও বোস্টনে এ বিক্ষোভ হয়।

বুধবার বিকেলে শত শত মানুষ হোয়াইট হাউজ ও ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল হোটেলের কাছে বিক্ষোভ করেন। এর মধ্যে বহু অর্থডক্স ইহুদিও ছিলেন। এ সময় তারা অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ ইহুদি বসতি নির্মাণের বিরোধিতা করেন।

এছাড়া, তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাস বা জেরুজালেম শহরে সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে বক্তব্য দিয়ে আসছেন তারও প্রতিবাদ করেন বিক্ষোভকারীরা। বহু বিক্ষোভকারী নেতানিয়াহুকে দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য স্লোগান দেন।

ডেভিড ফ্রায়েডম্যানকে ইসরাইলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে পরিকল্পনা নিয়েছেন তার প্রতিবাদ করেন বিক্ষোভকারীরা। তারা বলেন, ফ্রায়েডম্যান হচ্ছেন একজন পক্ষপাতপূর্ণ ব্যক্তি; তাকে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেয়া আমেরিকার স্বার্থের জন্য কল্যাণকর হবে না।

অন্যদিকে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ধারণা বর্জন করলে তার পরিণতি বিপজ্জনক হতে পারে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সঙ্কট সমাধানে দুই-রাষ্ট্র নীতির অর্থাৎ স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের কোনো বিকল্প নেই।

ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক বৈঠকের পর বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংঘাতের সমাধান চান, কিন্তু সেটা দুই রাষ্ট্র নীতির ভিত্তিতেই হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। তিনি বলেছেন শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ‘যে কোনো ফর্মূলাকে’ তিনি সমর্থন করবেন।

তার এই বক্তব্যের পর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সমর্থনে তাদের দীর্ঘদিনের নীতি বর্জন করছে। এমন সম্ভাবনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিন।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানান, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের বিষয়টি যেভাবেই হোক ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে তারা যেন কাজ করে। তিনি বলেন এই সঙ্কট সমাধানের ‘অন্য কোনো বিকল্প নেই।’

আর ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, সংঘাত দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানে তিনি অনড় থাকবেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্যের সূত্র ধরে নেতানিয়াহুকে বসতি নির্মাণ আপাতত বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।